শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ২৩:৪৩

চালের বাজার ফের অস্থির

প্রতিদিন ডেস্ক

চালের বাজার ফের অস্থির

ফের অস্থির হয়ে উঠেছে দেশের চালের বাজার। চালের দামের ঊর্ধ্বগতির ধারাবাহিকতায় পাইকারি ও খুচরা বাজারে গত এক সপ্তাহে কেজিতে ৩ থেকে ৪ টাকা বেড়েছে। এতে বিপাকে পড়েছে সীমিত আয়ের সাধারণ মানুষ। কুষ্টিয়া ও  নওগাঁ প্রতিনিধির পাঠানো খবর-

কুষ্টিয়া : দেশের অন্যতম বৃহৎ চালের মোকাম কুষ্টিয়ার খাজানগরে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে নিত্যপণ্য চালের দাম। কোরবানির ঈদের পর থেকে চালের দামের ঊর্ধ্বগতি যেন থামছেই না। সর্বশেষ গত এক সপ্তাহে মিলগেটে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা বেড়েছে। ধানের দাম বাড়ার অজুহাতে বাজার সমন্বয় করা হয়েছে বলে দাবি মিলারদের। খাজানগরের এ মোকাম দেশের চালের চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ করে। ফলে এখানে চালের টানা দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়ছে সারা দেশের চালের বাজারে।

জানা যায়, বর্তমানে মিল গেটেই কেজিপ্রতি মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪২ টাকায়। যা আগে ছিল ৩৮ থেকে ৩৯ টাকা। অন্যদিকে মিনিকেট, আঠাশ, পায়জাম, কাজললতা ও বাসমতি চালের দামও নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। বাসমতি প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৬২ টাকা, আর মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৫৩ থেকে ৫৫ টাকায়।  মিল মালিকরাও স্বীকার করে বলছেন সব ধরনের চাল ২ থেকে ৩ টাকারও বেশি বেড়েছে। তবে খুচরা ব্যবসায়ীরা আরও বেশি দামে বিক্রি করছেন। জানা যায়, ঈদের পর একদফা দাম বেড়ে বাজার স্থিতিশীল ছিল। গত এক সপ্তাহ আগে মিল গেটে ফের চালের দাম বেড়েছে। ধানের দাম এখন ১১০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কুষ্টিয়া জেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদিন দাবি করেন, চালের বাজার বাড়ার ব্যাপারে তাদের কোনো দায় নেই। ধানের দামের ওপর চালের বাজার নির্ভর করে। বোরো মৌসুমের শুরুতে ধানের দাম কম ছিল। কিন্তু এখন বাজারে ধানের দাম চড়া। তাই ধানের দামের সঙ্গে সমন্বয় করেই চালের দাম নির্ধারণ করতে হচ্ছে। এতে চালের দাম কিছুটা বেড়ে গেছে। খাজানগরের রশিদ অ্যাগ্রো ফুডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল মালিকদের কেন্দ্রীয় সংগঠনের সভাপতি আবদুর রশিদ বলেন, চালকল মালিকরা তো লোকসানে চাল বিক্রি করতে পারেন না। বাজারে ধানের দাম যেমন হবে চালের দামও তো তেমনটিই থাকবে। তবে আমন ধান কাটা শুরু হলে চালের দাম কমে আসবে বলে তিনি জানান।

নওগাঁ : দেশের বৃহৎ চালের মোকাম এবং চাহিদার অনেক বেশি পরিমাণ উদ্বৃত্ত ধান ও চাল উৎপাদনের জেলা নওগাঁ। দেশের চালের চাহিদার সিংহভাগ সরবরাহ করা হয়ে থাকে এ জেলা থেকে। পাইকারি ও খুচরা বাজারে চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে প্রকারভেদে প্রতি কেজিতে ৩ থেকে ৪ টাকা। চালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। একদিকে তাদের কাজ না থাকায় আয়ের পথ বন্ধ অন্যদিকে চালের এ মূল্যবৃদ্ধিতে বিপর্যস্ত করে তুলেছে তাদের।

নওগাঁর চালের মোকাম ও খুচরা বাজার থেকে মোটা চাল অনেকটা উধাও হয়েছে। কিছু দোকান ও আড়তে মিললেও গত কয়েক দিন আগে বিক্রি হয়েছে ৩৮ টাকা কেজি, বর্তমানে তা বেড়ে ৪২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ বোরো মৌসুমের শুরুতে দেশের অন্যতম এ মোকামে প্রতি কেজি মোটা চাল পাইকারিতে ৩৭ টাকা ও খুচরায় ৩৮ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। তবে শুধু মোটা চালই নয়; প্রকারভেদে প্রতি কেজি নাজিরশাইল ছিল ৪৭-৪৮ টাকা, বর্তমানে ৫০-৫২ টাকা। কাটারি ছিল ৪০-৪৪ টাকা, বর্তমানে ৪৫-৪৮ টাকা। ২৮ জাতের চাল ছিল ৪০-৪৪ টাকা, বর্তমানে ৪৪-৫৬ টাকা। জিরাশাইল ছিল ৪২-৪৪ টাকা, বর্তমানে ৪৬-৪৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ চালের দাম কেজিতে ৩ থেকে ৪ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

নওগাঁ পৌর ক্ষুদ্র চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক উত্তম সরকার বলেন, গত বছরে যে মোটা চাল ২৬-২৭ টাকা বিক্রি করেছি এখন তা ৪১ থেকে ৪২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে তা পর্যাপ্ত নয়। বর্তমান বাজারে সবচেয়ে বেশি দাম মোটা জাতের চালের। তাই চালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপাকে ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা। নওগাঁ জেলা চালকল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বলেন, সরকার নির্ধারিত ক্রয়মূল্যের সঙ্গে উৎপাদন খরচের বিস্তর ফারাক হওয়ায় সরকারি খাদ্যগুদামে চাল সরবরাহ করে চালকলের মালিকরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। লোকসান সত্ত্বেও চুক্তি অনুযায়ী গুদামে চাল দেওয়ার জন্য আমরা সংগঠনের পক্ষ থকে মিলারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছি। এরপরও মিলাররা গুদামে চাল দিতে আগ্রহী হচ্ছেন না। নওগাঁর মফিজ উদ্দীন অটোমেটিক রাইসমিল মালিক তৌফিকুর রহমান ও শেখ ফরিদ রাইসমিল মালিক শেখ ফরিদ বলেন, বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণ ধান না থাকার কারণে চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে প্রতিটি মিলে প্রতি কেজি চাল ১ টাকা বাড়লে খুচরা বাজারে ৩ থেকে ৪ টাকা বাড়ে, এর কারণ নির্ণয়ের জন্য সরকারের বিশেষ নজরদারি দরকার বলে মনে করছেন তারা। জেলা প্রশাসক হারুন অর রশীদ বলেন, বাজারে চালের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর