শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৮ এপ্রিল, ২০২০ ২৩:৩৯

দুই দেশের চিকিৎসকদের ভিডিও কনফারেন্স

করোনা মোকাবিলায় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস চীনের

নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনা মোকাবিলায় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস চীনের

বিদেশফেরতরা মিশে গেছে গ্রামে। পর্যাপ্ত টেস্ট করাও সম্ভব হচ্ছে না। পরিস্থিতি খারাপ হলে সামাল দেওয়ার মতোও যথেষ্ট চিকিৎসা সরঞ্জামাদি নেই। করোনা মোকাবিলায় চীনা বিশেষজ্ঞের কাছে বাংলাদেশের এ পরিস্থিতি তুলে ধরলেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ। এ সময় ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। এ পর্যায়ে চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং জানান, বাংলাদেশকে সাহায্য করতে শিগগির ১৫ সদস্যের মেডিকেল টিম ঢাকায় পাঠাবে চীন।

সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও বাড়ছে নতুন রোগীর সংখ্যা, বাড়ছে মৃত্যু। দ্রুত গতিতে ছড়াচ্ছে কভিড-১৯। এমন পরিস্থিতিতে চীনের সাংহাইয়ের হুয়াশান হাসপাতালের সংক্রমণ রোগ বিভাগের পরিচালক চাং উন হোং-এর কাছ থেকে বিভিন্ন পরামর্শ নিতে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। শুরুতে বাংলাদেশ পরিস্থিতি তুলে ধরেন ডা. আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, বিদেশফেরত ব্যক্তিরা দেশে ফিরে তাদের নিজেদের শহরে ছড়িয়ে পড়েছেন। সবার তথ্য নেই আমাদের কাছে। মৃত্যুহারও তুলনামূলক বেশি। তার মানে রোগী শনাক্তে টেস্ট পর্যাপ্ত হচ্ছে না। করোনার উপসর্গ থেকে মারা যাওয়া নমুনা সংগ্রহ করে ফলাফল দেখা গেছে তাদের অধিকাংশেরই করোনা পজেটিভ ছিল। শনাক্তের আগেই মারা যাচ্ছেন অনেকে। গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসের রোগী শনাক্ত হয়। কিন্তু আমার ধারণা এর আগেই বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের রোগী প্রবেশ করেছে। কিন্তু শনাক্ত হয়নি।

তিনি আরও বলেন, মৃত্যুহার কমাতে আইসিইউ সেবা দেওয়া জরুরি। কিন্তু পরিস্থিতি খারাপ হলে আইসিইউ সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। হাসপাতালে সংক্রমণ ঠেকানোর জন্য বাড়ি বাড়ি থেকে নমুনা সংগ্রহের পরিকল্পনা চলছে। জনসমাগম এড়াতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় কি না এ বিষয়ে আপনার পরামর্শ প্রয়োজন। রোগী বাড়লে ইউরোপের দেশগুলোর মতো বাংলাদেশে মোবাইল হাসপাতাল করার প্রয়োজন আছে কি না সে বিষয়ে চীনা বিশেষজ্ঞের কাছে জানতে চান স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি শুনে সাংহাইয়ের হুয়াশান হাসপাতালের সংক্রমণ রোগ বিভাগের পরিচালক চাং উন হোং বলেন, ইউরোপ থেকে বাংলাদেশকে শিক্ষা নিতে হবে। আগামী দুই সপ্তাহ পরে বোঝা যাবে বাংলাদেশ সরকার যে পদক্ষেপগুলো নিয়েছে তা কতটা কার্যকর হয়েছে। ফলস টেস্ট এড়াতে রিয়েল টাইম পিসিআর এ টেস্ট করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের এখনো সিঙ্গাপুর ও হংকং-এর মডেল অনুসরণ করার সুযোগ আছে। তাদের মতো কাজ করতে পারলে এখনো করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। আইসিইউ স্বল্পতা থাকলে মৃত্যু হার আরও বেড়ে যাবে। তাই করোনা থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় পর্যাপ্ত পরীক্ষা এবং রোগী শনাক্তকরণ। আইসিইউ সুবিধা বাড়াতে হবে। আগামী দুই সপ্তাহ ঘরে থাকার বিকল্প নেই। এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক চীনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং বলেন, খুব শিগগিরই বাংলাদেশে ১৫ সদস্যের মেডিকেল টিম আসবে। আমাদের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই মেডিকেল ইক্যুইপমেন্ট হিসেবে টেস্টিং কিট, সার্জিক্যাল মাস্ক, সুরক্ষা সামগ্রীসহ করোনাভাইরাস আক্রান্তদের চিকিৎসাসামগ্রী বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। চীনের ডাক্তাররা বাংলাদেশের ডাক্তার ও নার্সদের করোনা চিকিৎসায় সহায়তা করবেন। আমি আশা করছি বাংলাদেশ শিগগিরই করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে চলমান এ যুদ্ধে জয়ী হবে।

মোমেনকে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোন : করোনা পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন চীনের স্টেট কাউন্সিলর ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং আই। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনকে টেলিফোনে এ আশ্বাসের কথা জানান তিনি। গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ওয়াং আই ও ড. মোমেনের মধ্যে বাংলাদেশে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় ড. মোমেন ঢাকায় বিদেশি নাগরিকদের চিকিৎসার লক্ষ্যে প্রস্তুত শেখ রাসেল গ্যাস্টো লিভার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালের জন্য চীনা টেকনিশিয়ান ও বিশেষজ্ঞদের সহায়তা চান। একই সঙ্গে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে চীনা মেডিকেল বিশেষজ্ঞ, ডাক্তার ও নার্সদের সহযোগিতা চান। এ বিষয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর