শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৯ এপ্রিল, ২০২০ ০০:২৬

চট্টগ্রামে আটটি ভেনটিলেটর গুদামে ফরিদপুরে নেই ভেনটিলেশন সুবিধা

বিশেষ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম ও ফরিদপুর প্রতিনিধি

চট্টগ্রামে আটটি ভেনটিলেটর গুদামে ফরিদপুরে নেই ভেনটিলেশন সুবিধা
চট্টগ্রামে অকেজো পড়ে আছে আইসিইউ বেডসহ সরঞ্জাম (ওপরে)। ফরিদপুরে ভেনটিলেটর মেশিন অকেজো হয়ে গেছে -বাংলাদেশ প্রতিদিন

করোনা চিকিৎসাসেবায় চট্টগ্রামে ইনসেনটিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) ভেনটিলেশন-বেডের সংকট সত্ত্বেও তিন বছর ধরে গুদামে পড়ে আছে সাড়ে ৪ কোটি টাকার আটটি ভেনটিলেটর ও আইসিইউ বেডসামগ্রী। অন্যদিকে, মুমূর্ষু রোগীদের কৃত্রিমভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস দেওয়ার জন্য ফরিদপুরের কোনো হাসপাতালেই নেই ভেনটিলেটর মেশিন। তবে পাঁচ বছর আগে কেনা ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা ১৬টি ভেনটিলেটর মেশিনের সবকটিই অকেজো হয়ে রয়েছে।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন জানান, চট্টগ্রামে করোনা চিকিৎসায় সংযুক্ত তিনটি বেসরকারি হাসপাতালসহ সবকটিতে মিলে মাত্র ছয়টি ভেনটিলেটর ও ২৪টি আইসিআইসি বেড রয়েছে। চট্টগ্রামের দুই করোনা চিকিৎসা কেন্দ্র আন্দরকিল্লার জেনারেল হাসপাতাল ও ফৌজদারহাটের বিআইটিআইডিতে আইসিইউর সুযোগ পর্যাপ্ত না থাকায় প্রাথমিকভাবে বেসরকারি হাসপাতালের ২৪টি আইসিইউ কাজে লাগানো, চার ধাপে ১২টি বেসরকারি হাসপাতালের ভেনটিলেটর ও আইসিইউ বেড ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকারি করোনা ব্যবস্থাপনা কমিটি। এর বাইরে ১০টি ভেনটিলেটর ও আইসিইউ শয্যা চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন। ভুক্তভোগীরা জানান, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই মুমূর্ষু রোগীদের জন্য আইসিইউ শয্যা পাওয়া আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়ার মতো। পুরো চট্টগ্রাম বিভাগের রোগীর চাপ পড়ে সেখানে। তাই জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউ ইউনিট চালু হলে চট্টগ্রামবাসী কিছুটা হলেও সেবা পাবেন।

জানা যায়, হাসপাতালটির আইসিইউ সরঞ্জাম কেনা নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে মামলা হয়। মামলাটিতে এসব যন্ত্রপাতি হাসপাতালে ব্যবহার করা যাবে না- এমন কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও তিন বছর ধরেই সেগুলো পড়ে আছে। শুরুতে মন্ত্রণালয় এসব যন্ত্রপাতি গ্রহণ করা যাবে না জানিয়ে পত্র দিলেও পরে আদালতের আদেশে এগুলো গ্রহণ করা হয়। এ অবস্থায় গুদামে ফেলে না রেখে যন্ত্রপাতি দিয়ে হাসপাতালটিতে একটি আইসিইউ চালু করা যায়। গুদামে মূল্যবান বেড-ভেনটিলেটর অব্যবহৃত থাকার বিষয়টি উদ্ঘাটন করেন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সমন্বয়ক ডক্ষ আ ম ম মিনহাজুর রহমান। তিনি জানান, ‘সিদ্ধান্ত নিলেই অযতেœ পড়ে থাকা ভেনটিলেটর-বেডসহ নতুন ১০টি, অর্থাৎ ১৮টি বেডের আইসিইউ দুই সপ্তাহের মধ্যেই চালু করা সম্ভব।

জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন জানান, ১৫ দিনের মধ্যেই নতুন ১০ আইসিইউ বেড সংযুক্ত করা হবে। পরে পড়ে থাকা আইসিইউ বেড ও ভেনটিলেটর সংযুক্ত করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে, মুমূর্ষু রোগীদের কৃত্রিমভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়ার জন্য ফরিদপুরের কোনো হাসপাতালে নেই ভেনটিলেটর মেশিন। তবে বিগত পাঁচ বছর আগে আনা ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউতে রাখা ১৬টি ভেনটিলেটর মেশিনের সবকটিই অকেজো রয়েছে। সেগুলো পাঁচ বছর আগে প্রতিস্থাপনের পর কিছুদিন আগ পর্যন্তও পরীক্ষা করে দেখা হয়নি। কয়েকদিন আগে সেগুলো পরীক্ষায় দেখা গেছে তা কোনো কাজই করছে না। সম্প্রতি করোনা রোগীদের ভেনটিলেটর মেশিন জরুরি হওয়ায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে থাকা মেশিনগুলোর খোঁজ পড়ে। তবে এসব মেশিন নিয়ে দুদকে মামলা থাকায় সেগুলো ঠিকঠাক করে চালু করা যায় কিনা তা নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. সাইফুর রহমান জানান, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে দরপত্রের মাধ্যমে আইসিইউ চালু করা হয়। সেখানে ১৬টি বেডের সঙ্গে ১৬টি ভেনটিলেটর মেশিন যুক্ত রয়েছে। তবে জনবল না থাকায় সেগুলো চালু করা যায়নি। ফলে মেশিনগুলো অকেজো হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে ভেনটিলেটরগুলো পরীক্ষা করে দেখি সবই অচল।’

জেলার সিভিল সার্জন ডা. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘ফরিদপুর মেডিকেল ছাড়া অন্য কোনো হাসপাতালে ভেনটিলেটর সুবিধা নেই। জেলার করোনা কমিটির সভায় আমরা এ ভেনটিলেটরগুলো চালুর বিষয়ে আলোচনা করি। সেগুলো পরীক্ষা করে দেখা যায় সবই অচল। তবে এ ভেনটিলেটরযুক্ত আইসিইউর মালামাল কেনায় দুর্নীতি হওয়ায় দুদক দীর্ঘ তদন্ত শেষে মামলা করে। আর মামলার আলামত হিসেবে ভেনটিলেটর মেশিনও রয়েছে। এখন এসব মেশিন সচল করার উদ্যোগ নেওয়া ঠিক হবে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ তবে জাতীয় স্বার্থে এসব যন্ত্র ব্যবহারে কোনো আইনগত বিপত্তি থাকার কথা নয় বলে জানিয়েছেন দুদক ফরিদপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক আবুল কালাম আজাদ।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর