শিরোনাম
শনিবার, ১০ মে, ২০১৪ ০০:০০ টা

কান্না থামছে না নজরুল চন্দনসহ সাত পরিবারের

কান্না থামছে না নজরুল, অ্যাডভোকেট চন্দনসহ নিহত সাতজনের পরিবারে। গতকালও ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ভিড় জমিয়েছিল নজরুল-চন্দনসহ অন্যদের বাড়িতে। কিন্তু কোনো সান্ত্বনাই এ পরিবারগুলোর চোখের পানি থামাতে পারেনি। এখনো শোক, বেদনা আর অজানা আতঙ্কে দিন কাটছে ওই সাতটি পরিবারে। গতকালও সাংবাদিকরা কথা বলেছেন নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি ও শ্বশুর শহীদুল ইসলামের সঙ্গে। তাদের এক কথা- অবিলম্বে এ ঘটনায় সম্পৃক্ত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হোক। গ্রেফতার করা হোক দোষীদের।

এদিকে, নারায়ণগঞ্জের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটিগুলোর কাজ অব্যাহত আছে। ছুটির দিনেও কাজ করেছে বিভিন্ন কমিটি। ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ আলামত, সাক্ষী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য সামনে নিয়ে তদন্ত এগোচ্ছে। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জের পুলিশ প্রশাসনে আরও পরিবর্তন আসতে পারে। একই সঙ্গে শুরু হয়েছে র‌্যাব-১১-এর পুনর্গঠন। নতুন সিও লে. কর্নেল আনোয়ার লতিফ কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন। র‌্যাবের ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতে কাজ শুরু করেছেন তিনি। নারায়ণগঞ্জের অনেক বিশিষ্ট নাগরিক বলেছেন, তারা র‌্যাবের বিরোধী নন। কারণ আইনশৃঙ্খলা ঠিক রাখতে নারায়ণগঞ্জে র‌্যাবের কোনো বিকল্প নেই। শুধু দাবি- যেসব র্যাব সদস্য এ ঘটনায় জড়িত, তদন্তসাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। অন্যথায় র্যাবের ভাবমূর্তিও ফিরে আসবে না।

নাসিক প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি সাত খুনের আসামিদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে সাংবাদিকদের গতকাল বলেন, মন্ত্রী চেষ্টা করলে অবশ্যই আসামিদের গ্রেফতার করতে পারবেন। তিনি বলেন, মূল হোতা নূর হোসেনকে জীবিত উদ্ধার করতে হবে। তাহলে হত্যাকাণ্ডের অনেক তথ্য বেরিয়ে আসবে। যোগাযোগ মন্ত্রণালয় ও সিটি করপোরেশনে নূর হোসেনের নামে যেসব ঠিকাদারি কাজ চলছে, তা বাতিলের দাবি জানান নজরুলে স্ত্রী। তিনি বলেন, প্রশাসন তো নূর হোসেনের বেতনভুক ছিল। মাসিক টাকা দিয়ে রাখত। নজরুল ইসলাম গুম হওয়ার পর আদমজীর সন্ত্রাসী মতিউর রহমান মতির বাসভবন থেকে দুটি গাড়ি বের হয়ে অপহরণ কাজে অংশগ্রহণ নেয়। ওই গাড়িগুলো প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিউটি বলেন, মতিকে গ্রেফতার করা হলে ওই গাড়ির খবরও পাওয়া যাবে।

নজরুলের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম আবারও র‌্যাব ও পুলিশের ছয় কর্মকর্তাকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে বলেন, তারা র‌্যাব ও পুলিশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, খুনিদের বউ, শালা-সম্বন্ধীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু তাদের গ্রেফতার করে লাভ কী। গ্রেফতার করতে হবে যারা খুনি তাদের। তিনি বলেন, র‌্যাবের তিন কর্মকর্তাসহ নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার (সাবেক), ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসিকে গ্রেফতার করলে অনেক কিছু জানা যাবে। তিনি বলেন, শ্রমিক লীগের নেতা মতিন মাস্টারের ছেলে হাসানের কাছে সব অস্ত্র, তার বাড়িতে হোসেন চেয়ারম্যানের ভিডিও ক্যাসেট আছে।

চন্দন, নজরুলের বাড়িতে পেশাজীবী পরিষদ : গতকাল অ্যাডভোকেট চন্দন সরকার ও প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের বাড়িতে যান সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের নেতারা। তারা পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন। এ সময় নেতারা বলেন, আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। তবে এ ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে আন্দোলন করবেন না বলেও নিহতদের পরিবারের সদস্যদের আশ্বস্ত করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রুহুল আমিন গাজী, সদস্যসচিব ড্যাবের ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএফইউজের সভাপতি শওকত মাহমুদ, মহাসচিব এম এ আজিজ, বিশিষ্ট চলচ্চিত্রকার চাষী নজরুল ইসলাম, মো. রফিকুল ইসলাম, ঢাকা বারের সভাপতি মহসিন, ঢাকা বারের নেতা অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, কবি সেলিম বালা, শিক্ষক-কর্মচারী পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ডিন আবদুর রশীদ প্রমুখ। বেলা ১১টায় সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি বৃষ্টিধারা এলাকায় চন্দন সরকারের বাসভবনে যান পেশাজীবী নেতরা। এ সময় তারা চন্দন সরকারের মেয়ে ডা. সুস্মিতা সরকারসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। ডা. সুস্মিতা সরকার বলেন, এরকম একটা বিচার হওয়া উচিত যাতে কেউ ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে না পারে।

সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাতের আগে নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি অবিলম্বে আসামিদের গ্রেফতারের দাবি জানান।

 

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর