শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২৩:২৯

চট্টগ্রাম মেডিকেলে তৈরি হচ্ছে বিষধর সাপের প্রতিষেধক

রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম মেডিকেলে তৈরি হচ্ছে বিষধর সাপের প্রতিষেধক

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে তৈরি হচ্ছে বিষধর সাপের প্রতিষেধক (অ্যান্টিভেনম)। দেশে প্রথমবারের মতো তৈরি হওয়া এ প্রতিষেধক ২০২২ সালে চূড়ান্তভাবে বাজারে আসার কথা। এ প্রতিষেধক তৈরিতে পোষা হচ্ছে নয় প্রজাতির ১২০টি সাপ। এজন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের (চমেক) পুরনো ভবনের নিচে সুতপা লেকচার গ্যালারিতে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে পৃথক গবেষণাগার। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) প্রাণিবিদ্যা বিভাগ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগ, মেডিসিন টক্সিকোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ফর অ্যাডভান্স মেন্টর ট্রপিক্যাল মেডিসিন ও জার্মানির গ্যাটে বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিশেষজ্ঞ প্রতিষেধক তৈরিতে কাজ করছেন। জার্মানি থেকে জীববিজ্ঞানীরা এসে নিজেদের নিরাপদ রেখে বিষধর সাপ ধরা ও সাপগুলোকে খাইয়ে সুস্থভাবে বাঁচিয়ে রাখার জন্য প্রশিক্ষণ দিয়ে গেছেন। বর্তমানে কাজ করছেন দেশি-বিদেশি ১৮ জন। এর মধ্যে আছেন সাপ গবেষক জার্মানির ড. উরলিচ কুচ ও কোস্টারিকার আলজোশথ ক্রেস, দেশের চারজন প্রধান গবেষক, চারজন সহকারী গবেষক, কনসালট্যান্ট, সমন্বয়ক ও কো-ইনভেস্টিগেটর। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, বর্তমানে বিষধর সাপের প্রতিষেধক আনতে হয় ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে। স্বাস্থ্য অধিদফতর প্রতিষেধকের বিদেশনির্ভরতা কমাতে ২০১৮ সালের মার্চে দেশে অ্যান্টিভেনম তৈরির পাঁচ বছর মেয়াদি ৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করে। প্রথমে গবেষণাগারে ক্রেইট, গোখরাসহ বিষধর ১২টি সাপ সংগ্রহ করা হয়। দুই মাসের মাথায় তিনটি ক্রেইট ৩৮টি বাচ্চা ফোটায়। পর্যায়ক্রমে নয় প্রজাতির ১২০টি সাপ হয়। গবেষণাগারের ৩৬টি বক্সে রাখা হয়েছে এসব সাপ ও সাপের বাচ্চা। ২০২২ সালের মার্চে প্রকল্পের মেয়াদ শেষে প্রতিষেধক বাজারে আসার কথা।

ল্যাবরেটরিতে গিয়ে দেখা গেছে, মনোসেলেট কোবরা, বিনোসেলেট কোবরা, বানডেড ক্রাইট, ডব্লিউএলপি ভাইপার, এসটিপি ভাইপার, রাসেল’স ভাইপার, জি ব্ল্যাক ক্রাইট, কমন ক্রাইট, লাল গলার কিলব্ল্যাক সাপ চমেকের পুরনো একাডেমিক ভবনের নিচতলার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত একটি ল্যাবে পোষা হচ্ছে। ঢাকনাযুক্ত প্লাস্টিকের বড় বড় বাক্সে রাখা হয়েছে সাপগুলো। প্রতিটি বাক্সে একটি করে সাপ। অনেক সাপ ফণাও তুলছে। প্রতিটি বাক্সে লেখা রয়েছে সাপগুলোর পরিচিতি। খাবার হিসেবে দেওয়া হয়েছে ইঁদুর, মুরগির মাংস ও সাপ। সাপের খাবার হিসেবে সরবরাহে ওই কক্ষে কাচঘেরা জায়গায় পালন করা হচ্ছে ইঁদুর।

চমেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. অনিরুদ্ধ ঘোষ বলেন, ‘এটি দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনামতে কাজ করা হচ্ছে। সংস্থাটির প্রতিনিধিরা অ্যান্টিভেনম তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ ও ভেনম রিসার্চ সেন্টার পরিদর্শন করে গেছেন। নির্দিষ্ট রোডম্যাপ ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ধাপে ধাপে পরীক্ষামূলক অ্যান্টিভেনম তৈরি করে তা বিভিন্ন প্রাণীর ওপর প্রয়োগ করা হবে। সফলতা পেলে মানবদেহে প্রয়োগ করা হবে। আশা করছি, নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।’


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর