শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:০১

ভোটের পরিবেশ সৃষ্টির দায়িত্ব সরকারের

নিজস্ব প্রতিবেদক

ভোটের পরিবেশ সৃষ্টির দায়িত্ব সরকারের

তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বিলুপ্ত হওয়ায় নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরির দায়িত্ব সরকারের বলে মনে করেন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. এ টি এম শামসুল হুদা। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) নিয়ে স্থানীয় নির্বাচনে পরীক্ষামূলকভাবে আরও ব্যবহার করে জাতীয় নির্বাচনে প্রবর্তন করার পক্ষে মত দিয়েছেন তিনি। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ইভিএম চাপিয়ে না দিয়ে ইভিএমের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সামনে এগিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।  তিনি গতকাল হোটেল র‌্যাডিসন ব্লুতে দক্ষিণ এশিয়ার নির্বাচন কমিশনের সংগঠন ‘ফোরাম অব ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বডিস অব সাউথ এশিয়া (ফেমবোসা)-এর নবম সম্মেলনে অংশগ্রহণের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। সিইসি থাকতেই দেশে প্রথমবার ইভিএম চালু হয়েছিল; তার উদ্যোগেই ফেমবোসার যাত্রা শুরু হয়। সম্মেলনের এক ফাঁকে রাজনৈতিক আলোচনার মধ্যে সাম্প্র্রতিক ইভিএম প্রসঙ্গ ও একাদশ সংসদ নির্বাচনে সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ নিয়ে তার কথা হয় সাংবাদিকদের সঙ্গে। সঙ্গে ছিলেন সাবেক সিইসি বিচারপতি মো. আবদুর রউফ। দুই সাবেক সিইসি জানান, নির্বাচন কমিশন একার পক্ষে ভালো নির্বাচন করা সম্ভব নয়। রাজনৈতিক দল, প্রার্থীসহ সবার সহযোগিতায় ভালো নির্বাচন করতে পারে ইসি।

পরিবেশ সৃষ্টির দায়িত্ব : এক প্রশ্নের জবাবে ড. শামসুল হুদা বলেন, নির্বাচন বিষয়টা খুবই সেনসেটিভ। এখানে কম্পিটিশনের ব্যাপার। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দল অংশ নেয়, যেখাসে রুলস অব দি গেইম ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড— এগুলো এনসিউর না হলে তো হবে না। সেগুলো এনসিউর করেই একটা জিনিস ইন্ট্রডিউস করতে হবে। নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করার দায়িত্ব মূলত সরকারের। সরকারই এটা করবেন। এখন না করতে পারলে তো খুবই অসুবিধার কথা। তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা উঠে গেছে। সে পরিস্থিতিতে কী করলে কনফিডেন্স আসবে, আস্থা আসবে সে পদক্ষেপ নেওয়ার দায়িত্ব সরকারের।

ইভিএম ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, লোকাল গভর্নমেন্ট ইলেকশনে আরও বেশি ব্যবহার শুরু করার দরকার রয়েছে। সেখানে মনিটর করে, তথ্য সংগ্রহ করে কী হয়েছে, কী হয়নি; কী অসুবিধা, কী সুবিধা সব যাচাই-বাছাই করে ক্রমাগত উন্নত করতে হবে। একটা সিস্টেম ম্যানেজমেন্ট নিতে হবে। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একসঙ্গে সবটা করা ঠিক নয়। এখানেও পাইলট পরীক্ষা করতে হবে। তাড়াহুড়োর কী আছে! গ্র্যাজুয়েলি ইমপ্রুভ করে সব রাজনৈতিক দল যখন বুঝতে পারবে এটা ঠিক রয়েছে, তখন করা উচিত। এটা তো কারও ওপরে চাপিয়ে দেওয়া যাবে না।

নির্বাচন ছাড়া, গণতন্ত্র ছাড়া গত্যন্তর নেই : সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বিচারপতি মো. আবদুর রউফ মনে করেন, দোষাদোষী করে নির্বাচন হবে না; অনাস্থা দিয়েও নির্বাচন হবে না। সব কিছু মিলিয়ে একটা জিনিস মেনে নিতে হবে— নির্বাচন ছাড়া, গণতন্ত্র ছাড়া গত্যন্তর নেই। ইভিএমের প্রসঙ্গে তিনি জানান, টেকনোলজি নিয়ে রং ইনফরমেশন কিংবা হাফ নলেজ, কোয়ার্টার নলেজ নিয়ে সমালোচনা করতে গেলে খারাপ। আগে চিনতে হবে, জানতে হবে। তিনি বলেন, এ মুহূর্তে হবে কি হবে না সেটা ক্যাপাবিলিটির ওপর নির্ভর করে। কিছু কিছু জায়গায় করেছেন, তো আস্তে আস্তে দেন। শেখান প্রযুক্তিটি কী, নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগে বোঝান; দ্যান ইউ কাম। তিনি বলেন, আমি বলব শতকরা ৯৮ ভাগ লোক এই ইভিএম মেশিনটা কী, টেকনোলজিটা কী, কীভাবে আসে— এ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নেই। অনেক ক্ষেত্রে হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে গোলমাল হয়েছে; অনেক দেশ এটা বন্ধও করে দিয়েছে। শঙ্কা ও তা দূর করার বিষয়ে তিনি বলেন, টেকনোলজি যখন এসেছে, টেকনোলজি এখানে ঢুকবেই। এখানে আমি এটাকে সহায়ক শক্তি হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করি। কিন্তু এ নিয়ে যদি আগে থেকে চিন্তা করেন ভোটিং মেশিনে ভোট হলে একজনের ভোট টেকনোলজি চেঞ্জ করে অন্য জনে নিয়ে গেল; এটা আগে থেকে মাথায় ঢুকলে কিছু হবে না। কনফিডেন্স পেলে এসব কিছু দূর হয়ে যাবে।


আপনার মন্তব্য