Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ মার্চ, ২০১৯ ২৩:০২

ব্রাশফায়ারে হত্যাকাণ্ড

পাহাড়ে কাটেনি শঙ্কা

প্রতিবাদ সমাবেশ, ৪৮ ঘণ্টা অবরোধ, দাফন-দাহক্রিয়া সম্পন্ন, অজ্ঞাত ৫০ জনকে আসামি করে মামলা

রাঙামাটি প্রতিনিধি

পাহাড়ে কাটেনি শঙ্কা

উপজেলা নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপের ভোটের দিন বাঘাইছড়িতে ব্রাশফায়ার ও পরদিন বিলাইছড়ি হত্যার ঘটনায় পাহাড়ে এখনো শঙ্কা কাটেনি। উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন এখানকার মানুষ। রাঙামাটি জেলা জুড়ে বিরাজ করছে চাপা আতঙ্ক। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ করছে প্রশাসনসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থা। একই সঙ্গে পাহাড় থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রেখেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রাঙামাটির জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশিদ বলেন, দুটি পৃথক ঘটনার পর রাঙামাটিতে আর কোনো সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। তবে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কঠোর অবস্থানে সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি সদস্যরা। কোনো নাশকতাকারীকেই ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, বাঘাইছড়ি ও বিলাইছড়ি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করতে অভিযান চলছে।

বাঘাইছড়ি ও বিলাইছড়িতে নিহতদেন দাফন ও দাহক্রিয়া সম্পন্ন : এদিকে ১৮ ও ১৯ মার্চ রাঙামাটির বাঘাইছড়ি ও বিলাইছড়িতে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত আটজনের দাফন ও দাহক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল সকালে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার কাচালং বাজার এলাকায় কবরস্থানে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার মো. আবু তৈয়ব, পোলিং মো. আমির হোসেন ও আনসার-ভিডিপি সদস্য জাহানারা বেগম, বিলকিস আক্তার ও মো. আল-আমিনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া বাঘাইছড়ি উপজেলার বঙ্গলছড়ি ইউনিয়নের কড়াঙ্গাতলীতে মিহির কান্তি দত্ত ও পথচারী মন্টু চাকমার দাহক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানান বাঘাইছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ মঞ্জুর আলম। তিনি বলেন, এ হত্যার ঘটনায় বাঘাইছড়ি থানার এসআই আখতার বাদী হয়ে গতকাল রাতে অজ্ঞাত ৪০-৫০ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। এখন মামলা তদন্ত করে দেখা হবে। অন্যদিকে কড়া পুলিশি প্রহরায় বিলাইছড়ির উড়াছড়ি এলাকায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুরেশ কান্তি তঞ্চঙ্গ্যার দাহক্রিয়া সম্পন্ন করেছে তার পরিবার। এ ব্যাপারে বিলাইছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পারভেজ আলী জানান, বিলাইছড়ি থানায় এ হত্যাকান্ডে র কোনো মামলা হয়নি। কারণ নিহতের স্বজনরা তার দাহক্রিয়া নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। তবে মামলার কার্যক্রম চলমান।

বিলাইছড়িতে ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ : অন্যদিকে রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুরেশ কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা হত্যার প্রতিবাদে ৪৮ ঘণ্টা অবরোধ চলছে। গতকাল সকাল থেকে বিলাইছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. জাহিদের নেতৃত্বে এ অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়। অবরোধের কারণে বিলাইছড়ি থেকে রাঙামাটি শহরে কোনো নৌযান চলাচল করেনি। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের। এখনো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। চাপা আতঙ্কে ঘর থেকে বের হচ্ছে না সাধারণ মানুষ। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ব্যাপারে বিলাইছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. জাহিদ বলেন, ‘উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুরেশ কান্তি তঞ্চঙ্গ্যাকে হত্যা করেছে স্থানীয় আঞ্চলিক সংগঠনের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। এ হত্যাকান্ডে র বিচার ও খুনিরা গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।’

আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ সমাবেশ : বাঘাইছড়ি ও বিলাইছড়ি হত্যার জন্য সন্তু লারমার গ্রুপ পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি জেএসএস-কে দায়ী করে রাঙামাটিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে পৌরসভা চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। এ সময় বিভিন্ন ব্যানার ও প্রতিবাদী ফেস্টুন নিয়ে মিছিলে শত শত পাহাড়ি-বাঙালি নারী-পুরুষ অংশ নেন। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে এসে সমাবেশে মিলিত হয়। মিছিলে নেতৃত্ব দেন রাঙামাটি (২৯৯) আসনের এমপি দীপংকর তালুকদার। এ সময় তিন পার্বত্য জেলার সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাবেক এমপি ফিরোজা বেগম চিনু, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নিখিল কুমার চাকমা, সাধারণ সম্পাদক মুছা মাতব্বর, আওয়ামী লীগ নেতা অংশু ছাইন চৌধুরী, অংশুপ্রু চৌধুরী, রাঙামাটি পৌরসভার মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী, নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান শহিদুজ্জামান রোমান উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে এমপি দীপংকর তালুকদার বলেন, পাহাড়ে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গুলিতে একের পর এক আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। এই সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের কাছে পাহাড়ের কোনো মানুষ নিরাপদ নয়। তাদের বিরুদ্ধে সরকার ও প্রশাসনের এখনই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। যত দিন পর্যন্ত পাহাড় থেকে অবৈধ অস্ত্র, সন্ত্রাস নির্র্মূল করা না হবে, তত দিন পাহাড়ে এমন হত্যাযজ্ঞ চলতেই থাকবে। তাই আর একটি প্রাণও ঝরলে পাহাড়ের মানুষ সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠিন প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। প্রসঙ্গত, সোমবার রাতে উপজেলা নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপের ভোট শেষে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার তিনটি কেন্দ্রের মালামালসহ উপজেলা সদরে আসার পথে নয়মাইল এলাকায় ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা, পুলিশ ও আনসার-ভিডিপি সদস্যদের ওপর ব্রাশফায়ার করে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। এতে ঘটনাস্থলেই সাতজন মারা যান। আহত হন আরও ১৯ জন। এ ঘটনার ১৩ ঘণ্টা পর অর্থাৎ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় বিলাইছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিকে গুলি করে হত্যা করে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। এসব ঘটনায় পাহাড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে।


আপনার মন্তব্য