শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:১১

চীন থেকে ফিরছেন ৩৬১ বাংলাদেশি হজক্যাম্পে রাখা হবে ১৪ দিন

করোনাভাইরাস ছড়িয়েছে ২২ দেশে, মৃত বেড়ে ২১৩, আক্রান্ত ৯ হাজার ৭০৯, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার জরুরি অবস্থা

জয়শ্রী ভাদুড়ী

চীন থেকে ফিরছেন ৩৬১ বাংলাদেশি হজক্যাম্পে রাখা হবে ১৪ দিন

করোনাভাইরাস আক্রান্ত চীনের উহান থেকে ফিরে আশকোনা হজক্যাম্পের ডরমেটরিতে থাকবেন ৩৬১ জন। ১৪ দিন নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য হজক্যাম্পের চারটি ডরমেটরিতে রাখা হবে তাদের। উহান থেকে দেশে ফেরার পর সতর্কতার সঙ্গে তাদের সরাসরি সেখানে নিয়ে যাওয়া হবে।

ছুটি শেষে ফেরায় বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি ও তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৫ চীনা কর্মীকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পটুয়াখালী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে খোলা হয়েছে বিশেষ স্বাস্থ্য ক্যাম্প। এর মধ্যেই করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে ২২টি দেশে। প্রতিদিন বাড়ছে রোগীর সংখ্যা, আক্রান্ত হচ্ছে নতুন দেশ। গতকাল পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৯ হাজার ৭০৯ জন, মারা গেছেন ২১৩ জন। এ পরিস্থিতিতে করোনাভাইরাস নিয়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চীন থেকে ৩৬১ জনকে আনতে বিশেষ বিমানটি ছেড়ে গেছে গতকাল বিকাল ৫টায়। বিমানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সেনাবাহিনীর ৪-৫ জন ডাক্তার আছেন। বিমানে থাকবে মাস্ক, গাউন, ওষুধসহ যাবতীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা। রাত ৯টায় বিমানটি উহান তিয়ান্যে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছয়। ঢাকায় আসার পর তাদের বিশেষ ব্যবস্থায় বিমানবন্দর থেকে হজক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হবে। সে জন্য একটি কোর টিমও তৈরি করা হয়েছে। পর্যবেক্ষণের জন্য আইসোলেশন ইউনিট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গত মধ্যরাতে তাদের দেশে ফেরার কথা। উহান থেকে ফেরা বাংলাদেশিদের মধ্যে দুটি শিশুর বয়স দুই বছরের নিচে।

দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, হজক্যাম্পের তৃতীয় তলার চারটি ডরমেটরিতে ৩৬১ জনকে রাখা হবে। প্রতিটি ডরমেটরিতে ১০০ জনের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে বিছানা, চাদর, বালিশ, মশারি, ওষুধ, পানি, লাইট, টয়লেট থাকবে। সকাল ও বিকালের নাস্তাসহ পাঁচ বেলা খাবারের ব্যবস্থা থাকবে। শিশু ও নারীদের জন্যও থাকছে আলাদা খাবার ও থাকার ব্যবস্থা।

যারা এখানে সেবা দেবেন তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সর্বোচ্চ সুরক্ষা গ্রহণ করে তারা সেবাসহ সার্বিক কাজ করবেন। এ ছাড়া হজক্যাম্পে একটি অফিস থাকবে যার মাধ্যমে সব কিছু পরিচালিত হবে। পুরো প্রক্রিয়ার মধ্যে নিরাপত্তার জন্য পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবি থাকবে। হজক্যাম্পে থাকা অবস্থায় কেউ অসুস্থ হলে তাকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেওয়া হবে। উহান থেকে বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে গতকাল হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জের কনফারেন্স রুমে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এবং দুর্যোগ ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান। এর আগে তিন মন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করেন। এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘যারা দেশে আসবেন তাদের আত্মীয়-স্বজনরা দেখা করার জন্য ব্যাকুল হয়ে রয়েছেন। আমরাই তাদের সময়মতো খবর দেব। আমরা চাই তারা আসার পর হজক্যাম্পে যেন কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়। আমরা যেমন নাগরিকদের আনতে প্রস্তুত, তেমনি এটাও দেখার দায়িত্ব যে কেউ সংক্রমিত হলে তা যেন ছড়িয়ে না পড়ে। দেশের নিরাপত্তা সবচেয়ে আগে।’ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আবদুল মোমেন বলেন, আমরা এখন শুধু উহান সিটিতে থাকা বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনার কাজ করছি। বাকি শহরগুলোতে যারা আছে তাদের আপাতত ফিরিয়ে আনার কোনো পরিকল্পনা নেই। দুর্যোগ ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান বলেন, আমরা আমাদের কাজ করে যাচ্ছি। এ জন্য ৪টি কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। সেই কমিটির সদস্যরা ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করবেন। উহান থেকে ফিরতে পেরে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন ইমসিয়াত শরীফ নামের এক শিক্ষার্থী। তিনি লিখেছেন, ‘উহানে আট দিন অবরুদ্ধ থাকার পর আজ দেশে ফিরছি। প্রধানমন্ত্রীর দ্রুত সিদ্ধান্তের কারণে আমরা ফিরতে পারছি।’

করোনাভাইরাস আক্রান্ত ২২ দেশ : সেন্টারস ফর ডিজিস অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ২২টি দেশে করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। তারা সবাই উহান ভ্রমণ করেছেন। আক্রান্ত এবং মৃতের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ায় জরুরি অবস্থা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি ও তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচ চীনা কর্মী পর্যবেক্ষণে : ছুটি শেষে চীন থেকে বাংলাদেশে আসা দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির পাঁচজন কর্মীকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক ও কোম্পানি সচিব আমজাদ হোসেন জানান, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির উৎপাদনে নিয়োজিত চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এক্সএমসি-সিএমসি কনসোর্টিয়ামের অধীনে প্রায় ৩০০ চীনা নাগরিক বিভিন্ন পদে খনিতে কর্মরত। তাদের মধ্যে কিছু শ্রমিক ছুটি কাটাতে দেশে গিয়েছিলেন। সম্প্রতি পাঁচজন কর্মী কয়লা খনিতে ফিরে আসেন। সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তাপবিদুৎ কেন্দ্র প্রকল্পে প্রায় ৭০ চীনা নাগরিকের ছুটি বাতিল এবং যারা চীনে গেছেন তাদের বাংলাদেশে আসা বন্ধ করে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দিনাজপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবদুল কুদ্দুছ জানান, চীনের ৫ কর্মীকে কয়লা খনির অভ্যন্তরের হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তবে তাদের মধ্যে এখনো করোনাভাইরাসের লক্ষণ পাওয়া যায়নি।

পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে স্বাস্থ্য ক্যাম্প : পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কর্মরত চীনা নাগরিকদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্প চালু করা হয়েছে। পটুয়াখালী স্বাস্থ্য বিভাগ ও তাপবিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ করোনাভাইরাস সচেতনতায় এ উদ্যোগ নিয়েছে। পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে একটি ইউনিট এবং কলাপাড়া হাসপাতালে দুটি কেবিন প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। জানা গেছে, পটুয়াখালীতে চলমান মেগা প্রকল্পে কয়েক হাজার চীনা শ্রমিক কাজ করছেন। শুধু পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রেই কর্মরত আছেন প্রায় ২ হাজার ৪০০ জন। এ ছাড়া নির্মাণাধীন পায়রা সেতুসহ বিভিন্ন প্রকল্পে আরও কাজ করছে প্রায় ছয় হাজার চীনা শ্রমিক। পটুয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম, কলাপাড়ার স্বাস্থ্য প্রশাসক ডা. চিন্ময় হাওলাদারসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা সেখানে করোনাভাইরাসের করণীয় সম্পর্কে আলোচনা করেন। পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী রেজওয়ান ইকবাল খান বলেন, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অভ্যন্তরে তিনজন চিকিৎসকের সমন্বয়ে চালু করা হয়েছে বিশেষ স্বাস্থ্য ক্যাম্প। আপাতত কোনো চীনা নাগরিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আসবে না।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর