শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০১৫ ০০:০০ টা
আপলোড : ২ নভেম্বর, ২০১৫ ২৩:৪৬

আল্লাহু আকবার বলে দা দিয়ে মাথায় কোপ

নিজস্ব প্রতিবেদক

আল্লাহু আকবার বলে দা দিয়ে মাথায় কোপ

কয়েকজন যুবক খুব দ্রুতই আমার প্রকাশনী সংস্থা ‘শুদ্ধস্বর’ কার্যালয়ে প্রবেশ করে। এদের মধ্যে ২০-২৫ বছরের এক যুবক আমার কাছে আসে। ওই যুবকের পরনে ছিল কালো ও সবুজ রঙের চেকশার্ট। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে দা দিয়ে আমার মাথায় কোপ দেয়। এরপর কী হয়েছে কিছু বলতে পারছি না। গতকাল দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে এসব কথা বলছিলেন শুদ্ধস্বরের প্রকাশক আহমেদুর রশীদ চৌধুরী টুটুল। শনিবার মুক্তচিন্তাবিরোধীদের পৈশাচিক  হামলাকারীদের নৃশংস হামলায় আহত টুটুল ঢামেক হাসপাতালের ৪৮ নম্বর কেবিন ব্লকে চিকিৎসাধীন। আহত প্রকাশক টুটুল জানান, গত ফেব্রুয়ারি মাসে একটি ওয়েবসাইট থেকে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরে এ বিষয়ে তিনি মোহাম্মদপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর থেকে তাকে ফলো করছিল দুর্বৃত্তরা। এমনকি গত ২৪ অক্টোবরও মোটরসাইকেলে দুই যুবক তাকে ফলো করে। কিন্তু এমনটি ঘটে যাবে ভাবতে পারিনি। প্রকাশক টুটুলের স্ত্রী শামীমা রুনা জানান, টুটুলকে কুপিয়ে হত্যা চেষ্টার ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাচ্ছি। এ ধরনের ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে। একজনকে হত্যার মাধ্যমে একটি সংসার, একটি পরিবার ধ্বংস হয়ে যায়। আমরা নিরাপদে থাকতে চাই। ঘটনার আগের শনিবার স্বামী টুটুলকে নিয়ে বাংলামোটর থেকে পান্থপথ যাচ্ছিলাম। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে থাকা দুজন তাদের ফলো করছিল। দুর্বৃত্তরা বিভিন্ন সময়ে তাদের চলাফেরাসহ বাসা পর্যন্ত ফলো করেছে। শামীমা আরও জানান, রবিবার থেকে টুটুলকে তরল খাবার খাওয়ানো হচ্ছে। টুটুল আগের চেয়ে অনেকটা ভালো। গত শনিবার দুপুরে মোহাম্মদপুর লালমাটিয়ার সি ব্লকের ৮১৩ নম্বর বাসায় শুদ্ধস্বর প্রকাশনীর কার্যালয়ে হামলা করে দুর্বৃত্তরা। হামলায় গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে শুদ্ধস্বরের প্রকাশক আহমেদুর রশীদ চৌধুরী টুটুল, লেখক রণদীপম বসু ও তারেক রহিম গুরুতর আহত হন। পরে তাদের ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গতকাল বিকালে টুটুলের পক্ষে ভায়রাভাই সাজ্জাদ হোসেন মোহাম্মদপুর থানায় অজ্ঞাত তিন জনের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টা মামলা করেন। ঢামেক হাসপাতালের ১৭ নম্বর কেবিন ব্লকে চিকিৎসাধীন লেখক রণদীপম বসু। সেখানে কথা হয় তার বন্ধু প্রভাষ দাসের সঙ্গে। তিনি জানান, বর্তমানে রণদীপমের অবস্থা ভালো। তবে বাম হাতে বেশি ইনজুরি রয়েছে। রণদীপম ব্লগার নয়, লেখক। গত বইমেলায় তার গবেষণাধর্মী ‘চার্বাকের খোঁজে ভারতীয় দর্শন’ নামে ৮২৮ পৃষ্ঠার একটি বই প্রকাশিত হয়। এবারের বইমেলায় ওই বইটি চার খণ্ডে বড় আকারে বের করার চেষ্টা করছেন। রণদীপম মিরপুরে গ্রামীণ ব্যাংক হেড অফিসে প্রিন্সিপাল অফিসার।

ঢামেক হাসপাতালের ১৬ নম্বর কেবিন ব্লকে চিকিৎসাধীন আহত তারেক রহিমের অবস্থাও বেশ ভালো বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা। দুপুরে ঢামেক হাসপাতালে আহত তিনজনকে দেখতে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। তিনি আহতদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি ঢামেক হাসপাতালের চিকিৎসকদের ধন্যবাদ জানিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, আহতরা অনেকটাই সুস্থ। সরকারি ব্যবস্থাপনায় তাদের চিকিৎসা চলছে। আশা করছি তারা দ্রুত সুস্থ হয়ে কর্মস্থলে ফিরে যাবেন। দুর্ভাগ্যজনক যে, আমরা তিনজন প্রগতিশীল লেখক ও প্রকাশককে এভাবে দেখলাম। সবাই জানে ইসলাম শান্তির ধর্ম। কোনোভাবেই মানুষ খুন করা ইসলাম সমর্থন করে না। যারা এটা করেছে তারা শুধু বিপথগামী নয়, ধর্মান্ধ জঙ্গি। ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রি. জে. মিজানুর রহমান জানান, আহতরা অনেকটা আশঙ্কামুক্ত। তাদের মধ্যে তারেকের পেটে গুলি রয়েছে। আপাতত সমস্যা নেই। তবে সমস্যা হলে অপারেশন করা হবে। তারেকের ডায়াবেটিস ও প্রেসার রয়েছে। তার বাম হাত রাখার ব্যাপারে সংশয় রয়েছে।

 


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর