শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৯ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৮ জুলাই, ২০২১ ২৩:১৮

জমে উঠেছে বেচাকেনা

ক্যাটল ট্রেনে ঢাকায় এসেছে ৮০০ গরু

শফিকুল ইসলাম সোহাগ

ক্যাটল ট্রেনে ঢাকায় এসেছে ৮০০ গরু
ট্রেন থেকে নামানো হচ্ছে গরু
Google News

‘ক্যাটল স্পেশাল ট্রেনে’ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ৮০০ গরু ঢাকায় পৌঁছে দিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ঢাকায় কোরবানির পশু সরবরাহের জন্য গত বছরের মতো এবারও ঈদের আগের তিন দিন ‘ক্যাটল স্পেশাল’ ট্রেনের ব্যবস্থা করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ১৭, ১৮ ও ১৯ জুলাই কোরবানির পশু পরিবহনের জন্য এই বিশেষ ট্রেন পরিচালনা করা হয়েছে। গরুপ্রতি ভাড়া নিচ্ছে ৫০০ টাকা। রেলপথ মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ক্যাটল স্পেশাল ট্রেনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং রাজশাহী থেকে ৯টি ওয়াগনে ৯৭টি গরু সকালে  কমলাপুর স্টেশনে পৌঁছায়। তাতে ভাড়া বাবদ রেলওয়ের আয় হয়েছে ৬৮ হাজার ৩৮০ টাকা। এ ছাড়া জামালপুরের ইসলামপুর বাজার স্টেশন থেকে ২৫টি ওয়াগনে ৪০০ গরু এবং দেওয়ানগঞ্জ বাজার থেকে ২১টি ওয়াগনে ৩০৬টি গরুসহ মোট ৭০৬টি গরু এবং ২০টি ছাগল নিয়ে দুটি ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন সকালে ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছেছে। এ দুটি স্পেশাল ট্রেনের ভাড়া বাবদ ৩ লাখ ৬৭ হাজার টাকা পেয়েছে রেলওয়ে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ৮০টি গরু নিয়ে এসেছে। একটি ট্রেনে ৪০০টি পর্যন্ত পশু পরিবহন করা যায়। এর আগে ২০০৮ সালে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ ঘাট থেকে সাতটি কোরবানির পশুবাহী ট্রেন পরিচালনা করে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কোরবানির জন্য দেশে এবার ১ কোটি ১৯ লাখ পশু প্রস্তুত রয়েছে।

এদিকে সরেজমিন গতকাল দেখা গেছে, রাজধানীর শাহজাহানপুরে মূল সড়কে নির্দেশ অমান্য করে সারি সারি লাইনে ছাগল বিক্রি করা হচ্ছে। এতে সৃষ্টি হচ্ছে যানজটের। কোরবানির পশু হাটে প্রবেশের মূল গেটে দেখা যায়, হাত ধোয়ার জন্য একটি বেসিন বসানো রয়েছে। হাত স্যানিটাইজারের জন্য ¯েপ্র করতে একজন দাঁড়িয়ে আছেন। স্বাস্থ্য সচেতনতা মানার জন্য মাইকে নির্দেশনা ঘোষণা করা হচ্ছে। কিন্তু পশু ক্রেতা-বিক্রেতা কেউই এসব কিছুর তোয়াক্কা করছেন না। হাটে প্রবেশ করে দেখা গেছে, পর্যাপ্ত পশু রয়েছে। বিক্রিও হচ্ছে ভালো। হাটের ভিতরেও কেউ মানছেন না স্বাস্থ্যবিধি।

জমেছে হাট : দুই দিন পরই পবিত্র ঈদুল আজহা। এই ঈদ কেন্দ্র করে জমে উঠেছে রাজধানীর পশুর হাটগুলো। ক্রেতারাও পশু কিনতে ভিড় করছেন হাটগুলোতে। পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ধূপখোলা মাঠে সাইফুল ইসলাম নেত্রকোনা থেকে ‘বাবুরাজ’ নামে লালচে রঙের গরু নিয়ে এসেছেন। তিনি বলেন, বাবুরাজের ওজন ২৫ মণ। দাম হাঁকিয়েছেন ১৫ লাখ টাকা। গরুটির দুটি শিঙে নাম লেখা বাবুরাজ। লোকজন গরুটি দেখতে ভিড় করছেন। দরাদরি চলছে। একই মাঠে আছে ‘রাজাবাবু’ নামে আরও বড় একটি গরু রয়েছে। ঝিনাইদহ থেকে ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন গরুটি এনেছেন। ইসমাইল বলেন, বিশাল এই গরুর ওজন ৩৩ মণ। গরুটির দাম হাঁকা হয়েছে ১৮ লাখ টাকা। ক্রেতারা অবশ্য গরুটির দাম বলছেন ৯ লাখ টাকা।

রাজধানীর প্রতিটি হাটেই পর্যাপ্ত পশু রয়েছে। ক্রেতার আনাগোনা বেড়েছে। কেউ কেউ গরু কিনে বাড়ি ফিরছেন। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদের আগের দিন, অর্থাৎ মঙ্গলবার সবচেয়ে বেশি পশু বিক্রি হবে।

রাজধানীর পুরান ঢাকার ধূপখোলা মাঠ, যাত্রাবাড়ীর শনির আখড়া এবং পুরান ঢাকার ধোলাইখালের গরুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, ছোট ও মাঝারি আকৃতির গরু কেনার প্রতি ক্রেতাদের ঝোঁক বেশি। দুপুর ১২টার দিকে ধোলাইখাল থেকে ছোট আকারের একটি গরু কিনে বাড়ি ফিরছিলেন পুরান ঢাকার আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, পুরান ঢাকায় ব্যবসা আছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের পর থেকে অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছি। তাই ৬০ হাজার টাকা দিয়ে ছোট আকারের একটি গরু কিনেছি।

সরকারের ১২ দফা উপেক্ষিত : করোনায় সংক্রমণ ও মৃত্যু বৃদ্ধির মধ্যে কোরবানির হাট আয়োজন নিয়ে আপত্তি ছিল জনস্বাস্থ্যবিদদের। কিন্তু সরকার দেশের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের কথা বিবেচনায় এ হাটের সুযোগ দিয়েছে। এজন্য ১২ দফা নির্দেশ মানতে কড়াকড়ি নির্দেশ দেওয়া হয় হাট কর্তৃপক্ষ ও ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে। যার বেশির ভাগই স্বাস্থ্যবিধিসংক্রান্ত। তবে গতকাল হাট ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশতেই এসব মানা হচ্ছে না। কর্তৃপক্ষ বারবার মাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানার নির্দেশ দিলেও তা মানছেন না কেউ। ক্রেতা-বিক্রেতা অধিকাংশের মুখে মাস্ক নেই। গাবতলীর হাট পরিচালনা কমিটির সদস্য রাকিব জানান, এবার গাবতলী হাটে ৭০ হাজারের মতো গরু রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে হাট থেকে সব রকমের প্রচারণা করা হচ্ছে।

অলিগলিতে পশুখাদ্যসহ অনুসঙ্গের দোকান : এদিকে পশুখাদ্যসহ অন্যান্য অনুসঙ্গ বিক্রির ধুম লেগেছে। ঈদ কেন্দ্র করে কোরবানির হাটসহ অলিগলিতে বিভিন্ন ধরনের পশুখাদ্যের সম্ভার নিয়ে বসেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।

রাজধানীর খিলগাঁও, বাসাবো, মালিবাগ রেলগেট, রামপুরা, মেরাদিয়া, আফতাবনগরসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়। এসব এলাকার পশুখাদ্যের ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোতে ১০ বছরের শিশু থেকে ৬০ বছরের বৃদ্ধরাও পণ্য বিক্রি করছেন। বিশেষ করে বিভিন্ন পণ্যের হকার, রিকশা-ভ্যান, ঠেলাগাড়ি চালকরা পেশা পরিবর্তন করে এখন পশুখাদ্য বিক্রেতা বনে গেছেন। আবার অনেক কিশোর ও বেকার যুবক এ মৌসুমি ব্যবসায় নেমেছেন।