শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১০ আগস্ট, ২০২০ ০০:০৭

বিশ্ব শ্রমবাজারে আসছে গুণগত পরিবর্তন

জুলকার নাইন

বিশ্ব শ্রমবাজারে আসছে গুণগত পরিবর্তন
হুমায়ূন কবির

কভিড-১৯-পরবর্তী বিশ্বের শ্রমবাজারে গুণগত পরিবর্তন আসছে বলে মনে করেন সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ূন কবির। তিনি বলেন, বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশেই বেকারত্বের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। সব দেশই নিজেদের নাগরিকদের কাজ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় শ্রমজীবী মানুষের দক্ষতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। শুধু কাগজে-কলমে না করে দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন এক ধরনের জাতীয় আন্দোলন সৃষ্টি। গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি এসব কথা বলেন।

হুমায়ূন কবির বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশগুলোতেই বাংলাদেশের প্রায় ৮০ ভাগ শ্রমিক কাজ করে। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর আগেই তেলের দাম কমার কারণে এই দেশগুলোতে শ্রমবাজারের সংকট শুরু হচ্ছিল। তখন সংকট শুরু হলেও প্রকট হয়নি। কারণ তখন কম করে হলেও শ্রমিকদের যাওয়ার প্রবাহটা ছিল। কিন্তু কভিড-১৯ আসার পর অনেক দেশেরই অর্থনীতি বন্ধ করে রাখতে হয়েছিল। ফলে তেলের দাম কমে যাওয়া ও লকডাউন একসঙ্গে পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। তিনি বলেন, অনেক দেশেই করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার কারণ হিসেবে সামাজিকভাবে বিদেশিদের চিহ্নিত করা হয়েছে। ক্যাম্পে নিয়ে আটকে রেখে দেশে ফেরত পাঠানোর মতো ঘটনাও ঘটেছে। আবার উন্নয়ন কর্মকান্ডগুলো বন্ধ থাকায় শ্রমিকদের বেশির ভাগই বেকার হয়ে পড়েছিল। দীর্ঘ সময় কাজ না থাকায় বিপর্যস্ত মানুষগুলোর সামনে দেশে ফেরত আসার বিকল্পও ছিল না। সেটা শুধু বাংলাদেশি নয়, নেপালি, ভারতীয়, পাকিস্তানি সব দেশেরই লাখ লাখ শ্রমিককে দেশে ফেরত আসতে হয়েছে বা হচ্ছে। বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের সহসভাপতি হুমায়ূন কবির বলেন, কভিড-পরবর্তী অর্থনৈতিক বিশ্বের শ্রমবাজারের জন্য বাড়তি প্রস্তুতির প্রয়োজন হবে। কারণ অদক্ষ শ্রমিকদের কাজে পাঠানোর সুযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের মতো যে দেশগুলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অদক্ষ শ্রমিক পাঠায় তাদের শ্রমবাজার সংকুচিত হয়ে যেতে পারে। এখন ফেরত আসা শ্রমিকরা যে লেভেলের দক্ষতায় কাজ করত, তাদের যদি এর  চেয়ে উপরের লেভেলের দক্ষতায় নেওয়া সম্ভব হয় তাহলেই কেবল তাদের জন্য কাজের সুযোগ থাকবে। তাই বিদেশ-ফেরত ও বিদেশগমনেচ্ছুদের জন্য সমন্বিতভাবে দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। তিনি বলেন, মনে রাখা প্রয়োজন বাংলাদেশে আমরা যেটাকে দক্ষতা বলি বাইরের দেশগুলোতে সেটাকে সবসময় দক্ষতা বলে না। সেখানে কাজের দক্ষতার সঙ্গে মনের দক্ষতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, আইন-কানুন মানার দক্ষতার মতো নানান বিষয় প্রয়োজন। তাই নতুন অর্থনীতির জন্য যেসব বিষয় প্রয়োজন সেগুলোকে চিহ্নিত করে পররাষ্ট্র, প্রবাসী, যুব, শিক্ষার মতো প্রয়োজনীয় সব মন্ত্রণালয়কে নিয়ে একটা সমন্বিত দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষা কাঠামোতে  বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে খুব একটা কিছু শেখানো হয় না। যারা বিদেশে যাচ্ছে তারা যদি সেখানে গিয়েও বাংলাদেশের মনমানসিকতা নিয়ে থাকে তাহলে মানিয়ে নেওয়াটা সত্যিই কষ্টকর। হুমায়ূন কবির বলেন, শ্রমবাজারের সংকট মোকাবিলায় সত্যিকার উদ্যোগ নিতেই হবে। কারণ এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের জাতীয় আয়ের ৭-৮ শতাংশই আসে এই প্রবাসী আয় থেকে। আর রেমিট্যান্স হিসেবে যে টাকাটা আমরা পাই, সেটা একেবারে নেট গেইন হিসেবেই আসে। দক্ষতা বৃদ্ধি করা সম্ভব হলেই কেবল আমরা পরিবর্তিত প্রযুক্তিনির্ভর ও জ্ঞাননির্ভর অর্থনীতিগুলোতে আমাদের শ্রমশক্তি পাঠাতে পারব। তখন রেমিট্যান্সের পরিমাণের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আসবে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর