১১ নভেম্বর, ২০২১ ১৮:৫৪

১০৫ বছরে কারমাইকেল কলেজ

নজরুল মৃধা, রংপুর

১০৫ বছরে কারমাইকেল কলেজ

১০৫ বছরে কারমাইকেল কলেজ। ফাইল ছবি।

ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কারমাইকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার ১০৫ বছর উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। আগামীকাল শুক্রবার সকালে কলেজ ক্যাম্পাসে এসব অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে কারমাইকেল কলেজ প্রাক্তন ছাত্র সমিতি।

১৯১৬ সালে ১০ নভেম্বর কুন্ডি ও কাকিনার জমিদার এবং তাজহাট মহারাজাসহ এলাকার দানশীল ব্যক্তিদের অনুদানে  ৩০০ একর জমির ওপর এই কলেজের উদ্বোধন করেন ব্রিটিশ শাসিত বাংলার গভর্নর টমাস ডেভিড ব্যারন কারমাইকেল। বাংলার গভর্নর লর্ড থমাস ডেভিড ব্যারন কারমাইকেল কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তার নামানুসারেই কলেজের নামকরণ করা হয় কারমাইকেল কলেজ।

১৯১৭ সালের জুলাই মাসে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এই কলেজে আইএ ও বিএ ক্লাস খোলার অনুমতি দেয়। সেই সময় থেকে প্রায় দুই বছরের জন্য কলেজটির পঠন-পাঠনের কাজ চলে রংপুরের বর্তমান জেলা পরিষদ ভবনে। এরপর ১৯১৮ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি কারমাইকেল কলেজের মূল ভবনের উদ্বোধন করা হয়। জার্মান নাগরিক ড. ওয়াটকিন ছিলেন কলেজের প্রতিষ্ঠাকালীন অধ্যক্ষ। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে উচ্চ মাধ্যমিক, ডিগ্রিসহ ২১টি বিষয়ে সম্মান ও স্নাতকোত্তরে প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন।

মুক্তিযুদ্ধে এই কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে  শহীদ হয়েছেন শিক্ষক। তারা হলেন-উর্দু বিভাগের শহীদ অধ্যাপক শাহ মোহাম্মদ সোলায়মান, রসায়ন বিভাগের শহীদ অধ্যাপক আব্দুর রহমান, দর্শন বিভাগের শহীদ অধ্যাপক সুনীল বরণ চক্রবর্তী, বাংলা বিভাগের শহীদ অধ্যাপক রামকৃষ্ণ অধিকারী, শহীদ অধ্যাপক গনিত বিভাগের চিত্তরঞ্জন রায়, রসায়ন বিভাগের শহীদ অধ্যাপক কালাচাঁদ রায়। এছাড়া অধ্যাপক কালাচাদের স্ত্রী মঞ্জুশ্রী রয়েছেন। একাত্তরে শহীদ শিক্ষার্থীরা হলেন-শহীদ মুক্তিযোদ্ধা খোন্দকার মুখতার ইলাহী চিনু, জনপ্রিয় এই ছাত্রনেতা একাত্তরে কারমাইকেল কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি ছিলেন। শহীদ গোলাম গৌস নওশা, শহীদ শরিফুল আলম মকবুল প্রমুখ।

এখানে লেখাপড়া করেছেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল আন্দোলনের নেত্রী জাহানারা ইমাম। তিনি ১৯৪৪ সালে এখান থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করেছেন। এছাড়া সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচএম এরশাদ, সাবেক সেনাবাহিনী প্রধান মেজর জেনারেল মুস্তফিজার রহমান, দেশবরেণ্য কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার আনিসুল হক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে শহীদ ছাত্রনেতা রাউফুন বসুনীয়া, নজরুল-গবেষক, কবি ও সাংবাদিক আবদুল হাই শিকদার, সাবেক উপমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের প্রথম স্পীকার শাহ আব্দুল হামিদ, প্রখ্যাত ছড়াকার রফিকুল হক দাদুভাই, ইংল্যান্ডের ল্যাংকাশায়াারের হিন্ডবার্ন সিটির সাবেক মেয়র আলতাফুর রহমান ,বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য এম আব্দুর রহিম, চারণ সাংবাদিক মোনাজাতউদ্দিন, বাংলাদেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি ও ৬ষ্ঠ রাষ্ট্রপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম, ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামী ও তেভাগা আন্দোলনের নেতা মণিকৃষ্ণ সেনসহ অনেকেই।

দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকার কথা রয়েছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ। বিশেষ অতিথি থাকার কথা সুপ্রিম কোর্টের (হাইকোর্ট বিভাগ) বিচারপতি এম এনায়েতুর রহিম, বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গা, সংসদ সদস্য আবুল কালাম মো. আহসানুল হক চৌধুরী ডিউক, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, কারমাইকেল কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. আমজাদ হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করার কথা রয়েছে সরকারের অতিরিক্ত সচিব ও সাবেক ছাত্র সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম।

বিডি প্রতিদিন/এমআই

এই রকম আরও টপিক

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর