বৃহস্পতিবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ টা

কমে আসছে সংক্রমণ ও মৃত্যু

২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত ৩ হাজার ৬২, মৃত্যু ৭৯

নিজস্ব প্রতিবেদক

কমে আসছে করোনাভাইরাস সংক্রমণ হার ও মৃত্যু। গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৩০ হাজার ২৯৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৩ হাজার ৬২ জনের দেহে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ১০.১১ শতাংশ, যা গত ৯০ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ৭৯ জন। ৬৭ দিনের মধ্যে এটাই এক দিনে সবচেয়ে কম মৃত্যু। অথচ, করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের তান্ডবে গত মাসে এক দিনেই সর্বোচ্চ ২৬৪ জনের মৃত্যু দেখেছে দেশ। ৫ থেকে ১১ আগস্ট পর্যন্ত সাত দিনেই মোট মৃত্যু হয় ১ হাজার ৭৬০ জনের। গড়ে প্রতি ঘণ্টায় প্রাণ হারান ১০ জনের বেশি।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, গতকাল পর্যন্ত দেশে ১৫ লাখ ৩ হাজার ৬৮০ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে শ্বাসকষ্টের মতো যন্ত্রণায় ভুগে প্রাণ হারিয়েছেন ২৬ হাজার ২৭৪ জন। সুস্থ হয়েছেন ১৪ লাখ ৩১ হাজার ৯৮৪ জন। মহামারীকালে সর্বোচ্চ প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে গত জুলাই ও আগস্টে। অধিদফতরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত আগস্টের মাঝামাঝি থেকে দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ হার ও মৃত্যু কমতে শুরু করেছে। এর আগে ৮ মে দেশে ভাইরাসটির অধিক শক্তিশালী ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট শনাক্তের পর জুনের প্রথম দিকেও সংক্রমণ ও মৃত্যু অনেকটা নিয়ন্ত্রণে ছিল। জুনের শেষ দিকে শুরু হয় ডেল্টার তান্ডব। দৈনিক মৃত্যু শতক ছাড়িয়ে যায়। জুলাইয়ে এসে দৈনিক মৃত্যু ছাড়িয়ে যায় ২০০-এর ঘর। ৫ আগস্ট এক দিনেই সর্বোচ্চ ২৬৪ জনের মৃত্যুর খবর আসে। জুলাই মাসজুড়ে ৩০০ রোগীর জিনোম সিকোয়েন্সিং করে ৯৮ ভাগ রোগীর দেহে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট পায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)। মহামারীকালের সর্বোচ্চ ৬ হাজার ১৮২ জনের মৃত্যু হয় এই জুলাই মাসেই। গড়ে  প্রতি ঘণ্টায় মৃত্যু হয় ৮.৩১ জনের। আগস্টে মৃত্যু আরও বাড়ে। এই মাসেই এক দিনে সর্বোচ্চ ২৬৪ জনের মৃত্যুর খবর আসে দুই দিন। তবে আগস্টের শেষ দিকে মৃত্যু কমতে শুরু করায় পুরো মাসের মোট মৃত্যু দাঁড়ায় ৫ হাজার ৫১০ জনে। গড়ে ঘণ্টায় মারা যান ৭.৪১ জন। অথচ, ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের তান্ডব শুরুর আগে গত জুনে গড়ে প্রতি ঘণ্টায় ২.৬২ জন, মে মাসে ১.৫৭ জন, এপ্রিলে ৩.৩৪ জন, মার্চে শূন্য দশমিক ৮৬ জন, ফেব্রুয়ারিতে শূন্য দশমিক ৪২ জন ও জানুয়ারিতে শূন্য দশমিক ৭৬ জনের মৃত্যু হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত ৭৯ জনের মধ্যে ৪৩ জন ছিলেন পুরুষ ও ৩৬ জন নারী। হাসপাতালে ৭৬ জন ও বাড়িতে তিনজন মারা গেছেন। এর মধ্যে ২৮ জন ঢাকা, ২৩ জন চট্টগ্রাম, আটজন রাজশাহী, চারজন খুলনা, তিনজন বরিশাল, আটজন সিলেট, দুজন রংপুর ও তিনজন ময়মনসিংহ বিভাগে মারা গেছেন। বয়স বিবেচনায় মৃতদের মধ্যে ৪৮ জন ছিলেন ষাটোর্ধ্ব, ১৫ জন পঞ্চাশোর্ধ্ব, আটজন চল্লিশোর্ধ্ব, পাঁচজন ত্রিশোর্ধ্ব ও তিনজনের বয়স ছিল ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে।