শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ জুন, ২০২১ ২৩:২৩

৫৫ দিনে সর্বাধিক মৃত্যু

রেকর্ড প্রাণহানি খুলনায়, ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত ৫৭২৭, মৃত্যু ৮৫

নিজস্ব প্রতিবেদক

৫৫ দিনে সর্বাধিক মৃত্যু
Google News

করোনাভাইরাসের তান্ডবে যেন মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে খুলনা বিভাগ। সর্বোচ্চ শনাক্ত হারের পাশাপাশি আবারও বিভাগটি এক দিনে সর্বাধিক মৃত্যুর রেকর্ড গড়েছে গত ২৪ ঘণ্টায়। এই সময়ে সারা দেশেই বেড়েছে করোনার দাপট। এক দিনে দেশে রোগী শনাক্ত হয়েছে ৫ হাজার ৭২৭ জন, যা ৭১ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ। শনাক্তের হার ছিল ২০.২৭ শতাংশ, যা ৬৭ দিনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়া মৃত্যু হয়েছে ৮৫ জনের। গত ৫৫ দিনের মধ্যে এটাই এক দিনে সর্বাধিক মৃত্যুর রেকর্ড। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ২৮ হাজার ২৫৬টি নমুনা পরীক্ষায় ৫ হাজার ৭২৭ জনের দেহে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এক দিনে এর চেয়ে বেশি রোগী শনাক্তের তথ্য জানানো হয়েছিল গত ১৩ এপ্রিল। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে মোট মৃত্যু হয়েছে ৮৫ জনের। এর চেয়ে বেশি ৮৮ জনের মৃত্যুর খবর এসেছিল গত ২৯ এপ্রিল। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত ৮৫ জনের মধ্যে ৩৬ জনই (৪২ শতাংশ) ছিলেন খুলনা বিভাগের বাসিন্দা। এটাই এখন পর্যন্ত খুলনায় এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে ১৯ জন। এ ছাড়া রাজশাহী বিভাগে ১৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে সাতজন, বরিশাল বিভাগে একজন, রংপুর বিভাগে একজন ও ময়মনসিংহ বিভাগে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গত এক দিনে মোট মৃত্যুর ৮৬ ভাগই হয়েছে খুলনা, ঢাকা ও রাজশাহী বিভাগে। এর মধ্যে ৭৪ জন হাসপাতালে ও ১০ জন বাড়িতে মারা গেছেন। হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে একজনকে। গতকাল পর্যন্ত দেশে মোট করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ৮ লাখ ৬৬ হাজার ৮৭৭ জন। সুস্থ হয়েছেন ৭ লাখ ৯১ হাজার ৫৫৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায়  মারা গেছেন ৮৫ জন, সুস্থ হয়েছেন ৩ হাজার ১৬৮ জন।

এদিকে নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় বেশ কিছুদিন ধরেই সর্বোচ্চ রোগী শনাক্ত হচ্ছে খুলনা বিভাগে। গত ২৪ ঘণ্টায়ও খুলনা বিভাগে শনাক্তের হার ছিল ৩৯.৭৩ শতাংশ, যা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ ছাড়া রংপুর বিভাগে ৩৫.৯৫ শতাংশ, বরিশাল বিভাগে ২২.৪৩ শতাংশ, সিলেট বিভাগে ২২.২৬ শতাংশ, চট্টগ্রাম বিভাগে ২০.৫৯ শতাংশ, রাজশাহী বিভাগে ১৮.০৮ শতাংশ, ঢাকা বিভাগে ১৭.৪৬ শতাংশ ও ময়মনসিংহ বিভাগে ১৪.৬১ শতাংশ নমুনায় সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। আগের দিনের তুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার বেড়েছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রংপুর ও সিলেট বিভাগে। কমেছে বাকি চার বিভাগে।

পরিস্থিতি আরও নাজুক হলে সারা দেশে লকডাউন : দেশে করোনা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সীমান্তবর্তী বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি ঢাকার পার্শ্ববর্তী সাত জেলায় লকডাউন ঘোষণা করেছে সরকার। বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে ঢাকাকে। আপাতত সারা দেশে লকডাউন দেওয়ার চিন্তা না থাকলেও পরিস্থিতি আরও নাজুক হলে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত করোনা বুলেটিনে অধিদফতরের মুখপাত্র ও লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন বলেন, ঢাকায় এখন পর্যন্ত সংক্রমণ হার এতটা বাড়েনি। তবে যে কোনো সময় এটি বেড়ে যেতে পারে। আশা করা হচ্ছে, ঢাকার আশপাশের সাতটি জেলায় যদি লকডাউন সফল হয় এবং মানুষের যাত্রাকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় তাহলে রাজধানী বা সারা দেশে লকডাউন প্রয়োজন হবে না। তবে পরিস্থিতি যদি নাজুক হয় এবং প্রতিটি জেলায় সংক্রমণ ২০ শতাংশের ওপরে চলে যায়, তাহলে দেশব্যাপী লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে বর্তমানে দেশের অনেক এলাকায় লকডাউন বা কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর থাকলেও করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু বেড়েই চলেছে। অনেক জেলায় শনাক্তের হার ৬০ শতাংশের ওপরে। বাড়ছে মৃত্যুও। করোনা পরিস্থিতি নিয়ে আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো আরও খবর- রাজশাহী : রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে করোনা ইউনিটে ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে আটজন করোনা পজিটিভ ছিলেন। সাতজন ভর্তি ছিলেন করোনার উপসর্গ নিয়ে। উপসর্গ থাকলেও একজন করোনা নেগেটিভ হয়ে মারা গেছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬০ জন। বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত এ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ৪১০ জন। খুলনা : খুলনা বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ডের পাশাপাশি নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৯০৩ জনের। বিভাগের প্রায় সব জেলায় উচ্চ সংক্রমণ হার বজায় রয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় খুলনা জেলায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ৩০৫ জনের। শনাক্তের হার ৩৯.৫৬ শতাংশ। চুয়াডাঙ্গায় ৭১ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৬৪ জনেরই করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৯০ শতাংশ। এ ছাড়া ঝিনাইদহে ৪০.৭৭ শতাংশ, বাগেরহাটে ৪৪ শতাংশ, মেহেরপুরে ৪২.১৭ শতাংশ, যশোরে ৩৫.২৮ শতাংশ, নড়াইলে ৩৪.৫৫ শতাংশ, সাতক্ষীরায় ৩৪.৬৮ শতাংশ ছিল শনাক্তের হার। বরিশাল : বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেলের করোনা ওয়ার্ডে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা উপসর্গ নিয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। অপরদিকে মেডিকেল কলেজের আরটি পিসিআর ল্যাবে গত তিন দিন ধরে নমুনা পরীক্ষায় ৩০ ভাগের ওপরে শনাক্ত হচ্ছে। অথচ, মাসের শুরুতেও এই বিভাগে গড় শনাক্তের হার ছিল ৬ শতাংশের আশপাশে। এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় মেডিকেল কলেজের আরটি পিসিআর ল্যাবে ১৭৯ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৬৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৩৮ ভাগ। সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে একজন ও করোনার উপসর্গ সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া ২৮১ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৭৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ২৭.৪০ শতাংশ।

এই বিভাগের আরও খবর