বিশ্বকাপে ‘জি’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে মিশরের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও ১-১ গোলে ড্র করেছে ইরান। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের শেষ মুহূর্তে অতিরিক্ত সময়ে দেওয়া একটি জয়সূচক গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়। তবে নকআউট ওঠার স্বপ্ন এখনও বাঁচিয়েছে রেখেছে ইরান।
এর জন্য তৃতীয় দলগুলোর সার্বিক র্যাঙ্কিংয়ের তালিকা আসা পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হবে তাদের। অন্যদিকে তিন ম্যাচে পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ রানাসআপ হয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠল মিশর। আগামী ৩ জুলাই ডালাসে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে দলটি।
অন্যদিকে তিন পয়েন্ট নিয়ে ইরান তৃতীয় স্থানে রয়েছে। ইরান অধিনায়ক মেহদি তারেমি সাংবাদিকদের বলেন, আমার খারাপ লাগছে, তবে আমাদের আশা আছে—মানুষের তো সবসময়ই আশা থাকে। এরপর তিনি ইরানি দলের ওপর আরোপিত ভ্রমণ বিধিনিষেধের তীব্র সমালোচনা করেন। এই বিধিনিষেধের কারণে তাদের শিগগিরই মেক্সিকোতে অবস্থিত তাদের ঘাঁটিতে ফিরে যেতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য সপ্তাহের শুরুর দিকে ইরান দলের ভ্রমণ সংক্রান্ত বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করেছিল, যার ফলে তারা মিশরের ম্যাচের দুই দিন আগে ভ্রমণ করার সুযোগ পেয়েছিল। তবে তারেমি বলেন, এই বিশ্বকাপটা একটা বিপর্যয়। এখন আমাদের আবার ভ্রমণ করতে হবে, আবার তিজুয়ানায় যেতে হবে—কোনো বিশ্রাম বা পুনরুদ্ধারের সুযোগ ছাড়াই।এটা মোটেও ন্যায্য নয়।
তিনি আরও বলেন, আমাদের ধর্ম বিষয়টি সমর্থন করে না, তবে আমরা এলজিবিটি সম্প্রদায়ের মানুষদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমরা এখানে ফুটবল খেলতে এসেছি এবং তাদের সবার প্রতিই আমাদের শ্রদ্ধা রয়েছে।
এর আগে পেনাল্টি মিস, দ্রুত দুই গোল, ইনজুরি সময়ে গোল, আবার ভিএআরে সেই গোল বাতিল, সব মিলিয়ে সিয়াটল স্টেডিয়ামে মিশর ও ইরান নাটকীয়তার মোড় নেয়। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে দু দল। মাত্র পঞ্চম মিনিটেই এগিয়ে যায় মিশর। মোহাম্মদ সালাহর নেয়া শট ইরানের গোলরক্ষক আলিরেজা বেইরানভান্দ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি। ফিরতি বলে সুযোগ বুঝে গোল করেন সাবেল।
এরপর নবম মিনিটে মেহদি তারেমিকে বক্সের মধ্যে ফাউল করেন মিশরের ডিফেন্ডার আবদেলমোনহেম। রেফারি সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। কিন্তু স্পট কিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন তারেমি। ডান কোণে নেওয়া তার শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন মিশরের গোলরক্ষক শোবেইর।
পেনাল্টি মিসের হতাশা অবশ্য দ্রুত কাটিয়ে ওঠে ইরান। ১৪তম মিনিটে মোহাম্মাদির শট শোবেইর প্রথমে ফিরিয়ে দিলেও রিবাউন্ডে বল পেয়ে জালে পাঠান রেজায়েইয়ান। তাতেই ১-১ সমতায় ফিরে আসে ইরান। নাটকের চূড়ান্ত অধ্যায় আসে ইনজুরি সময়ে। ৯৩তম মিনিটে মিশরের ডিফেন্স বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে ব্যাক পোস্টে বল পান খালিজাদেহ। কাছ থেকে জালে বল পাঠিয়ে ইরানকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। ইরানি খেলোয়াড় ও সমর্থকদের উল্লাসে তখন স্টেডিয়াম মুখর।শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়ে দু’দল। ম্যাচজুড়ে বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেও জয় পায়নি কেউ।
বিডি প্রতিদিন/আরকে