শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৭ জানুয়ারি, ২০২১ ২৩:১৮

চট্টগ্রাম ভোটে ব্যাপক সংঘর্ষ

নিহত ২, আহত শতাধিক, ইভিএম ভাঙচুর । দুই কেন্দ্রের ভোট স্থগিত । ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে বিদ্রোহীদের সংঘাত, দুই কাউন্সিলর প্রার্থী আটক । এক মেয়র ও এক নারী কাউন্সিলর প্রার্থীর ভোট বর্জন । সহিংসতা কমই হয়েছে : ইসি । ভোট ছিল স্বাভাবিক : পুলিশ

রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, গোলাম রাব্বানী ও মুহাম্মদ সেলিম, চট্টগ্রাম থেকে

চট্টগ্রাম ভোটে ব্যাপক সংঘর্ষ
চট্টগ্রাম নির্বাচনে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ -দিদারুল আলম

দফায় দফায় সংঘর্ষ-সহিংসতা, গোলাগুলি, ককটেল বিস্ফোরণ, প্রাণহানি ও বর্জনের মধ্য দিয়ে গতকাল শেষ হয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচন। ভোট চলাকালে বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ, পাঁচটি ইভিএম ও পুলিশ-নির্বাচনী কর্মকর্তাদের তিনটি মিনিবাস ভাঙচুর হয়। আমবাগানে কেন্দ্রের বাইরে গুলিতে একজন নিহত হয়েছেন। পাহাড়তলিতে আরও একজনের মৃত্যু হলেও পুলিশ বলছে এ মৃত্যু পারিবারিক সংঘাতে। সংঘর্ষের কারণে পাথরঘাটা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের দুই কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ বন্ধ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আটক করা হয়েছে আওয়ামী লীগের একজন বিদ্রোহী ও বিএনপি সমর্থিত একজন কাউন্সিল         প্রার্থীকে। চট্টগ্রামের নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের অভিযোগ, প্রায় ৪০টি ওয়ার্ডে বিএনপি সন্ত্রাস চালিয়েছে। বিএনপি বলছে চট্টগ্রামে তাদের অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। এজেন্ট বের করে দেওয়ার পাশাপাশি ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ দলটির। এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগে নির্বাচন বর্জন করেছেন ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থী মো. জান্নাতুল ইসলাম। কেন্দ্র দখল, প্রকাশ্যে ভোট দিতে বাধ্য করা ও নিজের ভোট দিতে না পারায় সকালেই ভোট বর্জন করেন বিএনপির একজন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থী। দলীয় প্রতীকে প্রথম এ সিটির ভোটে মেয়র পদে লড়াইয়ে ছিলেন আওয়ামী লীগ, বিএনপির প্রার্থীসহ সাতজন। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, গোপন কক্ষে অবস্থান নিয়ে নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিতে বাধ্য করা হয়েছে ভোটারদের। নির্বাচন নিয়ে নৈরাজ্যকর অবস্থার কারণে সকালের পর কেন্দ্রগুলোয় ভোটারের উপস্থিতি কমতে শুরু করে। কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণের জেরে কাউন্সিলর প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে একের পর এক সংঘর্ষ ঘটে। অনেক কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ ছিল কাউন্সিলর প্রার্থীদের হাতে। এ ছাড়া ভোটার ও এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে বেশ কিছু ওয়ার্ডে। আওয়ামী লীগ সমর্থিত ও বিদ্রোহী এবং বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে আহত হয়েছেন শতাধিক। গতকাল সকাল ৮টায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে চলে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। এবার সব কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট গ্রহণ করা হয়। এ ভোটে তরুণদের উচ্ছ্বাস ছিল। তবে নজিরবিহীন কম উপস্থিতি ছিল নারী ভোটারের। ভোট গ্রহণ শুরুর পরপরই বিভিন্ন কেন্দ্রে সংঘর্ষ-সহিংসতা ঘটতে থাকে। ককটেল বিস্ফোরণ হয় লালখান বাজার, পাহাড়তলী, চান্দগাঁও ও পাথরঘাটায়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তেজনা বাড়তে থাকে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে। এর মধ্যেই ১০টায় পাহাড়তলীর একটি কেন্দ্রের বাইরে গুলিতে মারা যান আলাউদ্দিন নামে এক ব্যক্তি। পাথরঘাটায় দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সংঘর্ষের ফলে দুটি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়। লাঠিসোঁটা নিয়ে কয়েক শ উত্তেজিত নারী-পুরুষ কেন্দ্রে হামলা চালায়। তারা ইভিএম, কেন্দ্রের দরজা-জানালা ও নিরাপত্তারক্ষীদের গাড়ি ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ১০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে।

বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষে নিহত দুজন : সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ড লালখান বাজারে পুরো দিনই ছিল সংঘাতপূর্ণ। মতিঝর্ণা, হাইলেভেল রোড, তুলপুকুর লেন, ইস্পাহানি মোড়, চানমারি রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর প্রার্থী আবুল হাসনাত বেলাল ও এ এফ কবির মানিক অনুসারীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ঘটে। এ সময় বিএনপির সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থী মনোয়ারা বেগম মণি ও তার মেয়ের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। বিএনপি, আওয়ামী লীগ এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকসহ কমপক্ষে ৩০ জন আহত হন। তার মধ্যে মারাত্মক অবস্থায় চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে আনসার সদস্য কামাল (২২), হোসেন (৩৫), মহসিন (২৪), সেলিনা (৫৫), তারেক (২১), মোক্তার (৩৫), অভিজিৎ চৌধুরী অভি (৫০), লুজক লুক (৩১), সায়েদ, ইলিয়াস, ইভান, রাকিব ও দেলোয়ারকে (২৬)। পাহাড়তলী ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর প্রার্থী ওয়াসিম উদ্দিন চৌধুরী ও বিদ্রোহী প্রার্থী মো. মাহমুদুর রহমানের অনুসারীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে আলাউদ্দিন আলো নামে এক যুবক নিহত এবং আহত হন কমপক্ষে ২০ জন। তার মধ্যে মারাত্মক অবস্থায় চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয় মো. হোসেন (৩৫), ইমরান (২৫), রাকিব মাহমুদ, রাজু, বাবু (৪০), আবু তাহের (৪২), রাজু, হৃদয় (১৬), জামশেদ (২৬), ফারুক (২০), মাহমুদুল হাসানকে। চান্দগাঁও ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়।

নির্বাচন চলাকালে সংঘর্ষ নিয়ে সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) এম এম মোস্তাক আহমদ বলেন, ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব, বিজিবিসহ অন্যান্য সংস্থার সদস্যরা নিয়োজিত ছিলেন। যে ঘটনাগুলো ঘটেছে এরই মধ্যে তার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।’

এক মেয়র ও এক নারী কাউন্সিলরের ভোট বর্জন : অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভোট বর্জন ও পুনর্নির্বাচনের দাবি করেছেন ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থী জান্নাতুল ইসলাম। বিএনপির সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থী মনোয়ার বেগম মণিও নির্বাচন বর্জন করেছেন। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী জান্নাতুল ইসলাম বলেন, ‘কেন্দ্রে কেন্দ্রে আমার কর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে। এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। তাই নির্বাচন বর্জন করে পুনর্নির্বাচনের দাবি করে ইসিতে অভিযোগ দিয়েছি।’ বিএনপির ১৪, ১৫ ও ২১ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থী মনোয়ারা বেগম মণি বলেন, ‘আমাকে ভোট দিতে দেওয়া হয়নি! আমার পরিবারের ওপর হামলা হয়েছে। এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। তাই নির্বাচন বর্জন করলাম।’

ভোটের মাঠে নতুন অস্ত্র ‘বিলাই খামচি’ : শরীরের সংস্পর্শে এলে প্রচ- চুলকানি তৈরি করে এমন গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ ‘বিলাই খামচি’ দিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর আক্রমণ করার অভিযোগ উঠেছে। চট্টগ্রামে স্থানীয়ভাবে এ উদ্ভিদকে ‘বাঁদরওলা’ বলা হয়। এটি দেহের সংস্পর্শে এলে প্রচ- চুলকানি তৈরি করে। ফলে আক্রান্ত ব্যক্তিকে প্রায় ২৪ ঘণ্টা অস্বস্তিতে থাকতে হয়। লালখান বাজার ওয়ার্ডের স্বতন্ত্র প্রার্থী এ এফ কবির মানিকের সমর্থকদের বিরুদ্ধে বিলাই খামচি প্রয়োগের অভিযোগ করেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবুল হাসনাত মো. বেলালের নারী সমর্থকরা। ভোটের দিন শহীদনগর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে কাউন্সিলর প্রার্থীর অনুসারী আসমা বেগম জানান, বিদ্রোহী প্রার্থীর নারী সমর্থকরা তাদের ওপর বিলাই খামচি ছিটিয়েছেন।

মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছে : আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত ভোট দিতে এসেছেন। সারা দিন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবেই ভোট হয়েছে। বিএনপি কিছু এলাকায় সরকার বা এ সিটি নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করতে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটিয়েছে। এসব এলাকায় আমাদের নেতা-কর্মীরাও গুরুতর আহত হয়েছেন।’ তিনি বলেন, ‘বিএনপির অভিযোগ ভিত্তিহীন। তারা সব সময় এমন অভিযোগ করেই এসেছে।’

রাষ্ট্রযন্ত্রের নির্বাচন : নির্বাচন নির্যাতনে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন। গতকাল ভোট গ্রহণ শেষে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, ‘প্রচারণার শুরু থেকেই ইভিএমকে সুরক্ষা, এনআইডি ছাড়া কেন্দ্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ও বহিরাগতদের ঠেকাতে উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলে আসছিলাম। কিন্তু তা হয়নি। আমাদের নির্বাচন হয়েছে রাষ্ট্রযন্ত্রের সঙ্গে। বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে মারধর করে এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। নারী এজেন্টদের শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে শত শত বহিরাগত দেখেছি। বিভিন্ন এলাকা থেকে ২০০ নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছে।’ ভোট গ্রহণ শেষে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, ‘চট্টগ্রামে কোনো নির্বাচনই হয়নি। নির্বাচনের নামে হামলা, খুন ও সহিংসতা হয়েছে। এখানে সন্ত্রাসীদের মিলনমেলা হয়েছে। উত্তর-দক্ষিণ থেকে সন্ত্রাসী এনে রাজত্ব কায়েম করেছে। তাই একে নির্বাচন বলা যাবে না। নির্বাচনই যখন হয়নি সেখানে ভোট বর্জন কিংবা প্রত্যাখ্যানের প্রশ্নই আসে না।’

কারা কোথায় ভোট দিয়েছেন : বাবা-মার কবর জিয়ারত ও মাকে সালাম করেই দুই প্রধান দলের মেয়র প্রার্থী ভোট প্রদান করেন নিজেদের কেন্দ্রে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বহদ্দারহাটের এখলাছুর রহমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আর বিএনপি প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন চকবাজারে বিএড কলেজ কেন্দ্রে ভোট প্রদান করেন। সাবেক মেয়র, নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন আন্দরকিল্লা কদম মোবারক এমআই উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন।

ভালো নির্বাচন হয়েছে : দুটি কেন্দ্র ছাড়া সবখানে ভালো নির্বাচন হয়েছে বলে দাবি করেছেন ইসির সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর। তৃতীয় বিশ্বের মতো দেশে নির্বাচনে সহিংস কিছু ঘটনা ঘটে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘সে হিসেবে চট্টগ্রামে সহিংসতা কমই হয়েছে।’ গতকাল ভোট শেষে সন্ধ্যায় নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের কাছে এ প্রতিক্রিয়া দেন তিনি। সচিব বলেন, ‘গণমাধ্যমে আমরা যে নির্বাচন দেখেছি, আমাদের নিয়ন্ত্রণকক্ষের মাধ্যমে যে রিপোর্ট পেয়েছি তাতে বলব ভালো নির্বাচন হয়েছে।’

পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ইসিতে : ‘নজিরবিহীন ভোট ডাকাতি ও সন্ত্রাস’ হয়েছে বলে ইসিতে অভিযোগ করেছে বিএনপি। অন্যদিকে সন্ত্রাস-সহিংসতার জন্য বিএনপিকে দায়ী করে ইসিতে পাল্টা অভিযোগ করেছে আওয়ামী লীগ। গতকাল বিকালে ভোট গ্রহণের শেষ দিকে আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল ইসি সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। বিএনপি প্রতিনিধি দল কমিশনের কাছে অভিযোগ দেওয়ার পরই আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দল আসেন। ক্ষমতাসীন দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এ বি এম রিয়াজুল কবীর কাউছার লিখিত অভিযোগ জমা দেন।

ভোটের উত্তাপ সংসদে : চট্টগ্রামের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীর অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের উত্তাপ গড়িয়েছে জাতীয় সংসদেও। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের গতকালের অধিবেশনে ‘দ্য সিভিল কোর্টস (সংশোধন)-২০২১’ বিল পাসের আগে জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে প্রেরণ ও সংশোধন প্রস্তাবের আলোচনার সময় এ বিতর্ক হয়।

জনমত যাচাই ও সংশোধন প্রস্তাব দানের সময় বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা। প্রথমে প্রসঙ্গটি তোলেন বিএনপির এমপি হারুনুর রশীদ। তিনি বলেন, ‘সংবিধানে বলা আছে সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা প্রশাসন চালাবেন। কিন্তু আজ কী হচ্ছে? নির্বাচনের নামে তামাশা হচ্ছে। প্রহসন হচ্ছে।’ পরে জাতীয় পার্টির সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে উল্লেখ করে কোথায় বিএনপি ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন তা তুলে ধরেন।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘উনারা নির্বাচনের কথা বলছেন। আমরা জিয়াউর রহমানের সময় হ্যাঁ-না ভোট দেখেছি। ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন দেখেছি। ব্যালট বাক্স পাওয়া যেত না। ভোট যে দেবে ব্যালট বাক্স নেই।’ বিএনপির অভিযোগের জবাবে জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘আমার এলাকায় পৌরসভা নির্বাচন অত্যন্ত সুষ্ঠু হয়েছে।’ পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ বলেন, ‘সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। নির্বাচন অত্যন্ত সুন্দর হয়েছে। বিএনপির প্রার্থীরাও সেটা বিবিসিকে বলেছেন।’ জাতীয় পার্টির শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, ‘৮৪ ভাগ ভোট পড়েছে আমার পৌরসভায়। লাঙ্গল জয়ী হয়েছে। সবাই মিলে চাইলে ভোট সুষ্ঠু হবে।’ পরে সংশোধন প্রস্তাব তোলার সময় বিএনপির এমপি ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, ‘ভোট দেয় প্রশাসন আর দেখে জনগণ। ভোটটা সুষ্ঠু করলেই তো হয়। কারও থেকে ভোট শিখতে হবে না। ভোট কীভাবে দিতে হয় তা সবাই জানে। ভোটটা দিতে দিলেই হয়।’


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর