Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৯ মে, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৮ মে, ২০১৯ ২২:৫৩

মোদির অগ্নিপরীক্ষার শেষ ধাপ

আমেথি থেকে উপনির্বাচনে লড়বেন প্রিয়াঙ্কা

নয়াদিল্লি ও কলকাতা প্রতিনিধি

মোদির অগ্নিপরীক্ষার শেষ ধাপ

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্ষমতায় ফেরার অগ্নিপরীক্ষার আজ রবিবার শেষ ধাপ। লোকসভা (সংসদের নিম্নকক্ষ) নির্বাচনে সপ্তম অর্থাৎ সর্বশেষ পর্বে আজ ৫৯ আসনের ভোটগ্রহণ করা হচ্ছে। মোট প্রার্থী ৯১৮ জন। বারানসি আসনে তার জয় নিয়ে কোনো সংশয় নেই। চ্যালেঞ্জ শুধু মার্জিন বাড়ানোর। কিন্তু গোটা দেশের ৫৪৩টি আসনে তিনি শাসক বিজেপিকে ফের জিতিয়ে নিয়ে আসতে পারেন কিনা সেটাই পরীক্ষা। ভারতের নির্বাচনী ইতিহাস থেকে দেখা গেছে, যে প্রধানমন্ত্রী নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ী হয়েছেন তিনি ঠিক তার পরের নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন। একমাত্র ব্যতিক্রম জওহরলাল নেহরু। ইন্দিরা গান্ধী, মোরারজি দেশাই এবং রাজিব গান্ধী ক্রমান্বয়ে দ্বিতীয়বার জয়ী হননি। এবার মোদি সেই রেকর্ড ভাঙতে পারেন কিনা সেটাই অগ্নিপরীক্ষা। প্রধানমন্ত্রী মোদি দিল্লিতে শনিবার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বহু বছর পর এক নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার দ্বিতীয়বার ফিরে আসছে। কিন্তু রাহুল গান্ধীরা তা মানতে নারাজ। ইতিমধ্যেই তারা বিকল্প সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিয়েছেন। বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিরা আজ কলকাতায় ভোটগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করবেন।

নরেন্দ্র মোদি ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে ৩ লাখ ৭০ হাজার ভোটে পরাজিত করেন। এবার সেই ব্যবধান বাড়ে কিনা তাই দেখার। তার বিরুদ্ধে কংগ্রেসের স্থানীয় বিধায়ক অজয় রাই এবং সমাজবাদী ও বহুজন সমাজ পার্টির প্রার্থী শালিনী যাদব প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে প্রবল জল্পনা হয়। শেষ পর্যন্ত তিনি লড়বেন না বলে সিদ্ধান্ত নেন। তবে মোদির বিরুদ্ধে প্রচার করেছেন।

এবার রাহুল গান্ধী উত্তর প্রদেশের আমেথি ও কেরালার ওয়াইনাড় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যদি দুটি আসনে জয়ী হন তাহলে আমেথি তিনি ছেড়ে দেবেন। কংগ্রেস সূত্র জানায়, রাহুল আমেথি আসন ছাড়লে ওই আসনের উপনির্বাচনে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। আজকের নির্বাচনে কেন্দ্রশাসিত একটি অঞ্চলসহ মোট আটটি প্রদেশের ৫৯টি আসনের নির্বাচন। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতারা ছাড়াও বহু চিত্রতারকার ভাগ্য নির্ধারণ হবে। উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথের খাসতালুক গোরক্ষপুরে লড়ছেন ভোজপুরী সিনেমার নায়ক রবি কিষাণ। এখানে গত উপনির্বাচনে সমাজবাদী পার্টি বহুজন সমাজ জোট পরাস্ত করে বিজেপিকে।

পাঞ্জাবের গুরুদাসপুরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বলিউড অভিনেতা সানি দেওল। চন্ডিগড়ে কিরণ খের। তিনি গতবার জয়ী হন। বিহারের পাটনা সাহিবে অভিনেতা শত্রুঘ্ন সিনহা কংগ্রেসের টিকিটে লড়ছেন। শত্রুঘ্ন বিজেপির সাংসদ ছিলেন। পাটালিপুত্রে লালুপ্রসাদ যাদবের মিসা ভারতী। তিনি রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন। পশ্চিমবঙ্গের দুই চিত্রতারকা মিমি চক্রবর্তী ও নুসরত জাহান লড়ছেন যথাক্রমে যাদবপুর ও বসিরহাট আসনে। লোকসভা স্পিকার সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় এক সময় ডায়মন্ড হারবার থেকে নির্বাচিত হতেন। তাকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম পরাজিত করেন। ডায়মন্ড হারবার  আসনে এবার লড়ছেন সাংসদ মমতা ব্যানার্জির ভাইপো অভিষেক।

পশ্চিমবঙ্গের ৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজেপি বনাম তৃণমূল মর্যাদার লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি এই রাজ্যে ১৭টি জনসভা করেছেন। দেশের কোনো প্রধানমন্ত্রী কোনো রাজ্যে এত সভা করেননি। বিজেপি মনে করে উত্তরপ্রদেশে যত আসন এবার তারা হারাবে সেগুলো  যেন পশ্চিমবঙ্গ থেকে পূরণ করা যায়। আজ ভোট হবে বিহারের আটটি, হিমাচল প্রদেশের চারটি, ঝাড়খে  তিনটি, মধ্যপ্রদেশের আটটি, পাঞ্জাবের ১৩টি, উত্তরপ্রদেশের ১৩টি, পশ্চিমবঙ্গের ৯টি এবং চি গড়ের একটি আসনে।

পশ্চিমবঙ্গে আইনশৃঙ্খলার অবনতি বিবেচনা করে এখানে সর্বোচ্চ সংখ্যার আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এবারের নির্বাচনে কাশ্মীরের পরে সব থেকে বেশি সেনা পশ্চিমবঙ্গে মোতায়েন হয়েছে।

আজ শেষ দফার নির্বাচন ক্ষমতাসীন দল বিজেপি ও বিরোধী-উভয়ের কাছেই খুব গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৪ সালের নির্বাচনে এই ৫৯টি আসনের মধ্যে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট পায় ৪০টি আসন। এর মধ্যে বিজেপি একাই জয় পায় ৩৩টি আসনে। তৃণমূল-৯টি, আপ-৪টি, কংগ্রেস-৩টি, ঝাড়খ  মুক্তি মোর্চা (জেএমএম)-২টি, জনতা দল ইউনাইটেড ১টি আসনে জয় পায়। 

আজ সপ্তম দফার মধ্য দিয়েই শেষ হবে গত ৩৯ দিন ধরে চলা বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশের সর্বশ্রেষ্ঠ উৎসবের। গত ১০ মার্চ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে গত প্রায় ৬০ দিনের বেশি সময় ধরে বিজেপি, কংগ্রেস, তৃণমূল, বসপা, সপা, টিডিপিসহ সব দলই নির্বাচনী প্রচারণায় ঝড় তুলেছে। তবে এ ক্ষেত্রে সবার আগে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। নির্বাচনের দিন ঘোষণার পর থেকে শেষ ৫১ দিনে দেশজুড়ে মোট ১৪২টি জনসভা এবং চারটি রোড শো করেছেন। এর তিন ভাগের একভাগই করেছেন উত্তরপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে। প্রতিদিন গড়ে ৩-৪টি প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে ১.৫ লাখ কিলোমিটার পথ ভ্রমণ করেছেন। র‌্যালি ও রোড শোর মধ্য দিয়ে ১.৫ কোটি মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

শনিবার দিল্লিতে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ জানান, ‘আমরা আরও সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ফের ক্ষমতায় আসছি। আমরা আত্মবিশ্বাসী যে, এবার ৩০০ এর বেশি আসন পাব।’ এ দিনই কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীও দাবি করেন বিরোধী দলগুলোই একত্রিত হয়ে পরবর্তী সরকার গঠন করবে। কারণ সপা, বসপা, টিডিপির মতো আঞ্চলিক দলগুলো বিজেপিকে সমর্থন জানাবে না। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জিরও দাবি, বিজেপি এবার ১০০-এর বেশি আসন পাবে না। তবে শেষ হাসিটা কে আসবে তা জানা যাবে ২৩ মে। যদিও শেষ দফার নির্বাচন শেষ হওয়ার পরই বিভিন্ন জরিপ থেকে পরবর্তী সরকার কে গড়তে চলেছে তার হয়তো একটা আগাম আভাস পাওয়া যেতে পারে।


আপনার মন্তব্য