শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৬ মার্চ, ২০২০ ২৩:১৫

গুলশানের বাসায় খালেদা জিয়া, দেখা সাক্ষাৎ বন্ধ

মাহমুদ আজহার

গুলশানের বাসায় খালেদা জিয়া, দেখা সাক্ষাৎ বন্ধ

সদ্য কারামুক্ত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বাসায় কেবল চিকিৎসকদের যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। দলের নেতা-কর্মীদের আপাতত বাসায় আসতে নিষেধ করা হয়েছে পরিবারের পক্ষ থেকে। অন্তত ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। এ সময়ের মধ্যে বড় কোনো সমস্যা না হলে হাসপাতালেও যাবেন না তিনি। সংশ্লিষ্টদের তিনি এ কথা জানিয়ে দিয়েছেন। গতকাল বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও ডা. মামুন। এর বাইরে পরিবারের সদস্যরা এসে খোঁজখবর নিয়ে যান। কোনো নেতা দেখা করতে যাননি বেগম জিয়ার বাসভবনে। এর আগে বুধবার রাতে বেগম জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিএনপিপন্থি চিকিৎসকদের একটি প্রতিনিধি দল ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। পরে বিএনপি মহাসচিব গণমাধ্যমকে জানান, আমরা শুধু ম্যাডামের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি। তিনি খুব অসুস্থ। চিকিৎসকরা তাঁকে দেখছেন। তাঁর চিকিৎসার ব্যাপারটা নিশ্চিত করার ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। কিছু দিন ম্যাডামকে চিকিৎসকরা কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। এ সময়ের মধ্যে যেন অন্য কেউ দেখা-সাক্ষাৎ না করে সেসব বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছি। এ সময় আমরা রাজনৈতিক কোনো আলোচনা করিনি। স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করেছেন, শুকরিয়া আদায় করেছেন যে, তিনি ফিরে এসেছেন বাসায়। বিএনপি চেয়ারপারসন কেমন আছেন জানতে চাইলে বেগম জিয়ার সেজো বোন সেলিনা ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, ‘বেগম খালেদা জিয়া এখনো খুব অসুস্থ। খুব একটা কথাবার্তা বলতে পারছেন না। আমরা সবাই, আমার ভাই, ভাইয়ের স্ত্রী ও তার ছেলে সবাই তাঁর সঙ্গে আছি এখানে। তাঁর সার্বক্ষণিক দেখভাল করছি।’ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিএনপি নেতারা ও চিকিৎসক প্রতিনিধি দল চলে যাওয়ার পর বেগম জিয়া লন্ডনে থাকা তাঁর বড় ছেলে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও দুই পুত্রবধূ এবং নাতনিদের সঙ্গে কথাবার্তা বলেন। এরপর রাতে খাবার খেয়ে ঘুমাতে যান তিনি। এরপর সকালে নাস্তা খাওয়ার পর ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও ডা. মামুনকে ডেকে পাঠান তিনি। তারা এসে ডায়াবেটিকস ও  রক্তচাপ মেপে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যান। পর্যায়ক্রমে খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার ও তার স্ত্রী এবং বেগম জিয়ার সেজো বোন সেলিনা ইসলামও শারীরিক খোঁজখবর নিতে যান। বেগম জিয়ার একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, আপাতত নিজের চিকিৎসা ও করোনাভাইরাস থেকে সতর্ক অবস্থানেই থাকবেন বিএনপি চেয়ারপারসন। রাজনীতি নিয়ে কোনো আলাপ-আলোচনা থেকে দূরে থাকবেন তিনি। জরুরি কোনো প্রয়োজন না হলে দলের সিনিয়র নেতাদেরও ডাকবেন না তিনি। এ সময়ে বিদেশি কোনো রাষ্ট্রদূত বা কর্মকর্তাদের সঙ্গেও দেখা দেবেন না বেগম জিয়া। শুধু পারিবারিক পরিবেশেই সময় কাটাবেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। পরিস্থিতির উন্নতি হলে পরে রাজনীতি নিয়ে নেতাদের সঙ্গে সলাপরামর্শ করবেন বিএনপিপ্রধান। একই সঙ্গে স্থায়ী জামিন পেতে আইনিভাবেও লড়ে যাবেন তিনি। এদিকে দুই দিন ধরে বেগম জিয়ার ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় গঠিত চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্সের (সিএসএফ) সাত সদস্যকে পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। আগে বেগম জিয়ার বাসভবনে পুলিশের একটি টিম অবস্থান করলেও এখন তাদের দেখা যায়নি। তবে দু-এক দিনের মধ্যেই পুলিশের একটি গ্রুপ বেগম জিয়ার বাসভবনের সামনে অবস্থান নেবেন বলে জানা গেছে। বাসায় নিয়োজিত কাজের লোকজনও চলে গিয়েছিল। তাদেরও ডেকে আনা হয়েছে। গত মঙ্গলবারই বেগম জিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় বাজার করে আনা হয়। সামগ্রিক বিষয় তদারকি করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপির একটি উচ্চ পর্যায়ের সূত্রে জানা যায়, সরকারের নির্বাহী আদেশে ২ বছর ১ মাস ১৬ দিন পর কারাজীবন থেকে সাময়িক মুক্তিলাভ করেও ‘আনহ্যাপি’ নন বেগম জিয়া। তবে তিনি নিজের দোষ স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনায় রাজি ছিলেন না। বেগম জিয়া আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্তির পক্ষে সব সময় অবস্থান নিয়েছিলেন। এ প্রক্রিয়াটিও ফৌজদারি বিধির ৪০১ নম্বর ধারায় তিনি সরকারের নির্বাহী আদেশে মুক্তি পেয়েছেন। দল ও আইনজীবীরা এরপর তাঁর স্থায়ী জামিনের সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবেন বলে জানা গেছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘আমরা ভীষণভাবে স্বস্তিবোধ করছি এবং খুশিও। আমাদের চেয়ারপারসন নিজের বাড়িতে অন্তত ফিরে এসেছেন। আমরা বিশ্বাস করি, তিনি মানসিক ও শারীরিকভাবেও সুস্থ হয়ে উঠবেন। এখন তাঁর পছন্দের চিকিৎসকরা দেখভাল করছেন। তিনি এখন রাজনীতি নিয়ে কোনো কথা বলবেন না। আমরা চাই না তিনি এখন রাজনীতি নিয়ে কথা বলুন। তিনি সুস্থ হয়ে উঠুন এটাই আমাদের কামনা। তিনি যদি চান, তাহলে যাব, না হলে কেউই ওখানে যাবে না। ’


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর