Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৭ জুন, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ জুন, ২০১৯ ২৩:১১

আপিল বিভাগের প্রশ্ন

ডিআইজি মিজান কেন গ্রেফতার হচ্ছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক

ডিআইজি মিজান কেন গ্রেফতার হচ্ছে না
ডিআইজি মিজান

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার কথা জানানোর পরও পুলিশ উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানকে কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না, তা জানতে চেয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। গতকাল একটি মামলার আপিল শুনানি চলাকালে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ দুদকের আইনজীবীকে এ প্রশ্ন করেছে। আপিল বিভাগ দুদকের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। এ সময় আদালতে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের তদন্ত করছে দুদক। দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা এনামুল বাসিরকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দেওয়ার কথা নিজেই বলেছেন ডিআইজি মিজান। গতকাল শুনানির সময় দুদকের আইনজীবীকে উদ্দেশ করে আদালত বলেছে, ‘আপনাদের একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে। এটা তো অ্যালার্মিং দেশের জন্য।’ দুদকের আইনজীবী বলেছেন, ‘তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’ তখন আদালত বলেছে, কিসের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছেন? আপনি শৃঙ্খলা ভঙ্গ আর তথ্য পাচারের জন্য ব্যবস্থা নিয়েছেন? ঘুষের কোনো অ্যালিগেশন আপনি নেননি, অ্যাকশন নেননি। কোনো কিছু করেননি।’ দুদকের আইনজীবী বলেন, ‘আমি বলেছি, ঘুষের জন্য অ্যাকশন নিতে হলে আমাকে একটু অনুসন্ধান করতে হবে। অনুসন্ধান করে আমাকে এফআইআর দায়ের করতে হবে। আইনের বাইরে তো আমি কোনো কিছু করতে পারব না।’ তখন আদালত বলে, ‘ডিআইজি মিজান কি দুদকের চাইতে বড়? তাকে তো আপনি অ্যারেস্ট করতে পারছেন না। এই মামলায় তাকে কেন অ্যারেস্ট করছেন না?’ জবাবে দুদকের আইনজীবী বলেন, ‘আমার যে লোক আমি তাকে সাসপেন্ড করেছি। আর যে মামলায় তার অ্যারেস্ট হওয়ার কথা, সে মামলাতে অলরেডি চার্জশিট মেমো অব অ্যাভিডেন্স দেওয়া হয়েছে এবং যিনি তদন্ত কর্মকর্তা তাকে নিয়ে একটা সমস্যা দেখা দিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে দুদক একটা অ্যাকশন নিয়েছে। এই তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে। নতুন একজন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সে নতুন করে কাজ শুরু করেছেন। বিষয়টি অত্যন্ত আইনানুগভাবে গুরুত্বসহকারে দুদক দেখছে। কোনো ব্যত্যয় ঘটবে না।’ ডিআইজি মিজান গত ৯ জুন একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে বলেন, তার কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন দুদক কর্মকর্তা বাসির। এর সপক্ষে তাদের কথোপকথনের কয়েকটি অডিও ক্লিপও টেলিভিশনকে দেন তিনি, যা প্রচারও হয়। অভিযোগ ওঠার পর তদন্ত কমিটি গঠনের পাশাপাশি বাসিরকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে দুদক। তবে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ একই সঙ্গে বলেছেন, ঘুষ দেওয়াও ফৌজদারি অপরাধের মধ্যে পড়ে।


আপনার মন্তব্য