শিরোনাম
শুক্রবার, ৩ মার্চ, ২০২৩ ০০:০০ টা

চারজনের মধ্যে একজন কানে কম শোনে

সাইকা নিজাম

চারজনের মধ্যে একজন কানে কম শোনে

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেসের (বিইউএইচএস) পেশাগত ও পরিবেশগত স্বাস্থ্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক ড. সাইকা নিজাম বলেছেন, বাংলাদেশের শহর এলাকার সড়কে কর্মরত প্রতি চারজনের মধ্যে একজন কানে কম শোনেন। এই মানুষগুলোর ৭ ভাগেরই শ্রবণসহায়ক যন্ত্র (হিয়ারিং এইড) জরুরি। গবেষণায় এমনটাই পেয়েছি। এর পেছনে যে শব্দদূষণ বড় ভূমিকা রাখছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। গত বছর দেশের কয়েকটি সিটি করপোরেশন এলাকায় বিইউএইচএস পরিচালিত গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরে তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, স্বাস্থ্য অধিদফতরের অর্থায়নে আমরা গবেষণাটি করেছি। প্রতিদিন রাস্তায় ৬ থেকে ১০ ঘণ্টা কাজ করে এমন ৬৪৭ জনের ওপর গবেষণা চালিয়ে দেখেছি ৪১.৯ শতাংশ রিকশাচালক, ৩০.৭ শতাংশ ট্রাফিক পুলিশ, ২৩.৯ শতাংশ অটোরিকশাচালক, ২৩.৭ শতাংশ দোকানদার, ১৫.৬ শতাংশ বাসশ্রমিক, ১৪.৭ শতাংশ প্রাইভেট কারচালক এবং ১২.৫ শতাংশ মোটরসাইকেলচালক কানে কম শোনেন। রাজপথে যারা কাজ করছেন তাদের ডান কানের চেয়ে বাম কানের সমস্যা বেশি। সবচেয়ে বেশি শ্রবণ সমস্যায় ভুগছেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মানুষ। ঢাকার কাছের এই বিভাগের ৫৫ শতাংশ মানুষ কানে কম শোনেন। সিলেটে প্রায় ৩১ শতাংশ, ঢাকায় ২২ দশমিক ৩ শতাংশ, রাজশাহীতে প্রায় ১৪ শতাংশ রাজপথে কর্মরত মানুষ কানে কম শোনেন। তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন এলাকার সড়কগুলোতে শব্দের মাত্রা পাওয়া গেছে ৮৪ থেকে ৯৯ ডেসিবল, যা অনুমোদিত মাত্রার (৬০ ডেসিবল) চেয়ে অনেক বেশি। শব্দদূষণ ঢাকায় বেশি হলেও কুমিল্লায় শ্রবণ সমস্যায় ভোগা মানুষ বেশি। কুমিল্লা একটা ছোট শহর। অনেক বেশি মানুষ। অনেক বেশি যানজট। যানজটে শব্দ বাড়ে। দীর্ঘ সময় রাস্তায় থাকার কারণে কুমিল্লায় কানে কম শোনা মানুষ বাড়তে পারে।

সর্বশেষ খবর