Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ নভেম্বর, ২০১৬ ২৩:১৯

লাখ লাখ স্বাক্ষর সু চির বিরুদ্ধে

প্রতিদিন ডেস্ক

লাখ লাখ স্বাক্ষর সু চির বিরুদ্ধে

মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী অং সান সু চির নোবেল পুরস্কার প্রত্যাহারের দাবি ক্রমাগত জোরালো হচ্ছে। লাখ লাখ মানুষ সু চির নোবেল পুরস্কার ফিরিয়ে নেওয়ার আবেদনে স্বাক্ষর করছেন। ওই দাবিতে ওয়েবসাইট চেঞ্জ ডট ওআরজি- তে জমা হচ্ছে একের পর এক আবেদন। ১৯৯১ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান সু চি। কিন্তু দেশটিতে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিতর্কিত ভূমিকার কারণে তার সেই অর্জন প্রশ্নের মুখে পড়েছে। দেশটিতে রোহিঙ্গাদের ওপর অত্যাচারের খড়গ নেমেছে। সেখানে শুধু গুলি করে নয়, অনেককে পুড়িয়ে হত্যা করছে দেশটির সেনাবাহিনী। এই পরিপ্রেক্ষিতেই মূলত তার নোবেল পুরস্কার ফিরিয়ে নেওয়ার দাবিতে সোচ্চার হচ্ছে অনেক সংগঠন ও মানুষ। গতকাল চেঞ্জ ডট ওআরজির সু চির নোবেল ফিরিয়ে নেওয়ার আবেদনে দেড় লাখের বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছে। ইন্দোনেশিয়া থেকে চেঞ্জ ডট অর্গে আবেদনে বলা হয়েছে, ‘আন্তর্জাতিক শান্তি এবং ভ্রাতৃত্ববোধ রক্ষায় যারা কাজ করেন, তাদেরই নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়। সু চির মতো যারা এই পুরস্কার পান, তারা শেষ দিন পর্যন্ত এই মূল্যবোধ রক্ষা করবেন— এটাই আশা করা হয়। যখন একজন নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী শান্তি রক্ষায় ব্যর্থ হন, তখন শান্তির স্বার্থেই নোবেল শান্তি পুরস্কার কমিটির উচিত এই পুরস্কার হয় জব্দ করা, নয় তো ফিরিয়ে নেওয়া।’ তবে সমালোচনা যতই উঠুক, নোবেল ফাউন্ডেশনের নীতিমালা অনুযায়ী নোবেল পুরস্কার প্রত্যাহার করে নেওয়ার সুযোগ নেই। নোবেল কমিটি আজ পর্যন্ত পুরস্কার প্রদানের পর কারও পুরস্কার প্রত্যাহার করে নেয়নি। ফাউন্ডেশনের নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে নোবেল দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠলে ?এবং তা পর্যালোচনার প্রয়োজন পড়লে তা করা যাবে; তবে তাও ৫০ বছরের আগে নয়।

চেঞ্জ ডট অর্গ হলো একটি পিটিশন ওয়েবসাইট। মূলত মানবাধিকার, শিক্ষা, পরিবেশগত সুরক্ষা, প্রাণী অধিকার, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বিভিন্ন দেশের বিপর্যয়পূর্ণ পরিস্থিতিতে পরিবর্তন চেয়ে কিংবা আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চেয়ে এখানে পিটিশনের জন্য স্বাক্ষর গ্রহণ করা হয়। অর্থাৎ মানুষের মতামত ও স্বাক্ষর নেওয়ার জন্য এটি প্লাটফর্ম হিসেবে কাজ করে। যে কেউ যে কোনো জায়গা  থেকে এখানে পিটিশন শুরু করতে পারে এবং মানুষের স্বাক্ষর গ্রহণের মাধ্যমে সমর্থন জোগাড় করতে পারে।

কেন সু চির পুরস্কার ফিরিয়ে নেওয়ার আবেদন : রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর মিয়ানমার সরকারের ধারাবাহিক নির্যাতনের ব্যাপারে সু চি তার নিশ্চুপ ভূমিকার কারণে সমালোচিত হয়েছেন। তিনি এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে এমন অনুরোধও জানিয়েছেন যেন রোহিঙ্গাদের এই নামে উল্লেখ করা না হয়। সু চির বিরুদ্ধে মুসলিমবিরোধী মনোভাব বেশ কিছুদিন ধরে প্রকাশ পেতে থাকে। চেঞ্জ ডট অর্গে সু চির নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রত্যাহারের আবেদনের শুরুতে বিবিসির সাংবাদিক মিশাল হোসেন সম্পর্কে তিনি যে মন্তব্য করেছিলেন, সেই ঘটনারও উল্লেখ করা হয়। বিবিসির মিশাল হোসেনকে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে অং সান সু চিকে রোহিঙ্গা মুসলিমদের সঙ্গে মিয়ানমারের আচরণ নিয়ে অনেক অপ্রিয় এবং কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। ওই সাক্ষাৎকারের পর সু চি মন্তব্য করেছিলেন, ‘সে (মিশাল হোসেন) যে একজন মুসলিম কেউ তো আগে আমাকে জানায়নি।’ আবেদনে বলা হয়, মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেত্রী এবং নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী সু চির মুখ থেকে যখন এ রকম কথা শোনা যায়, তা তখন অনেককেই অবাক করেছিল। এ ছাড়া মিয়ানমারের সংখ্যালঘু মুসলমানরা দীর্ঘদিন ধরেই রাষ্ট্রীয় ও সংখ্যাগুরু বৌদ্ধদের সন্ত্রাসের শিকার হচ্ছেন। এ বিষয়ে বরাবরই নিশ্চুপ থেকেছেন শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী এ নেত্রী। সু চির এমন আশ্চর্যজনক নীরবতা তার অনেক কট্টর সমর্থকের মনেও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ২০১৫ সালের ৮ নভেম্বর মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় পদার্পণের ঐতিহাসিক নির্বাচনে সু চির দল কোনো মুসলিম ব্যক্তিকে প্রার্থী না করার পর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে আল জাজিরা তুলে আনে মুসলিমদের ওপর নিপীড়ন নিয়ে সু চির ধারাবাহিক নীরবতার প্রশ্ন। দলের বিভিন্ন শীর্ষ নেতাকে উদ্ধৃত করে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমারের সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইচ্ছাকৃতভাবে মুসলিম প্রার্থীদের নিজ দল থেকে সরিয়ে দিয়েছেন দেশটির গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী এবং এনএলডির প্রধান অং সান সু চি।

নোবেল কমিটি কি পুরস্কার প্রত্যাহার করতে পারে? : নোবেল পুরস্কারের ইতিহাসে কারও পুরস্কার এখনো প্রত্যাহার হয়নি। তবে কোনো ব্যক্তি যদি নিজ থেকে পুরস্কার প্রত্যাখ্যানও করে তবুও তার নাম পুরস্কারের তালিকাতেই রেখে দেয় নোবেল কমিটি। কেননা পুরস্কার ফিরিয়ে দেওয়া কিংবা ফিরিয়ে নেওয়ার নিয়ম নেই নোবেল ফাউন্ডেশনের। বলা চলে ফাউন্ডেশনের নীতিমালা অনুযায়ী তা নিষিদ্ধ। নোবেল ফাউন্ডেশনের নীতিমালায় বলা আছে, ‘পুরস্কার প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার বিরুদ্ধে কোনো আবেদন জানানো যাবে না।’ পুরস্কার প্রত্যাহারের সুযোগ রাখার জন্য বিভিন্ন পিটিশন হলেও সে ব্যাপারে নোবেল ফাউন্ডেশন এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি। অবশ্য নোবেল ফাউন্ডেশন এটা স্বীকার করেছে যে তাদের প্রদান করা কোনো কোনো পুরস্কার নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। এ ব্যাপারে তাদের সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত যে রেকর্ড রয়েছে তা প্রকাশ করতেও সম্মত হয়েছেন তারা। কিন্তু  সেগুলো ৫০ বছরের আগে প্রকাশ করা হবে না। অর্থাৎ একটি পুরস্কার ঘোষণার পর সে পুরস্কার নিয়ে সিদ্ধান্তজনিত  রেকর্ড প্রকাশ হবে ৫০ বছর পর। চেঞ্জ.ওআরজি, নোবেলপ্রাইজ.অর্গ।


আপনার মন্তব্য