শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ জুলাই, ২০১৯ ২৩:৫৩

ডেঙ্গু নিয়ে দুই মেয়রের বক্তব্যে বিস্মিত হাই কোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক

ডেঙ্গু নিয়ে দুই মেয়রের বক্তব্যে বিস্মিত হাই কোর্ট

ডেঙ্গু ইস্যুতে দুই মেয়রের বক্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করে হাই কোর্ট বলেছে, ডেঙ্গু মহামারী আকার ধারণ করতে আর দেরি নেই। তারপরও ঢাকার দুই সিটি মেয়র কীভাবে বলেন, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই! ডেঙ্গু সংক্রান্ত এক আবেদনের শুনানিতে গতকাল বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চ এমন মন্তব্য করে। পরে ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ বা নিধনে অকার্যকর ওষুধ আমদানি, সরবরাহ ও কেনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। দ্রুত কার্যকর ওষুধ আমদানি করে তা ছিটানোর ব্যবস্থাও করতে বলেছে আদালত। আদেশ বাস্তবায়ন করে ২০ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে দুই সিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতে দুই সিটি করপোরেশনের প্রতিবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী নুরুন্নাহার নুপুর। রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। শুনানিতে সিটি করপোরেশনের আইনজীবীকে উদ্দেশ করে বিচারকরা বলেন, ডেঙ্গু মহামারী হতে আর বাকি নেই। মশার জন্য আমরা পদক্ষেপ নিতে বলেছিলাম, নেননি। আমরা কথা বললে তো বলেন বড় বড় কথা বলছি। ডেঙ্গুতে ২১-২২ জন মানুষ মারা গেছেন, তারপরেও সিটি করপোরেশন বলছে কিছু না। মেয়র বলেন আশঙ্কাজনক কিছুই হয়নি। ২১-২২ জন মানুষ মারা গেছেন, কয়েক হাজার মানুষ অসুস্থ, আচরণ চেঞ্জ করেন। আদালত বলে, ফেব্রুয়ারি থেকে ব্যবস্থা নিতে বলেছিলাম। তখন থেকে ব্যবস্থা নিলে আজ এমনটা হতো না। যার সন্তান মারা গেছে সেই বোঝে কষ্টটা কী। ছোটো ছোটো বাচ্চারা আক্রান্ত হচ্ছে। প্রতিদিন খবরে দেখছি, মানুষ মারা যাচ্ছে। এ সময় সিটি করপোরেশনের আইনজীবী বলেন, এগুলো দেখলে-পড়লে খারাপ লাগে। তখন বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারপতি বলেন, দুর্নীতিবাজদের খারাপ লাগে না। কারণ তারা বাড়িঘর দেশের বাইরে করে। তাদের ছেলেমেয়েরা দেশের বাইরে থাকে, ওইখানে পড়ালেখা করে। জরুরি ব্যবস্থা করেন। মশা মারার ওষুধে যদি কাজ না হয় তার মানে অকার্যকর ওষুধ কেনা হয়েছে। ওখানে দুর্নীতি হয়েছে। দুর্নীতি হয়ে থাকলে কারা কারা এর জন্য দায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন। এর আগে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে গত ২ জুলাইও উষ্মা প্রকাশ করে হাই কোর্ট। পরে আদালত ঢাকায় ডেঙ্গুসহ মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দুই সিটি করপোরেশনকে নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে দুই সিটি করপোরেশন কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, সেসব পদক্ষেপের কার্যকারিতা কী, সে বিষয়ে সিটি করপোরেশনের দুই মেয়র ও দুই প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে বাস্তবায়ন প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেয়। সেই প্রতিবেদন গতকাল আদালতে হাজির করা হয়।


আপনার মন্তব্য