শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ জানুয়ারি, ২০১৯ ২২:৪৪

ঢাকা সিটিতে খুলছে কার ভাগ্য

আওয়ামী লীগে আতিক না অন্য কেউ চলছে আলোচনা, সিদ্ধান্ত নেয়নি বিএনপি

রফিকুল ইসলাম রনি

ঢাকা সিটিতে খুলছে কার ভাগ্য

আগামী মার্চে হতে যাচ্ছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র পদে উপনির্বাচন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর রাজনৈতিক দলগুলোর দৃষ্টি এবার এ উপনির্বাচনে। চলতি বছরের প্রথম স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচনে সংসদ নির্বাচনের মতোই জয়ের ধারাবাহিকতা চায় আওয়ামী লীগ। এক বছর স্থগিত থাকার পর উপনির্বাচনের পথ খুলে যাওয়ায় আওয়ামী লীগের ভিতরে-বাইরে আলোচনা- কার ভাগ্য খুলছে উত্তর সিটিতে। এ জন্য হিসাব-নিকাশ শুরু করেছে দলটি। তবে বিএনপি নির্বাচনে যাবে কিনা- এ সিদ্ধান্ত নেয়নি। তফসিল ঘোষণার পর সিদ্ধান্ত জানাবে দলটি। আদালতের আদেশের অপেক্ষায় রয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছেন, উত্তর সিটিতে ব্যবসায়ী নেতা আতিকুল ইসলামই হাল ধরছেন নৌকার। তবে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের স্ত্রী রুবানা হক। ২০১৭ সালে            উপনির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এসেছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম, ঢাকা মহানগরী উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি ঢাকা-১১ আসনের এমপি এ কে এম রহমতুল্লাহ, ঢাকা-৯ আসনের এমপি সাবের হোসেন চৌধুরী। পরে ব্যবসায়ী নেতা আতিকুল ইসলামকে বেছে নেয় আওয়ামী লীগ। ভোটার নিয়ে জটিলতায় রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্থগিত হয়ে যায় সিটি নির্বাচন।

দীর্ঘ এক বছর বন্ধ ছিল নির্বাচনের কার্যক্রম। গত বুধবার উচ্চ আদালতের আদেশে স্থগিতাদেশ কেটে যাওয়ায় এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচন। আর প্রার্থী হিসেবে এখন নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচন স্থগিত থাকলেও বসে থাকেননি আওয়ামী লীগের প্রার্থী ব্যবসায়ী নেতা আতিকুল ইসলাম। আগে ক্ষমতাসীন দলটির সর্বস্তরের নেতা-কর্মীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা না থাকলেও গত এক বছর অনেকটা গুছিয়ে নিয়েছেন তিনি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রথম স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচনে ব্যবসায়ী নেতাই হাল ধরবেন, নাকি দলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এমন কাউকে দেওয়া হবে দলীয় মনোনয়ন- তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। শেষ হাসি কে হাসবেন- তা নির্ভর করছে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমরা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করলেই আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করব। তফসিল ঘোষণা করলেই মনোনয়নপত্র বিক্রি করা ও জমা নেওয়া হবে। এরপর প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হবে।’ দলীয় প্রার্থী কাকে করা হচ্ছে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রার্থী চূড়ান্ত করে। দলের মনোনয়ন বোর্ডের মাধ্যমে প্রার্থী সিলেকশন দেওয়া হয়। সবার মতামতের ভিত্তিতেই প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। তবে যিনি জনপ্রিয়তায় এগিয়ে থাকবেন তাকেই দলের মনোনয়ন দেওয়া হবে।’ গতবার মনোনয়ন পাওয়া আতিকুল ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘ঢাকা উত্তর সিটিতে নৌকার প্রার্থী হওয়ার জন্য অনেক যোগ্য রাজনীতিক ছিলেন। তাদের মধ্যে আমাকে মনোনয়ন দেওয়ায় দলের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আশা করি পুনঃ তফসিল ঘোষণা হলেও আগের সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।’ তিনি বলেন, ‘আদালতের নির্দেশে নির্বাচন স্থগিত হলেও আমি বসে থাকিনি। উত্তরের সর্বস্তরের নেতা-কর্মী, তরুণসমাজ, নারী, বস্তিবাসীসহ সাধারণ মানুষের কাছে উত্তর সিটি নিয়ে আমার ভাবনা তুলে ধরেছি। বিগত সংসদ নির্বাচনেও নৌকার প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছি। আশা করি নেত্রী আমাকে মনোনয়ন দেবেন এবং জনগণের ভোটে বিজয়ী হব।’ প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগের সমর্থনে ওই নির্বাচনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র হন ব্যবসায়ী নেতা আনিসুল হক। এর মধ্য দিয়ে তিনি রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর প্রায় দুই বছর ধরে ওই দায়িত্ব পালনের মধ্যেই ২০১৭ সালের জুলাইয়ে যুক্তরাজ্যের একটি হাসপাতালে ভর্তি হন সেরিব্রাল ভাসকুলাইটিসে আক্রান্ত আনিসুল হক। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩০ নভেম্বর তার মৃত্যু হয়।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর