শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৬ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০১

প্যাকেজের আওতায় আনা হয়েছে প্রত্যেককে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্যাকেজের আওতায় আনা হয়েছে প্রত্যেককে

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, দেশের সব মানুষকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত প্যাকেজের আওতায় আনা হয়েছে। দেশের বড় ও ছোট সব ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র দোকানদার, কামার, কুমার, তাঁতি, জেলে, কৃষক, শিক্ষক, গণমাধ্যমকর্মী, হোটেল-রেস্টুরেন্টের মালিক-কর্মচারী, দিনমজুর, রিকশা শ্রমিক যে যেখানেই কাজ করেন, তারা সবাই উপকৃত হবেন। যারা কুটির শিল্প, ক্ষুদ্র শিল্প, মাঝারি শিল্প সংশ্লিষ্ট, তারাও উপকৃত হবেন। মূলত দেশের প্রত্যেক মানুষকে প্যাকেজের আওতায় আনা হয়েছে। গতকাল গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী করোনাভাইরাসের সংকট মোকাবিলায় প্রায় ৭৩ হাজার কোটি টাকার একটি সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেন। ওই অনুষ্ঠানেই অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, আমার বিশ্বাস দেশের মানুষ আশাহারা হবেন না। আমরা যেভাবে এগোচ্ছিলাম, আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসব। আমার ব্যক্তিগত মত হলো, সব বিপদ কেটে যায়। এ বিপদও কেটে যাবে। বিপদ কেটে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সময় বেশি না নিয়ে যাতে আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পারি, যাতে আমরা আবার যে জায়গাতে ছিলাম সেখানে চলে যেতে পারি, সেখান থেকে কাজ শুরু করে আমাদের যে কাক্সিক্ষত লক্ষ্য, তা অর্জনে আমরা যেন পিছিয়ে না পড়ি সে জন্যই প্রধানমন্ত্রী এই প্যাকেজগুলো ঘোষণা করেছেন। তাঁর কাছে আমরা অবশ্যই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করব। কারণ তিনি দেরি করেননি। আগেভাগেই সে ব্যবস্থা নিয়েছেন। অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, করোনাভাইরাসের সংকটের মধ্যেও বাংলাদেশ সবার ওপরে রয়েছে।

সারা বিশ্বে এক বছর ধরে টানাপড়েন চলছিল। তার মাঝেও আমরা সবার ওপরে ছিলাম। এখনো সবার ওপরে আছি।

তিনি বলেন, গত পরশু সর্বশেষ চিত্র তুলে ধরেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এডিবির মতে, গত ৮ মাসে আমাদের যে অর্জন, তার ভিত্তিতে আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধি এই মুহূর্তে ৭ দশমিক ৮ ভাগ। তারা বলেছে, যদি স্বাভাবিকভাবে সব কিছু চলে তাহলে এ বছর আমাদের প্রবৃদ্ধি ৮-এর কাছাকাছি থাকবে।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, আপনি জানেন আমরা খুব ভালোভাবেই এগোচ্ছিলাম। শুধু কয়েকটি উদাহরণ দিই যেগুলো খুব বেশি কাজ করে আমাদের প্রবৃদ্ধিতে। যেমন- রাজস্ব। সারা বিশ্বে এক বছর ধরে টানাপড়েন চলছিল। তার মাঝেও আমরা সবার ওপরে ছিলাম। এখনো সবার ওপরে আছি। রাজস্ব আহরণ করেছিলাম গত ৮ মাসে (চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত) ৮ দশমিক ১৫ ভাগ। রেমিট্যান্সে ৮ মাসে প্রবৃদ্ধি ছিল ২০ দশমিক ০৫ ভাগ। এটাই প্রথম- আমরা এত রেমিট্যান্স অর্জন করতে পেরেছিলাম। গত অর্থবছরে প্রথম ৮ মাসে আমাদের রেমিট্যান্স অর্জন ছিল ১০ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলার। সেখানে এ অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে রেমিট্যান্স অর্জন হয়েছে ১২ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলার।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, প্রথম ৮ মাসে আমাদের শুধু একটি মাত্র খাতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি ছিল। সেটা হলো রপ্তানি খাত, (এই খাতে) নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি ছিল ৪ দশমিক ৮ শতাংশ। এখানে একটি কথা বলে রাখা উচিত, রপ্তানি বাণিজ্যের সিংহভাগ হলো তৈরি পোশাকশিল্প। ১০০ ভাগে সাড়ে ৬ ভাগ খুবই নেগলিজিবল (নগণ্য) মনে করি। তারপরও রেমিট্যান্স দিয়ে আমরা সেটা কাভার (পূরণ) করে ফেলেছি। সুতরাং রেমিট্যান্স থেকে সেটা কাভার করার কারণে স্থানীয় চাহিদা কমবে না।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর