শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৯ জুন, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৮ জুন, ২০১৯ ২১:১৪

নাইজেরিয়ায় সাফল্য বাংলাদেশি ফাহিমের

“ ‘আমরা আমাদের ড্রাইভারদের জন্য সেরা সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যেই এই নেটওয়ার্কটা গড়ে তুলতে চাই, যাতে করে তারা সহজে আমাদের ছেড়ে অন্য প্ল্যাটফর্মে যাওয়ার কারণ না পান।’

জামশেদ আলম রনি

নাইজেরিয়ায় সাফল্য বাংলাদেশি ফাহিমের

আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ার সর্ববৃহৎ শহর লাগোস। এই মহাদেশের বড় বড় শহরগুলোতে মোটরসাইকেল-ট্যাক্সি ক্যাব অনেকটাই সুলভে পাওয়া যায়। নাইজেরিয়ার লাগোস এমনই এক শহর। চলতি বছরের মে মাসে এখানে ‘গোকাডা’ নামক রাইড-শেয়ারিং অ্যাপটি ৫ দশমিক ৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ‘সিরিজ-এ’ বিনিয়োগ করেছে। রাইড-শেয়ারিং অ্যাপ ‘উবার’ ও ‘পাঠাও’ এর মতোই একটি অ্যাপ গোকাডা। ২০১৮ সালে এটি যাত্রা শুরু করে, যার সহপ্রতিষ্ঠাতা ছিলেন বাংলাদেশি তরুণ ফাহিম সালেহ। বাংলাদেশের জনপ্রিয় রাইড শেয়ারিং অ্যাপ পাঠাও-এরও সহপ্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তিনি। এ বছর তিনি গোকাডার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটি ইতিমধ্যে এক হাজার ব্যবহারকারীকে অ্যাপ চালানোর প্রশিক্ষণ দিয়েছে, পাশাপাশি দশ লাখ রাইড সম্পন্ন করেছে।

ফাহিমের জন্ম ১৯৮৬ সালে। বাবা সালেহ উদ্দিন চট্টগ্রামের আর মায়ের বাড়ি নোয়াখালী। ইনফরমেশন সিস্টেম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেন্টলি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন ফাহিম। নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে থাকেন তিনি। একসময় চাকরি করে পরিবারের খরচ জোগাতে হিমশিম খেতে হয়েছে ফাহিমের বাবাকে। সেইদিন এখন আর নেই। খুব অল্প বয়সে সাফল্য পেয়েছেন ফাহিম। বর্তমানে এই তরুণ উদ্যোক্তা অনেক আইটি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার।

ওহাইওতে থাকাকালীন মাত্র ১৬ বছর বয়সেই ফাহিম সালেহ কিশোর বয়সীদের জন্য টিন হ্যাংআউট ডটকম নামের একটি ওয়েবসাইট তৈরি করেন। তখন সমবয়সী আরেক ডেভেলপারের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। দুজনে মিলে দুই বছরে আরও অনেক ওয়েবসাইট তৈরি করে প্রায় এক মিলিয়ন ডলার আয় করেন। ২০০৭ সালে কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে ফাহিম ঢাকায় হ্যাকহাউজ নামের একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। সেখান থেকেই তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক কাজ চলছিল।

২০০৯ সালে ফাহিমের গ্র্যাজুয়েশন শেষ হয়।

নিউইয়র্কে বসে থেকে চাকরি পাওয়া বেশ কঠিন মনে হলেও অন্য কোথাও যেতে চাইতেন না তিনি। বোস্টনে একটা চাকরির অফার পেলেও দুই সপ্তাহ পরে তাদের জানাবেন বলেন। এই দুই সপ্তাহে প্র্যাঙ্ক ডায়াল ডটকম নামের আরেকটি ওয়েবসাইট তৈরি করে ফেলেন তিনি। কণ্ঠস্বরকে বদলে বন্ধুদের সঙ্গে রসিকতা করা বা মজা করার জন্যই অনেকে এটি ব্যবহার করতেন। অল্পদিনের মধ্যেই সাইটটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এতে ফাহিমকে আর চাকরি করতে যেতে হয়নি।

রাইড শেয়ারিং অ্যাপ পাঠাও-এর সিইও হুসেইন ইলিয়াসের তৈরি করা একটি সাইট ছিল ইজ টুমোরো হরতাল ডটকম। দেশে তখন বিশৃঙ্খলা, লাগাতার হরতাল। হরতালের তথ্য দিতে দিতে সাইটটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। সাইটে হ্যাকহাউজের বিজ্ঞাপন দিতে গিয়ে ইলিয়াসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা হয় ফাহিমের। নতুন কিছু করার কথা ভাবছিলেন তারা। এভাবেই পাঠাও-এর জন্ম। দ্রুত সাফল্য অর্জন করে এই অ্যাপ। পাঠাও-এর সাফল্য দেখেই নাইজেরিয়ায় গোকাডা তৈরির জন্য উদ্যোগী হন ফাহিম সালেহ।

ফাহিম সালেহ বলেন, ‘সামনে অনেক পরিকল্পনা আছে। বাংলাদেশেও কাজ করব। বিনোদন মাধ্যমে কাজ করার ইচ্ছা আছে। তবে আপাতত গোকাডা নিয়ে ভাবছি। এটিকে পুরো নাইজেরিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য কাজ করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের ড্রাইভারদের জন্য সেরা সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যেই এই নেটওয়ার্কটা গড়ে তুলতে চাই, যাতে করে তারা সহজে আমাদের ছেড়ে অন্য প্ল্যাটফর্মে যাওয়ার কারণ না পান।’

ব্যস্ত সড়কে অন্য গাড়িকে পাশ কাটিয়ে সরুপথে যাওয়া যায় বলেই যাত্রীরা মোটরবাইক-যাত্রায় বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে নাইজেরিয়ায় রাইড শেয়ারিং অ্যাপ অনেকদিন নিষিদ্ধ ছিল।

গোকাডা এই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে চালকদের প্রশিক্ষণ ও সার্টিফিকেট দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। তারা চালকদের যাত্রাপথ ভালোভাবে ঠিক করা, অ্যাপের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মোটরসাইকেলের মান রক্ষা করার ব্যাপারে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে; যেটি এতদিন পূর্ব ও পশ্চিম আফ্রিকার মোটর-ট্যাক্সির বাজারে দেখা যায়নি।


আপনার মন্তব্য