শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২১ জুন, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ জুন, ২০১৯ ২৩:৩৫

নুসরাত হত্যার বিচার শুরু

ওসি মোয়াজ্জেম কারাগারে ডিভিশন চাইলেন

ফেনী প্রতিনিধি

নুসরাত হত্যার বিচার শুরু

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা মামলার অভিযোগ (চার্জ) গঠন হয়েছে। গতকাল ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে মামলার ১৬ আসামিকে হাজির করা হলে দীর্ঘ ৫ ঘণ্টা শুনানি শেষে এ মামলার চার্জ গঠন করা হয়। আগামী ২৭ জুন পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। এর আগে গত ২৯ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইর পরিদর্শক শাহ আলম ১৬ আসামির নাম উল্লেখ করে মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ৩০ মে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসেন মামলাটি পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য মামলার নথি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে হস্তান্তর করেন ১০ জুন মামলাটি আদালতের আমলে নেওয়া হয়। এদিন অভিযোগপত্রে নাম না থাকায় চার্জশিট থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়েছে নূর হোসেন, আলাউদ্দিন, কেফায়েত উল্যাহ জনি, সাইদুল এবং আরিফুল ইসলামকে।

মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আক্রামুজ্জামান জানান, ১৬ আসামির সবার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হয়েছে। আদালত আসামি পক্ষ ও বাদী পক্ষের শুনানি শুনেছে। ২৭ জুন থেকে এই মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হবে। প্রসঙ্গত, সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে নুসরাতকে যৌন হয়রানি করার অভিযোগ আনেন নুসরাতের মা শিরিন আক্তার।

এদিকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় কারাবন্দী ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেন ডিভিশন পাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। গতকাল ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে এ আবেদন করেন তার আইনজীবী মাসুমা আক্তার। পরে বিচারক মোহাম্মদ আস সামছ জগলুল হোসেন এ বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ২৪ জুন দিন ধার্য করেন। আবেদনে বলা হয়, এ আসামি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নবম গ্রেডের সরকারি কর্মকর্তা বিধায় তিনি বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির নাগরিক। এ কারণে আসামি কারাগারে ডিভিশন পাওয়ার হকদার। এর আগে ওসি মোয়াজ্জেমকে রবিবার হাই কোর্ট এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে আদালতে হাজির কারা হলে বিচারক জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠান। মামলা সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকা-ের শিকার মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির জবানবন্দির ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়ানো হয়। মার্চ মাসে নুসরাত তার মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ করার পর ওসি মোয়াজ্জেম তাকে থানায় ডেকে নিয়ে জবানবন্দি নিয়েছিলেন।

এর কয়েক দিনের মাথায় নুসরাতের গায়ে অগ্নিসংযোগ করা হলে তা নিয়ে সারা দেশে সমালোচনার ঝড় ওঠে। তখনই ওই জবানবন্দির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অগ্নিদগ্ধ নুসরাতের মৃত্যুর পর ১৫ এপ্রিল ওই ভিডিও ছড়ানোর জন্য ওসি মোয়াজ্জেমকে আসামি করে ঢাকায় বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। পরে বিচারক ওই অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)। এর ধারাবাহিকতায় পিবিআই যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে, সেখানে ওসি মোয়াজ্জেমের নিজের মোবাইল ফোনে জবানবন্দি রেকর্ড করার এবং তা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। পিবিআইর দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে বিচারক ২৭ মে মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। এর আগে হাসপাতালে নুসরাতের মৃত্যুর পর ওসি মোয়াজ্জেমকে প্রথমে সোনাগাজী থানা থেকে প্রত্যাহার করে রংপুর রেঞ্জে পাঠানো হয়। পরে পুলিশ বাহিনী থেকে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।    


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর