শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২৩:০৮

দ্রব্যমূল্য নিয়ে বাণিজ্যকে সতর্ক করে স্বরাষ্ট্রের প্রতিবেদন

করোনার অজুহাতে পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা

রুকনুজ্জামান অঞ্জন

করোনার অজুহাতে পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা

পণ্যের ঘাটতি না থাকা সত্ত্বেও বাজার অস্থিতিশীল হওয়ার নেপথ্যে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীর কারসাজি, বাজার মনিটরিংয়ে শিথিলতা এবং সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে স্বার্থান্বেষী মহলের অপতৎপরতাকে দায়ী করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটি প্রতিবেদন পাঠিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ওই প্রতিবেদনে সতর্ক করে দিয়ে বলা হয়েছে, বাজারে চাল, পিয়াজ, চিনি, ডাল, মসলাজাতীয় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধিতে ক্রেতাদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দ্রব্যমূল্যের চলমান ঊর্ধ্বগতির প্রবণতা রোধ করা না গেলে আগামী রমজান মাসে নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ কষ্টসাধ্য হবে। এর ফলে ভোক্তা সাধারণ দুর্ভোগের শিকার হলে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হবে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ১৩ ফেব্রুয়ারি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো ওই প্রতিবেদনে চীনের করোনাভাইরাসকে পুঁজি করে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে বলা হয়, অসাধু ব্যবসায়ীরা চীনে করোনাভাইরাসের কারণে আমদানি বন্ধ রয়েছে বলে প্রচার করছে। আর সেটিকে অজুহাত দেখিয়ে নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দেওয়ার মতো অপতৎপরতা চালাচ্ছে। এ অবস্থায় রমজান মাস সামনে রেখে প্রয়োজনে সরকার ভর্তুকি দিয়ে টিসিবির মাধ্যমে ভোগ্যপণ্য আমদানির ব্যবস্থা না নিলে বাজার স্বাভাবিক রাখা কষ্টসাধ্য হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পিয়াজের সংকট নিয়ে সতর্ক করে দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এখনই উদ্যোগ না নিলে রপ্তানিকারক দেশগুলো থেকে পণ্যটি বাংলাদেশে আসতে যে সময়ের প্রয়োজন, তাতে সরবরাহ ঘাটতির পাশাপাশি জনমনে অহেতুক আতঙ্ক দেখা দিতে পারে। এতে রমজান মাসে বাজার দর আরও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে। পিয়াজের সরবরাহ ও মূল্য নিয়ন্ত্রণে ভারতের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে মিসর, তুরস্ক, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ডসহ অন্যান্য রপ্তানিকারক দেশ থেকে চাহিদা অনুযায়ী বেসরকারিভাবে আমদানির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আমদানিকারকরা যাতে দ্রুত পণ্য আমদানি করতে পারেন, সে জন্য তাদের ব্যাংকিং সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে বিগত ১০ দিনে কয়েকটি পণ্যের দাম বাড়ার তথ্য দিয়ে বলা হয়, আলোচ্য সময়ে খুচরা বাজারে চালের দাম কেজিপ্রতি ৩ থেকে ৮ টাকা, ডাল ১০ থেকে ১৫ টাকা, পিয়াজ ও রসুন ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ভোজ্যতেল ৮ থেকে ১০ টাকা এবং চিনি ৩ থেকে ৪ টাকা বেড়েছে। আমদানিকারক ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা এ মূল্য বৃদ্ধির কারণ হিসেবে দেশে উৎপাদিত কিছু পণ্যের ঘাটতি এবং আমদানি পণ্যের ক্ষেত্রে রপ্তানিকারক দেশ কর্তৃক বুকিং রেট বা রপ্তানি মূল্য বাড়িয়ে দেওয়ার অজুহাত দিলেও বাজারে পণ্যের যথেষ্ট সরবরাহ রয়েছে বলে উল্লেখ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক রাখতে স্বরাষ্ট্রের ওই প্রতিবেদনে বাজার পরিস্থিতি, পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শ ছাড়াও বেশ কিছু সুপারিশ ছিল, যেগুলো হচ্ছে- টিসিবিকে কার্যকর করা, নিয়মিত বাজার মনিটরিং, আমদানি পণ্যের এলসি মার্জিন ও শুল্ক কমানো, মজুদদারির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং গণমাধ্যমে নেতিবাচক সংবাদ পরিবেশনে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া। দ্রব্যমূল্য নিয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন বলেন, তার মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২৮টি বাজার মনিটরিং টিম রাজধানীসহ সারা দেশে নিয়মিত বাজার পরিদর্শন করছে। এমনকি পিয়াজ-রসুনসহ মসলাজাতীয় পণ্যের দাম বাড়ার কারণ জানতে যেসব জেলায় এসব পণ্য উৎপাদিত হয় সেখানেও মন্ত্রণালয় থেকে কর্মকর্তা পাঠিয়ে পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। করোনাভাইরাসের প্রভাব সম্পর্কে সচিব জানান, চীনের সঙ্গে নিত্যপণ্যসহ সামগ্রিক আমদানি-রপ্তানি পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে তিনি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করছেন। গতকাল সকালেও তিনি ব্যবসায়ীদের নিয়ে বৈঠক করেন বলে জানান। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় চীনের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু হচ্ছে। নিত্যপণ্য ও শিল্পের কাঁচামাল যাতে বন্দরে আসার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত খালাস করা হয় এ জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া করোনার অজুহাত তুলে যাতে ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম না বাড়ান সে বিষয়েও সতর্ক করে দিয়ে এরই মধ্যে চিঠি দেওয়া হয়েছে। রমজান সামনে রেখে পণ্যের মূল্য স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণের কথা জানিয়ে ড. জাফর উদ্দীন বলেন, ‘আমরা কয়েকটি বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। এর মধ্যে যেসব পণ্যের চাহিদা বাড়ে সেগুলো টিসিবির মাধ্যমে আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি আমদানিকারকদেরও পণ্য আমদানির বিষয়ে উৎসাহ ও সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। বাজারে নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া অতি মুনাফা ঠেকাতে আমদানি মূল্য ও বিক্রয় মূল্যের তালিকা রাখার নির্দেশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। উপরন্তু দেশব্যাপী ভোক্তা অধিকার, ভ্রাম্যমাণ আদালতসহ বাজার মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।’


আপনার মন্তব্য