Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২১:৩৩

মায়ের পর মেয়েকে অপহরণ করে ধর্ষণ, সিলেটে বাবা-ছেলে গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট

মায়ের পর মেয়েকে অপহরণ করে ধর্ষণ, সিলেটে বাবা-ছেলে গ্রেফতার

বিয়ের আশ্বাস দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে খুলনার এক নারীকে ধর্ষণের পর তার কিশোরী মেয়েকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে এক যুববকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারের সময় পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আসামি ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে পুলিশ গুলি ছুড়ে। এতে খোকন মিয়া (২৮) নামের ওই যুবক গুলিবিদ্ধ হন। এ সময় তার বাবা জাহাঙ্গীর আলীকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হামলায় ৩ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। 

রবিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার উমরপুরের কামালপুরে এ ঘটনা ঘটে।

ধর্ষণ ও অপহরণে অভিযুক্ত খোকন মিয়া বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার ধননগর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলীর ছেলে। তার বাবা জাহাঙ্গীর ওসমানীনগরের ওই গ্রামে এক প্রবাসীর বাসায় কেয়ারটেকারের কাজ করতেন।

পুলিশ জানিয়েছে, বিয়ের আশ্বাসে দীর্ঘদিন ধরে খুলনা মেট্রোপলিটন এলাকার দৌলতপুরের এক নারীকে ধর্ষণ করে আসছিলেন খোকন মিয়া। একপর্যায়ে তার কুদৃষ্টি পড়ে ওই নারীর কিশোরী মেয়ের দিকে। গত ১৪ আগস্ট ওই কিশোরীকে (১৩) ফুসলিয়ে বাড়ি থেকে বের করে আনেন খোকন। তাকে নিয়ে আসেন সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার কামালপুরে, যেখানে একটি বাসায় তার বাবা কেয়ারটেকারের কাজ করেন। এ বাসায় ওই কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে খোকন। মেয়ের খোঁজ না পেয়ে খুলনায় জিডি করেন ওই নারী। গত ৪ সেপ্টেম্বর ওই কিশোরী গোপনে তার মাকে ফোন করে আটকে রেখে ধর্ষণের বিষয়টি জানায়। এরপর গত রবিবার কিশোরীর মা ওসমানীনগরে এসে থানায় অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা করেন খোকনের বিরুদ্ধে। পরে রাতে খোকনকে গ্রেফতারে অভিযানে যায় পুলিশ। তাকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় জাহাঙ্গীর আলীর নেতৃত্বে কয়েকজন লোক হামলা চালায়। তারা খোকনকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ গুলি ছুড়ে। এতে খোকনের ডান পায়ে গুলি লাগে। এ সময় পুলিশ জাহাঙ্গীর আলীকেও গ্রেফতার করে।
ওসমানীনগর থানার ওসি এস এম আল মামুন বলেন, ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। গুলিবিদ্ধ খোকনকেও একই হাসপাতালে পুলিশ প্রহরায় ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ অ্যাসল্ট মামলায় খোকনের বাবা জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ওসি জানান, আসামি খোকনকে গ্রেফতারে গিয়ে হামলার শিকার হয়ে চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তন্মধ্যে একজন এসআই, একজন এএসআই ও দুজন কনস্টেবল। তারা রাতেই হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে সোমবার সকালে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান।

বিডি-প্রতিদিন/ সালাহ উদ্দীন


আপনার মন্তব্য