শিরোনাম
রবিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২২ ০০:০০ টা

শেষ হয় না মাদক মামলার বিচার

মামলায় দীর্ঘসূত্রতার ১০ কারণ - বিচারাধীন মামলা লাখের ওপরে

মুহাম্মদ সেলিম, চট্টগ্রাম

শেষ হয় না মাদক মামলার বিচার

শেষ হচ্ছে না চট্টগ্রাম বিভাগের লাখেরও বেশি মাদক মামলার বিচার কার্যক্রম। বছরের পর বছর ধরে এসব মামলার কার্যক্রম চলছে কচ্ছপগতিতে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, আদালতে সাক্ষীদের অনুপস্থিতি, ভুল সাক্ষী এবং বিচারক সংকটসহ ১০ কারণে গতি আসছে না এসব মামলার বিচার কার্যক্রমে। মামলাগুলো দ্রুত বিচার আদালতে নেওয়ার দাবি করেছেন তারা।

চট্টগ্রাম জেলা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী বলেন, মাদক মামলার দীর্ঘসূত্রতার মূল কারণ হচ্ছে সাক্ষী উপস্থিত না হওয়া। বারবার আদালত সমন জারি করলেও সাক্ষীরা অনুপস্থিত থাকেন। সাক্ষীর অভাবেই অনেক মামলার কার্যক্রম থমকে আছে। এ ছাড়া অনেক সাক্ষী উপস্থিত হলেও তারা বিবাদীর হয়ে কথা বলেন। এটাও মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে বড় বাধা।

বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন (বিএইচআরএফ) মহাসচিব অ্যাডভোকেট জিয়া হাবিব আহসান বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে মামলার বিচার প্রক্রিয়া চলা একটি অমানবিক কাজ। অতীতে এমনও হয়েছে ১৫ বছর একটি মামলার বিচার কাজ চলার পর বিবাদী নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছে। তাই মাদক মামলার বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করা উচিত।

আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার একাধিক কর্মকর্তা বলেন, মাদকের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি না হওয়ায় অনেকে মামলার খরচ জোগাতে মাদককে পেশা হিসেবে নিয়েছে। তাই মাদকের মামলা দ্রুত বিচার আদালতে স্থানান্তর করা উচিত।  

জানা যায়, চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলায় বিচারাধীন মামলা রয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ৫৭০টি। যার মধ্যে পাঁচ বছরের বেশি বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৬০ হাজার ৯০১টি। চার বছরের ঊর্ধ্বে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ১১ হাজার ৯৮টি। তিন বছরের বেশি মামলা রয়েছে ১৪ হাজার ৫৩৮টি। দুই বছর ধরে চলছে ১৯ হাজার ২৯০টি মামলা। এক বছরের বেশি মামলা রয়েছে ১৭ হাজার ২৬৯ এবং এক বছরের কম সময়ের মামলার সংখ্যা ১৯ হাজার ৮৭১টি। আদালতের একাধিক সূত্র জানায়, মাদকের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি না হওয়ার কমপক্ষে ১০টি কারণ রয়েছে। এগুলো হচ্ছে- মামলার তুলনায় আদালতের বিচারকের স্বল্পতা, বিবাদী পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে মামলা দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে রাখার প্রবণতা, মামলার ধার্য তারিখে সাক্ষীদের উপস্থিত না হওয়া, ভুল ব্যক্তিকে মামলায় সাক্ষী করা, মামলার আলামত নষ্ট হওয়া, আসামির সঙ্গে বাদীর সমঝোতা, ত্রুটিপূর্ণ এজাহার, ত্রুটিপূর্ণ অভিযোগপত্র প্রদান এবং সাক্ষীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে সাক্ষ্য প্রদানে বিরত রাখা অন্যতম।

চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন বলেন, মাদকের যেসব মামলা বিচারাধীন সেগুলোতে সাক্ষীদের যথাসময়ে আদালতে হাজির করার প্রচেষ্টা রয়েছে আমাদের। মামলার বিষয়ে আদালতের যে নির্দেশনা থাকে, তা দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা করি আমরা। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মজিবুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, চট্টগ্রাম বিভাগের কোন কোন আদালতে কি পরিমাণ মাদক মামলা বিচারাধীন রয়েছে তা চিহ্নিত করা হচ্ছে। এ ছাড়া মামলাসমূহ দ্রুত নিষ্পত্তি করতে সাক্ষীদের ধার্য তারিখে উপস্থিত করার প্রচেষ্টা চলছে।

সর্বশেষ খবর