Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ জুন, ২০১৯ ২৩:৩৩

বিদেশে বিনিয়োগ করতে চায় সামিটসহ তিন কোম্পানি

রুকনুজ্জামান অঞ্জন

বিদেশে বিনিয়োগ করতে চায় সামিটসহ তিন কোম্পানি

বাংলাদেশের সামিট পাওয়ার, অনন্ত অ্যাপারেলস ও টেকআউট নামে তিনটি কোম্পানি বিদেশে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করে গত বছর বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রস্তাব পাঠায়। এর মধ্যে সামিট পাওয়ার লিমিটেড ভারতে, অনন্ত অ্যাপারেলস ইথিওপিয়ায় ও টেকআউট শ্রীলঙ্কায় বিনিয়োগের প্রস্তাব করে। বছরখানেক পেরিয়ে গেলেও এসব প্রস্তাবের বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তারা এ তিনটি প্রস্তাব অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে উপস্থাপনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠিয়ে দেয়। সূত্র জানান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ আবার বিনিয়োগ প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় পাঠানোর ব্যাখ্যা জানতে চেয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে চিঠি পাঠায়। সম্প্রতি তার জবাব দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দেশি কোম্পানির বিদেশে বিনিয়োগ প্রস্তাব নিয়ে এখন সরকারের মধ্যে চলছে এ ধরনের চিঠি চালাচালি। জানা গেছে, সামিট ভারতের তিনটি ইনল্যান্ড ওয়াটার টার্মিনাল পরিচালনার জন্য ৯৯ হাজার ৮০০ ভারতীয় রুপি সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা, অনন্ত অ্যাপারেলস ইথিওপিয়ায় গার্মেন্ট কারখানা স্থাপনের জন্য ৮ দশমিক ৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং টেকআউট শ্রীলঙ্কায় একটি অনাবাসি কোম্পানির শেয়ার কিনতে প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রা স্থানান্তরের জন্য গত বছরের বিভিন্ন সময় বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন করে। এরপর গত ৪ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে বাংলাদেশি উদ্যোক্তার বিদেশে বিনিয়োগ প্রস্তাব মূল্যায়ন কমিটির সভা হয়। ওই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৩টি বিনিয়োগ প্রস্তাব অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে উপস্থাপনের জন্য ২৫ সেপ্টেম্বর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠিয়ে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরপর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করে দেখে, একমাত্র অনন্ত অ্যাপারেলস ছাড়া সামিট গ্রুপ ও টেকআউট লিমিটেডের প্রস্তাবিত বিনিয়োগের পরিমাণ খুবই কম। এর মধ্যে সামিটের প্রস্তাবিত অর্থের পরিমাণ ১ লাখ ভারতীয় রুপির কম এবং টেকআউটের মূলধন বিনিয়োগের প্রস্তাব ছিল মাত্র ৫৫০ শ্রীলঙ্কান রুপি। এ ধরনের ক্ষুদ্রাকৃতির বিনিয়োগ প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য কেন পাঠানো হলো- এ বিষয়ে স্পষ্টীকরণ চেয়ে ২৮ অক্টোবর কেন্দ্রীয় ব্যাংকে উল্টো চিঠি পাঠায় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক আবার তার ব্যাখ্যা দিয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে চিঠি পাঠিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিয়োগ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এবং বাংলাদেশি উদ্যোক্তা কর্তৃক বিদেশে বিনিয়োগসংক্রান্ত প্রস্তাব মূল্যায়ন কমিটির সদস্যসচিব মো. আলী আকবর ফরাজী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘ফরেন এক্সচেঞ্জ রেগুলেশন অনুযায়ী স্থানীয় উদ্যোক্তাদের বিদেশে বিনিয়োগের বিষয়ে সরকারের পরামর্শ গ্রহণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে প্রস্তাবগুলো অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে উপস্থাপনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এ ছাড়া স্থানীয় উদ্যোক্তাদের কী পরিমাণ বিনিয়োগ প্রস্তাব বাংলাদেশ ব্যাংক নিজেই অনুমোদন দিতে পারবে সে বিষয়ে কোনো নির্দেশনাও নেই। এ কারণে ছোট-বড় সব প্রস্তাবই মন্ত্রিসভা কমিটির বিবেচনার জন্য পেশ করা হয়। তবে ক্যাপিটাল অ্যাকাউন্ট ট্রানজেকশন গাইডলাইন প্রণয়নের কাজ চলছে। ওই নীতিমালায় বাংলাদেশ ব্যাংক কী পরিমাণ অর্থের প্রস্তাব অনুমোদন দিতে পারবে তার উল্লেখ থাকবে।’ তখন আর দেশি কোম্পানির বিদেশি বিনিয়োগে এ ধরনের জটিলতা দেখা দেবে না বলে আশা প্রকাশ করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই কর্মকর্তা। উল্লেখ্য, ভারতে প্রস্তাবিত সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট ইস্টগেটওয়ে (ইন্ডিয়া) নামে একটি সাবসিডিয়ারি কোম্পানির অনুকূলে মূলধন বিনিয়োগের লক্ষ্যে বৈদেশিক মুদ্রা নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন জানিয়েছিল বাংলাদেশের সামিট পাওয়ার লিমিটেড ও সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট লিমিটেড কর্তৃক গঠিত সামিট কনসোর্টিয়াম। স্থানীয় প্রতিষ্ঠান অনন্ত অ্যাপারেলস লিমিটেড গার্মেন্ট ব্যবসা সম্প্রসারণে ইথিওপিয়ায় অনন্ত অ্যাপারেলস ম্যানুফ্যাকচারিং পিএলসি নামে একটি সাবসিডিয়ারি কোম্পানি স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছিল। কোম্পানিটি জানিয়েছিল, বিদেশে বিনিয়োগের জন্য প্রস্তাবিত অর্থ প্রতিষ্ঠানটির নিজের এবং তার দুটি সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান অনন্ত ক্যাজুয়াল উইয়ার লিমিটেড ও অনন্ত ডেনিম টেকনোলজি লিমিটেডের পরিচালিত এক্সপোর্টার্স রিটেনশন কোটা হিসাবের স্থিতি থেকে ইথিওপিয়ায় পাঠাবে। আর টেকআউট শ্রীলঙ্কায় যৌথ উদ্যোগে গঠিত টেকআউট লঙ্কা প্রাইভেট লিমিটেড নামে অনাবাসি একটি কোম্পানির ৫৫ শতাংশ শেয়ার ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংকে।


আপনার মন্তব্য