শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২৩:৩৭

ঢাকা

একেক বাজারে একেক দাম

আকতারুজ্জামান ও নাসিমুল হুদা

একেক বাজারে একেক দাম

রাজধানী ঢাকায় গত এক মাসে বিভিন্ন বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে আছে চাল, খোলা আটা, ময়দা, ভোজ্যতেল, সরু দানার মসুর ডাল, রসুন, জিরা, দারুচিনি, শুকনা মরিচ, হলুদ, আলু ও চিনির মতো পণ্যগুলো। তবে ঢাকার বিভিন্ন বাজারে এসব পণ্য ভিন্ন দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে। পিয়াজের ক্ষেত্রে বাজার ভেদে এমনকি দোকান ভেদে বিভিন্ন দাম রাখা হচ্ছে। খুচরা বাজারে খেয়ালখুশিমতো দামে পিয়াজ বিক্রি করছেন দোকানদাররা।

গতকাল ঢাকার হাতিরপুল কাঁচাবাজারে প্রতি কেজি চাল মিনিকেট ৫০-৫৫ টাকা, মোটা ৩০-৩৫ টাকা, প্রতি কেজি মসুর ডাল ১২০ টাকা, খেসারি ৮০ টাকা, সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি ১০০ টাকা, প্রতি কেজি পিয়াজ দেশি ২৫০ টাকা, বার্মা ১৬০ টাকা, প্রতি কেজি মরিচ ১২০ টাকা, প্রতি কেজি আদা ১৬০ টাকা, প্রতি কেজি রসুন ১৬০ টাকা, প্রতি কেজি আলু ৩৫ টাকা, প্রতি কেজি পটোল ৬০ টাকা, প্রতি কেজি বেগুন বিলাতি ৬০ টাকা, লম্বা ৪০ টাকা, প্রতি কেজি শিম ৬০ টাকা, প্রতি কেজি টমেটো ১০০ টাকা, প্রতি কেজি করলা ৭০ টাকা, প্রতি কেজি শসা ৬০ টাকা, লেবু (প্রতি পিস) ১০ টাকা, ফুলকপি (প্রতি পিস) ৩০ টাকা, বাঁধাকপি (প্রতি পিস) ৫০ টাকা, লাউ (প্রতি পিস) ৫০ টাকা, গাজর (কেজি) ৮০ টাকা, মুলা (কেজি) ৪০ টাকা, ঢেঁড়স (কেজি) ৬০ টাকা।

শান্তিনগর বাজারে সরেজমিন দেখা গেছে, দেশি পিয়াজের সরবরাহ কম। মাত্র তিন-চারটি দোকানে দেশি পিয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। প্রতি কেজি দেশি এ বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২৬০ টাকায়। এছাড়া বার্মিজ পিয়াজ প্রতি কেজি ২২০ টাকা ও চায়না পিয়াজ ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ভোক্তারা অল্প পরিমাণে হলেও দেশি পিয়াজই কিনছেন। কাকরাইল থেকে বাজার করতে আসা গৃহিণী আসমাউল হুসনা জানান, বার্মিজ ও চায়না পিয়াজ আকারে অনেক বড়। এক রান্নায় পুরো পিয়াজ প্রয়োজন হয় না। তাই এটি কিনছেন না তিনি। শান্তিনগর বাজারে নতুন আলু ৮০ টাকা, পুরনো ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, বেগুন ৫০ থেকে ৬০ টাকা, টমেটো প্রতি কেজি ১০০ টাকা, গাজর ৬০ টাকা, ফুলকপি প্রতি পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকা, রসুন ১৫০ টাকা, প্রতি কেজি আদা ১৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। দেশি মসুর ডাল ১১০ থেকে ১১৫ টাকা, নেপালি ১২৫ টাকা ও ইন্ডিয়ান মসুর ডাল প্রতি কেজি ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি ২ কেজি আটা (প্যাকেট) ৬৫ টাকা, প্রতি ২ কেজি ময়দা (প্যাকেট) ৯০ টাকা, শুকনা মরিচ প্রতি কেজি ৩০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। বাজারে প্রতি কেজি শিম ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, সরকারের উচিত নিত্যপণ্যের বাজারে দাম সহনীয় করতে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নিয়মিত পর্যালোচনা করা উচিত। পাশাপাশি কঠোর নজরদারি থাকা উচিত। এ বিষয়ে প্রতিযোগিতা কমিশন উদ্যোগ ও সহযোহিতা করতে পারে। ক্যাব সভাপতি আরও বলেন, নিত্যপণ্য মূল্যের ঊর্ধ্বগতি অশনিসংকেত। সরকারের উচিত কঠোর মনিটরিংয়ের মাধ্যমে এখনই বাজার নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা। তিনি বলেন, পিয়াজ ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারার কারণেই নিত্যপণ্যের অন্য ব্যবসায়ীরা এখন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বলেন, পিয়াজের বাজার লাগামহীন। চালসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যও বেহাল। পিয়াজ ছাড়া অন্য নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। গোলাম রহমান বলেন, প্রতিটি সাধারণ মানুষ যেন কম দামে চাল কিনতে পারে সেজন্য সরকারের খোলা বাজারে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি বলেন, নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি, মাছ-মাংস, দুধ-ডিম ও ফলমূলে ক্ষতিকর রাসায়নিক ও ভেজাল মেশানোর বিষয়ে বর্তমান সরকার বেশ কিছু আইন করেছে। রাসায়নিকের ব্যবহার রোধ করার জন্য আইন করা হয়েছে। নিরাপদ খাদ্য আইন তো আছেই। তিনি বলেন, আমাদের দেশে অনেক আইন আছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে মূল সমস্যা হলো, বাস্তবায়ন করার জন্য যে কর্তৃপক্ষ আছে, তাদের সক্ষমতার বিষয়টি। কাজেই তাদের শক্তিশালী করতে হবে এবং তারা যদি সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে তবে সুফল পাওয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে ভোক্তাদের সচেতন হতে হবে সবার আগে। তিনি বলেন, ভোক্তারা হলেন সবচেয়ে বড় ইকোনমিক গ্রুপ। সমস্যা হলো, গ্রুপ যত বড় হয়, তারা তত অসংগঠিত হয় এবং এজন্যই আমরা যারা ভোক্তা, তারা অসংগঠিত। আমাদের পক্ষে কথা বলার বা আমাদের স্বার্থরক্ষায় কাজ করার লোকও কম। আমরা প্রতিবাদীও হই না। এ ছাড়া ভোক্তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থ ও দলগত স্বার্থ দুটির মধ্যে দ্বন্দ্ব আছে। ব্যক্তিস্বার্থ হলো, যখন দাম সহনীয় পর্যায়ে থাকে তখন বেশি পণ্য কিনি। ব্যক্তিগতভাবে সবাই যদি বেশি কেনা শুরু করে, তবে বাজারে বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়। ফলে দাম বেড়ে যায়। কারণ সরবরাহের ওপরই মূলত বাড়তি চাপটা পড়ে।

অপরিপক্ব পিয়াজ বিক্রি নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন : কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আবদুর রাজ্জাক বলেছেন, বাংলাদেশে পর্যাপ্ত চাল রয়েছে। চাল নিয়ে কারও উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। চালের বাজার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আছে। তবে অপরিপক্ব অবস্থায় নতুন পিয়াজ বিক্রি নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন। গতকাল রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউর সেচ ভবনে কৃষকের বাজারজাত করা সবজির হাট ‘কৃষকের বাজার’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। বাজারে পিয়াজের ঊর্ধ্বমূল্যের পরিপ্রেক্ষিতে কৃষক পর্যায়ে ছোট ছোট পিয়াজ উঠিয়ে ফেলায় সরকার উদ্বিগ্ন বলে জানান কৃষিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, পিয়াজ এখনো বড় হয়নি। আরও অনেক বড় হওয়া দরকার। আমরা এটা নিয়ে শঙ্কিত। সব ছোট ছোট পিয়াজ বিক্রি করে দিচ্ছে। জানুয়ারিতে কী উপায় হবে? পিয়াজের উৎপাদন তো কমে যাবে। এ বছর পিয়াজের দাম বেশি থাকায় আগামী বছর দেশে অনেক বেশি পিয়াজ উৎপাদন হতে পারে বলে ধারণা করেন তিনি। এতে পরবর্তী বছর কৃষক পিয়াজের ন্যায্যমূল্য পাবেন কিনা তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর