দেড় শ বছরের পুরোনো বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশন ঘোষণা হয়েছে বেশ কিছু দিন। এর পরই শুরু হয়েছে কে হবেন এ নগরের পিতা। বগুড়ার চায়ের টেবিল থেকে শুরু করে সর্বত্রই চলছে জল্পনাকল্পনা।
এদিকে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, চলতি সপ্তাহে বগুড়া সিটি করপোরেশনের গেজেট প্রকাশ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তার এমন বক্তব্যের পর নবসৃষ্ট সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের পদ নিয়ে চলছে জোরালো আলোচনা। ১৩তম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হওয়ার জন্য শুরু হয়েছে বগুড়ার রাজনৈতিক পাড়ায় দৌড়ঝাঁপ।
যার যার অবস্থান থেকে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রবীণ ও নবীন নেতারা সরকার প্রধানের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে নানাভাবে করছেন যোগাযোগ। তবে প্রশাসক হওয়ার দৌড়ে জেলার জ্যেষ্ঠ নেতাদের যেমন নাম শোনা যাচ্ছে। তেমনি তরুণ রাজনীতিবিদদের নামও সরব হয়েছে।
জানা গেছে, পুরোনো রাজনীতিবিদদের মধ্যে আলোচিত হচ্ছেন টানা তিনবারের সাবেক পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট এ কে এম মাহবুবর রহমান, সাবেক এমপি হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলাম, শহর বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক চৌধুরী হিরু, জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. শোকরানা, জেলা বিএনপির সহসভাপতি এম আর ইসলাম স্বাধীন, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আলী আজগর তালুকদার হেনা, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহম্মেদ খান রুবেল, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কে এম খায়রুল বাশার ও জেলা যুবদলের সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, প্রাক-নিকার সভায় অনুমোদনের পর এখন নিকার (প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি) সভায় অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। শিগগিরই গেজেট প্রকাশ হবে। গত ২০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়া সফরকালে দেড় শ বছর বয়সি বগুড়া পৌরসভা চত্বরে নবসৃষ্ট বগুড়া সিটি করপোরেশনের ফলক উন্মোচন করেন।বর্তমানে সিটির বিদ্যমান আয়তন ৭০ বর্গকিলোমিটার, জনসংখ্যা ১০ লাখ, ওয়ার্ড রয়েছে ২১টি। দীর্ঘ ১৭ বছরের উন্নয়ন বঞ্চিত বগুড়ার উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রথমেই সিটি করপোরেশন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী।
তাই সিটির উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত সরকারি দলের কোনো রাজনৈতিক নেতাকে প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বগুড়া শহর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট হামিদুল হক চৌধুরী হিরু জানান, বগুড়ায় সিটি করপোরেশন চালানোর মতো দক্ষ নেতা অনেকে আছেন। তবে দল থেকে যাকে যোগ্য মনে করবে তাকেই দায়িত্ব দেওয়া হবে। যিনি প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পাবেন। তার সঙ্গে থেকে বগুড়া সিটিকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে তোলার কাজ করব।
জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন বগুড়ার মাঠে রাজনীতি করছি। এখনো মাঠে আছি। সুযোগ পেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বপ্ন গ্রিন সিটি বিনির্মাণে কাজ করব।