বঙ্গীয় বদ্বীপে জলবায়ু-সংবেদনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জনপরিসর গঠনে নারীবাদী নৈতিকতার ভূমিকা তুলে ধরবে শিল্প ও স্থাপত্যের এই আন্তঃবিষয়ক প্রদর্শনী
ব্রিটিশ কাউন্সিলের উদ্যোগে আগামী ২৭ জুন শুরু হতে যাচ্ছে ‘সহাবস্থানের স্থাপত্য: বঙ্গীয় বদ্বীপে জনপরিসরের স্থানিক আখ্যান’ শীর্ষক প্রদর্শনী। রাজধানীর ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হবে বিকেল ৫টায়। প্রদর্শনীটি ২৮ জুন থেকে আগামী ২৫ জুলাই পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
ব্রিটিশ কাউন্সিলের উইমেন অব দ্য ওয়ার্ল্ড (ওয়াও) বাংলাদেশ গ্র্যান্টস প্রোগ্রামের সহায়তায় আয়োজিত এ প্রদর্শনীর নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্থপতি সাইকা ইকবাল মেঘনা ও শুভ্র শোভন চৌধুরী। শিল্প ও স্থাপত্যের সমন্বয়ে আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হবে, কীভাবে নারীবাদী নৈতিকতা, জলবায়ু-সংবেদনশীলতা এবং জনসম্পৃক্ততা বঙ্গীয় বদ্বীপে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক নাগরিক পরিসর নির্মাণে ভূমিকা রাখতে পারে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি এবং বাংলাদেশে ব্রিটিশ হাইকমিশনের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার ও ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর জেমস গোল্ডম্যান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী এবং ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর স্টিফেন ফোর্বস।
প্রদর্শনীটির কিউরেটরিয়াল দিকনির্দেশনা দিয়েছেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী এবং খ্যাতিমান শিল্পী ও কলা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ওয়াকিলুর রহমান। তাঁদের দিকনির্দেশনায় স্থাপত্যকে শুধু ভৌত চর্চা হিসেবে নয়, বরং অংশগ্রহণ, অন্তর্ভুক্তি এবং যৌথ দায়িত্ববোধের একটি ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রদর্শনীতে স্থানীয় উপকরণ, কারুশিল্পের ঐতিহ্য এবং পরিবেশ-সংবেদনশীলতাকে গুরুত্ব দেওয়া বিভিন্ন স্থাপনাশিল্প প্রদর্শিত হবে। এর মাধ্যমে মানুষ, স্থান ও প্রকৃতির পারস্পরিক সম্পর্ককে নতুনভাবে ভাবার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তব্য দেবেন স্থপতি, শিক্ষাবিদ এবং বেঙ্গল ইনস্টিটিউট ফর আর্কিটেকচার, ল্যান্ডস্কেপস অ্যান্ড সেটেলমেন্টসের মহাপরিচালক অধ্যাপক কাজী খালিদ আশরাফ। এ অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি অঙ্গন, শিক্ষাজগৎ, সরকার, উন্নয়ন সংস্থা এবং সাধারণ মানুষের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।
এই উদ্যোগ শিল্প ও সংস্কৃতির মাধ্যমে লিঙ্গসমতা নিশ্চিত করা এবং জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় ব্রিটিশ কাউন্সিলের ধারাবাহিক অঙ্গীকারের প্রতিফলন। একই সঙ্গে এটি নারী-নেতৃত্বাধীন সৃজনশীল উদ্যোগ এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের মধ্যে অংশীদারিত্বমূলক উদ্যোগকে উৎসাহিত করে। আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই সমাজ গঠন এবং সৃজনশীল অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার বৃহত্তর প্রচেষ্টারও অংশ এ আয়োজন।
বিডি-প্রতিদিন/এমএল