শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ৩০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৯ অক্টোবর, ২০১৯ ২৩:০৭

কমিটি সংকটে যুব ও স্বেচ্ছাসেবক দল

মাহমুদ আজহার

কমিটি সংকটে যুব ও স্বেচ্ছাসেবক দল

পাঁচ সদস্যের আংশিক কমিটি দিয়ে প্রায় তিন বছর ধরে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে জাতীয়তাবাদী যুবদল। দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে সর্বশেষ ২০ অক্টোবর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নির্ধারিত সময়ে তারা তা করতে পারেননি। বরং ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত আরেক দফা সময় নেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। এ সময়ের মধ্যেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে অনেকেই সন্দিহান। কার্যত, যুবদলের শীর্ষ দুই নেতা সাইফুল আলম নীরব ও সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর দ্বন্দ্বে সংগঠনের নিয়মিত বৈঠকও হয় না। নীরব চান সংগঠনে যুবনেতা বেশি যুক্ত করতে। আর টুকু চান কমিটিতে বেশি সাবেক ছাত্রনেতাদের সমন্বয় ঘটাতে। এ নিয়ে কমিটি গঠনে দায়িত্বপ্রাপ্ত শীর্ষ পাঁচ নেতাও (সুপার ফাইভ) দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে আংশিক কমিটি দিয়ে মেয়াদ পার করল জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল। ২৭ অক্টোবর কমিটির তিন বছর মেয়াদ পূর্ণ হয়। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি এখন ‘অবৈধ’। তাদেরও ২৫ অক্টোবরের মধ্যে কমিটি গঠনের সময় বেঁধে দেন তারেক রহমান। কিন্তু শীর্ষ নেতারা নানা অজুহাত দেখিয়ে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর কমিটি গঠনে বিলম্ব করছেন।  অন্যদিকে ছাত্রদলের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ভোটে নির্বাচিত হলেও এক মাসেও তারা কমিটি গঠন প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেননি। ছাত্রদলের কমিটিতে অভিভাবক হিসেবে থাকা বিএনপি নেতারা প্রভাব বিস্তার করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে কমিটি গঠনে বিব্রত ছাত্রদলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। বিএনপির প্রধান তিনটি অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের ধীরগতিতে মাঠপর্যায়ের নেতারা হতাশ। ক্ষুব্ধ বিএনপির হাইকমান্ডও। শেষবারের মতো সময় নিয়ে কমিটি গঠন না করতে পারলে যুবদল-স্বেচ্ছাসেবক দল ভেঙে নতুন কমিটিও হতে পারে বলে বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে।

জানা যায়, বিএনপির অঙ্গ-সংগঠনের যেসব কমিটি ভেঙে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয় সেগুলোও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাউন্সিল করতে পারেনি। কবে নাগাদ কাউন্সিল হবে তা-ও কেউ বলতে পারছে না। মেয়াদোত্তীর্ণ সংগঠনগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়েও নেতারা রয়েছেন অন্ধকারে। এসব সংগঠনের মধ্যে রয়েছে কৃষক দল, তাঁতী দল, ওলামা দল ও মৎস্যজীবী দল। এ চারটি কমিটির সারা দেশে সাংগঠনিক ইউনিট কমিটি গঠনে জটিলতা নিরসনে পৃথক কমিটিও গঠন করে বিএনপি। তারপরও থমকে আছে কমিটি গঠন প্রক্রিয়া। এ ব্যাপারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘কমিটি গঠন একটি চলমান প্রক্রিয়া। প্রয়োজনে গড়া হবে, আবার প্রয়োজনে ভাঙাও হতে পারে। সারা দেশেই বিএনপির সাংগঠনিক জেলা ও কেন্দ্রের অঙ্গ সহযোগী সংগঠন পুনর্গঠন করা হচ্ছে। আমরা আশা করছি, শিগগিরই এসব পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শেষ হবে। এর মধ্যে আমাদের কারাবন্দী চেয়ারপারসনও মুক্তি পাবেন বলে আশা করছি। তাকে নিয়েই আমরা আমাদের জাতীয় কাউন্সিল করতে চাই।’ জানা যায়, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের কমিটিতে ঠাঁই পেতে পদপ্রত্যাশীরা এরই মধ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। অনেকেই ঢাকার প্রভাবশালী নেতাদের পাশাপাশি লন্ডনে অবস্থান নেওয়া তারেক রহমানের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করছেন। জেলা পর্যায়ের অনেক নেতাই কেন্দ্রীয় কমিটিতে ঠাঁই পেতে কেন্দ্রীয় নেতাদের বাসাবাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘ছাত্রদলের পর এবার যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি গঠনের পালা। আশা করছি, শিগগিরই এই দুটি সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে।’ যুবদল সূত্রে জানা যায়, যুবদলের ৮২টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে ৮০টিতে কমিটি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৬২টি জেলায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি। বাকিগুলো আংশিক কমিটি। সিলেট জেলা ও মহানগরে কমিটি হয়নি। দলের গঠনতন্ত্রে ২১১ সদস্যের কমিটি করার কথা বলা হয়েছে। তবে ২৭১ সদস্যের কমিটি গঠনের চিন্তাভাবনা করছে যুবদল। যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বিগত সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা যুব ও সাবেক ছাত্রনেতাদের দিয়েই কমিটি করা হবে। নানা প্রতিকূল পরিবেশেও কমিটি নিয়ে কাজ চলছে। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী  কমিটি গঠনে সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। স্বেচ্ছাসেবক দল সূত্রে জানা যায়, সংগঠনটির ৮১টি সাংগঠনিক জেলা রয়েছে। এর মধ্যে ৪৫টিতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়েছে। ৩০টি জেলায় আংশিক কমিটি। বাকি ছয়টি জেলায় নতুন করে কমিটি দেওয়া হবে। আংশিক কমিটিগুলোও দ্রুতই পূর্ণাঙ্গ করা হবে। যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের পর যত দ্রুত সম্ভব স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি দেওয়া হবে। এ প্রসঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, নানা কারণে যথাসময়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি। এখন আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে চাই। এদিকে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক ও ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনকে ঘিরে গত কয়েক দিন ধরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় এখন সরগরম। বিশেষ করে সকাল-বিকাল যুব, ছাত্র ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে মুখরিত হয় নয়াপল্টন কার্যালয়। তিনটি সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়েও নেতা-কর্মীরা বসছেন।  ২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। সাত সদস্যের কমিটিতে শফিউল বারী বাবুকে সভাপতি ও আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েলকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। আর ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি সাইফুল আলম নীরবকে সভাপতি আর সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে সাধারণ সম্পাদক করে পাঁচ সদস্যের যুবদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। দুই সংগঠনকেই এক মাসের সময়সীমা দিয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে কেন্দ্রীয় অনুমোদনের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে কাউন্সিলে প্রত্যক্ষ ভোটে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি পদে ফজলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন ইকবাল হোসেন।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর