শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ জানুয়ারি, ২০২১ ২৩:২৬

জঙ্গিবাদের শেষ শেকড়ও উপড়ে ফেলতে চাই : আইজিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক

জঙ্গিবাদের শেষ শেকড়ও উপড়ে ফেলতে চাই : আইজিপি

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বলেছেন, জঙ্গিবাদ দমনে এখন পর্যন্ত আত্মতুষ্টির মতো কিছুই হয়নি। শেষ জঙ্গি নিশ্চিহ্ন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। বাংলাদেশ থেকে জঙ্গিবাদের শেকড়-বাকড় পুরোপুরি উপড়ে ফেলা হবে। গতকাল সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। পুলিশের বিশেষায়িত এন্টি টেররিজম ইউনিটের (এটিইউ) উদ্যোগে অনলাইনভিত্তিক উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে নির্মিত সচেতনতামূলক ওভিসি ও টিভিসি উদ্বোধন উপলক্ষে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

আইজিপি বলেন, জঙ্গিবাদ বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল। সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশও সামনের সারিতে থেকে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছে। ভৌগোলিকসহ নানাবিধ কারণে জঙ্গিরা বিভিন্ন সময় বাংলাদেশকে টার্গেট করেছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স ও এ দেশের শান্তিপূর্ণ মানুষের জঙ্গিবাদবিরোধী অবস্থানের কারণে তারা কখনো শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারেনি।

হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার ঘটনা উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, হলি আর্টিজানের ঘটনাটি বেশ নাড়া দিয়েছিল। তবে এর পরবর্তী সময়ের পরিস্থিতি আমরা বেশ সাফল্যের সঙ্গে মোকাবিলা করেছি। যে নেটওয়ার্কটি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, সেটিকে খুব অল্প সময়ের মধ্যে ডিসমেন্টাল (ভেঙে টুকরো টুকরো করা) করে দিতে পেরেছি। এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে পুলিশের এন্টি টেরোরিজম ইউনিট গঠন করা হয়েছে। এটিকে একটি রোবস্ট (শক্তিশালী) ইউনিট হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য, জঙ্গিবাদের এ শকুনের থাবা যেন কোনোভাবেই বিস্তার না করতে পারে।

গত বৃহস্পতিবার র‌্যাবের ‘নবজীবনের পথে’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে নয়জন জঙ্গি আত্মসমর্পণ করা সম্পর্কিত সংবাদের নিচে বেশ কিছু পাঠকের নেতিবাচক মন্তব্য করা প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, কিছু মানুষ আছে, যারা সব সময় সব ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করেন। আমি মনে করি, এসব নৈরাশ্যবাদীদের মানসিক চিকিৎসা দরকার। জঙ্গি আত্মসমর্পণের ঘটনায় অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলার চেষ্টা করছেন- কোথাও তো জঙ্গি নেই, তাহলে আত্মসমর্পণ করল কারা? আইজিপি বলেন, তাদের কথার অর্থ হলো- এখন জঙ্গি আছে, সেটা প্রমাণের জন্য তাদের বোমা ফাটাতে দেব, মানুষ হত্যার সুযোগ দেব। দেশটাকে কি আগে রক্তাক্ত হতে দেব? জঙ্গিদের মহড়া হতে দেব? তবেই কি জঙ্গি থাকা প্রমাণিত হবে? যদি মাসে-মাসে বা সপ্তাহে-সপ্তাহে জঙ্গি গ্রেফতার না করা হতো, তাহলে দেখতেন জঙ্গিবাদ কতটা সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। এমন কত-শত জঙ্গি হামলার চেষ্টা আমরা সফলই হতে দেইনি। কাদম্বিনীকে কি মরিয়া প্রমাণ করিতে হইবে যে সে মরে নাই?

পুলিশপ্রধান বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম জঙ্গিবাদে জড়ানোর সূতিকাগার হিসেবে কাজ করছে। সে কারণে সাইবার স্পেসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আমাদের পুলিশের প্রতিটি ইউনিট সাইবার প্যাট্রোলিং অব্যাহত রেখেছে। এ জন্য প্রতিটি ইউনিটের আলাদা সাইবার ইউনিট রয়েছে। এর ভিত্তিতে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জঙ্গিবাদ বিরোধী সরব উপস্থিতি অব্যাহত রাখতে প্রতিটি ইউনিটের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি। এটিইউর প্রধান পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক কামরুল আহসান বলেন, শুধু কঠোরভাবে জঙ্গিবাদ মোকাবিলা করা যায় না। সে জন্য কাউন্টার ন্যারেটিভ (জঙ্গিবাদবিরোধী ভাষ্য) প্রচার করতে হবে। তরুণদের অনলাইনে থাকার পরিমাণ আগের চেয়ে বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা অনেক সময় সত্য-মিথ্যা বুঝে উঠতে পারে না। কোথায় থামতে হবে, তাও তারা জানে না। এটিইউর ওভিসি বা টিভিসি থেকে একজন তরুণও যদি জঙ্গিবাদের থাবা থেকে রক্ষা পায়, তাহলে তারা খুশি হবেন। অনুষ্ঠানে চার মিনিট ২৪ সেকেন্ডের একটি ওভিসি ও দেড় মিনিটের একটি টিভিসি প্রচার করে একজন তরুণ কীভাবে জঙ্গিবাদের খপ্পরে পড়ে পরিবার ও সমাজ থেকে ছিটকে পড়ে, তা দেখানো হয়। বাংলাদেশ পুলিশের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউবে এটি প্রচারিত হবে। আইজিপি যে কোনো বিষয়ে সত্যতা যাচাইয়ের জন্য মূল ধারার গণমাধ্যমের ওপর নির্ভর করতে বলেন।

এটিইউ প্রধানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন এটিইউর অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান। এ ছাড়া পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মঈনুর রহমান চৌধুরী, ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর