জাতীয় বাজেটে আবাসন ব্যবসায় আরোপিত কর এবং নির্মাণ সামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে রাজশাহীতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার দুপুর ১২টায় নগরীর একটি হোটেলে রাজশাহী রিয়েল এস্টেস অ্যান্ড ডেভেলপার অ্যাসোসিয়েশন এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা বলেন, নতুন কর নীতি ও ১৫ শতাংশ ক্যাপিটাল গেইন্স ট্যাক্স আবাসন ব্যবসার নতুন প্রকল্পের পথ বন্ধ করে দিচ্ছে। নির্মাণ সামগ্রীর কাঁচামালের ভ্যাট ও অগ্রিম কর বৃদ্ধির ফলে রড, সিমেন্ট, ইট, বালু, পাথরের দামও বেড়েছে। মাত্রাতিরিক্ত কর আরোপের ফলে জমির মালিকদের সঙ্গে নতুন ভাবে চুক্তি করা যাচ্ছে না। অনেক প্রকল্প শেষ হলেও ফ্ল্যাট অবিক্রিত থেকে যাচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা কর ও ভ্যাটের হার পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী রিয়েল এস্টেস অ্যান্ড ডেভেলপার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তৌফিকুর রহমান লাভলু, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান কাজী, সহ-সভাপতি এরশাদ আলী ঈশা, কবীর হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আবাসন খাত একক কোনো শিল্প নয়; এটি দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। এই খাতের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ২৬৯টি সহযোগী শিল্প জড়িত। যেমন-ইস্পাত, সিমেন্ট, ইট, বালু, টাইলস, ক্যাবলস, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, পেইন্টস, গ্লাস, সিরামিক, হার্ডওয়্যার এবং আসবাবপত্র শিল্প। আবাসন খাত থমকে গেলে এই ২৬৯টি শিল্পেও ধস নামবে। রিয়েল এস্টেট খাতে বিনিয়োগ হওয়া প্রতি ১ টাকা, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে প্রায় ২.৫ টাকার সমান ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করে। ফলে এই খাতের মন্দা পুরো দেশের অর্থপ্রবাহকে শ্লথ করে দিচ্ছে।
আবাসন খাত থেকে সরকার প্রতিবছর প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব পেয়ে থাকে। কিন্তু অতিরিক্ত ট্যাক্সের কারণে সাধারণ ক্রেতারা চূড়ান্ত নিবন্ধনে দীর্ঘ সময় নিচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতা-বিক্রেতারা ট্যাক্স ফাঁকি দিতে সম্পত্তির প্রকৃত মূল্য কম দেখানোর চেষ্টা করছেন, যা সরকারের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনকে ব্যর্থ করছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, পোশাক খাতের পর আবাসন ও নির্মাণ শিল্প দেশের অন্যতম বৃহৎ কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী খাত। বর্তমানে এ খাতে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষভাবে এবং প্রায় দেড় কোটি মানুষ পরোক্ষভাবে (শ্রমিক, প্রকৌশলী, স্থপতি ও সাপ্লাই চেইন) জীবিকা নির্বাহ করছেন। এই খাতে স্থবিরতা আসলে লাখ লাখ রাজমিস্ত্রি, রডমিস্ত্রি ও দিনমজুর কর্মসংস্থান হারিয়ে চরম বিপাকে পড়বেন।
বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন