রংপুরের প্রথম গণহত্যার সাক্ষী দখিগঞ্জ শ্মশান বধ্যভূমিতে বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হলো বীর শহীদদের।
শনিবার বিকেলে স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে একাত্তরের সেই বিভীষিকাময় দিনটিকে স্মরণ করে দখিগঞ্জ শ্মশান বধ্যভূমি স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ।
পরে এক আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়। সংগঠনের সভাপতি সাংবাদিক সুশান্ত ভৌমিকের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাদাত হোসেন, সংগঠক ডা. মফিজুল ইসলাম মান্টু, মহানগর নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ, সাংবাদিক বাবলু নাগ, কবি ও সাহিত্যিক মওদুদ আহমেদ, সংগঠক দেবদাস ঘোষ দেবুসহ অন্যরা।
এ সময় দখিগঞ্জ বধ্যভূমিসহ রংপুরের সব বধ্যভূমি সংরক্ষণ ও সংস্কারের দাবি জানানো হয়। সেই সঙ্গে বধ্যভূমির ইতিহাস সংরক্ষণ, নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়াসহ সরকারকে শহীদ পরিবারের সদস্যদের পাশে থাকার আহ্বান জানান বক্তারা।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ৩ এপ্রিল রংপুর-মাহিগঞ্জ সড়কের দখিগঞ্জ শ্মশানে মধ্যরাতে ক্যান্টনমেন্ট থেকে ভ্যানে ১১ জন স্বাধীনতাকামীকে নিয়ে আসা হয়। চোখ-হাত বেঁধে সারিবদ্ধভাবে তাদের দাঁড় করিয়ে গুলি করে গণহত্যা চালায় পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী। গণহত্যার শিকার হন ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ওয়াই এ মাহফুজ আলী জররেজ, শ্রী দূর্গাদাস অধিকারী, ক্ষীতিশ হালদার, গোপাল চন্দ্র, এহসানুল হক দুলাল, তোফাজ্জল হোসেন মহররম, রফিকুল ইসলাম, উত্তম কুমার অধিকারী গোপাল, শান্তি চাকী ও পাগলা দরবেশ। এটিই রংপুরের প্রথম গণহত্যার ইতিহাস। কিন্তু এতে অলৌকিকভাবে বেঁচে যান দীনেশ চন্দ্র ভৌমিক ওরফে মন্টু ডাক্তার।
গণহত্যায় সারির সামনে থাকা শহীদরা মন্টু ডাক্তারের শরীরে পড়ে যাওয়া তার পায়ে গুলি লাগে। মন্টু ডাক্তারও মারা গেছে ভেবে চলে যায় হানাদার বাহিনী। এরপর মন্টু ডাক্তার লাশের স্তুপ থেকে বেরিয়ে চলে আসেন। পরে তিনি অন্যদের সহযোগিতায় ভারতে চলে যান এবং প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।
বিডি-প্রতিদিন/এমই