শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:৩৫

ফেঁসে যাচ্ছেন বিদ্রোহীদের মদদদাতারা

রফিকুল ইসলাম রনি

ফেঁসে যাচ্ছেন বিদ্রোহীদের মদদদাতারা

দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশের পর পৌর নির্বাচনে নৌকাবিরোধী প্রভাবশালী এমপি-মন্ত্রী ও নেতাদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। এ নিয়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক টিম কাজ করছে।

প্রাপ্ত প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে একডজন এমপি-মন্ত্রী ও নেতা ফেঁসে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। আরও যাচাই-বাছাই শেষ করে দলীয় চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করা হবে দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে। বিদ্রোহীদের যেমন শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে, তেমনি মদদদাতাদেরও শাস্তির আওতায় আনা হবে। আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা দেখভাল করেন এমন কয়েকজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানিয়েছেন, গত তিন ধাপে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিদ্রোহীদের মদদ দিয়েছেন এমন একডজন এমপি-মন্ত্রী ও নেতার নাম কেন্দ্রে জমা পড়েছে। সেগুলো অধিকতর যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আরও দুই ধাপে কারা কারা মদদ দিচ্ছেন তাদেরও মনিটরিং করা হচ্ছে। নির্বাচন শেষ হলেই চূড়ান্ত তালিকা করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে দেওয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘নৌকা বিরোধিতাকারীদের ব্যাপারে দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে কঠোর। বিগত নির্বাচনে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন তাদের দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। এখন যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়া যেমন শাস্তিযোগ্য অপরাধ, তেমনি বিদ্রোহী প্রার্থীকে মদদ দেওয়াও সমান অপরাধ। এখানে যত বড় প্রভাবশালী এমপি-মন্ত্রী কিংবা নেতাই হোক না কেন? সবার জন্য সমান শাস্তি। যেসব এমপি-মন্ত্রী ও নেতার নামে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, আমরা অধিকতর যাচাই-বাছাই করছি। ভোট শেষে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ আকারে দলীয় সভানেত্রীর কাছে তুলে দেওয়া হবে।’ সূত্রমতে, প্রথম দফায় ২৫ পৌরসভায় গত ২৮ ডিসেম্বর,  দ্বিতীয় ধাপে ৬০ পৌরসভায় ১৬ জানুয়ারি, তৃতীয় ধাপে ৩০ জানুয়ারি ৬২ পৌরসভায় ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব ভোটে অধিকাংশ জায়গায় আওয়ামী লীগ মনোনীত  প্রার্থী বিজয়ী হলেও বেশ কয়েকটি স্থানে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা নৌকা ডুবিয়ে বিজয়ী হয়েছেন। এসব বিদ্রোহী প্রার্থীদের ইন্ধন দিয়েছেন স্থানীয় এমপি, জেলার শীর্ষ নেতারা। চতুর্থ ধাপে ৫৮টি পৌরসভায় আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি এবং পঞ্চম ধাপে ৩১টি পৌরসভায় আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণ করা হবে। এসব ভোটেও বিদ্রোহী প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। সবগুলোর মদদ দিচ্ছেন স্থানীয় এমপি কিংবা জেলার প্রভাবশালী নেতারা।

আওয়ামী লীগ নির্বাচনী পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত একাধিক নেতা জানিয়েছেন, তিন ধাপে অনুষ্ঠিত পৌরসভা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিজয়ের পেছনের এমপি-প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রী ও জেলার শীর্ষ নেতারা কাজ করায় দলের হাইকমান্ড চরম ক্ষুব্ধ। গত চতুর্থ ধাপের পৌরসভা নির্বাচনে দলের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেছেন, যেসব এমপি-মন্ত্রী ও নেতা নিজেদের স্বার্থে এখন নৌকার বিরোধিতা করছেন আগামী সংসদ নির্বাচনে তাদের নৌকা দেওয়া হবে না। এ সময় তিনি তালিকা করার নির্দেশনা দেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের।

দলীয় সভানেত্রীর নির্দেশনার পর নড়েচড়ে বসেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। গত কয়েক দিনে তারা বিভিন্ন অভিযোগ খতিয়ে দেখা শুরু করেছেন। ইতিমধ্যে একডজন এমপি-মন্ত্রী ও নেতার নাম পেয়েছেন। যারা সরাসরি বিদ্রোহী প্রার্থীদের সমর্থন দিয়ে নৌকা ডুবিয়েছেন। 

দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা অভিযুক্ত এমপি-প্রতিমন্ত্রী ও নেতাদের নাম না বললেও কিছুটা আভাস দিয়েছেন। বিদ্রোহী প্রার্থীদের মদদদাতা অন্যতম ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন প্রতিমন্ত্রী। এর মধ্যে একজন রাজশাহী বিভাগ ও অন্যজন সিলেট বিভাগ থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। নোয়াখালীর একজন এমপির ভাই বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন। ওই বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে এমপিপত্নী সরাসরি নির্বাচনীয় প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন। নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের একজন শীর্ষ নেতা ও এমপি রয়েছেন। সিরাজগঞ্জ জেলার একজন এমপি, বরিশাল জেলার একজন এমপি, বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতা ও দুজন এমপি, রাজবাড়ী জেলায় একজন এমপি এবং চট্টগ্রাম বিভাগে আরও দুজন এমপি রয়েছেন। তাদের অভিযোগগুলো আরও ব্যাপকভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। অভিযুক্ত এমপি-প্রতিমন্ত্রী ও জেলার শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না জানতে চেয়ে কারণ দর্শানো নোটিস জারি করা হবে।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহীদের পক্ষে কাজ করছেন দলীয় এমপি-মন্ত্রী ও জেলার শীর্ষ নেতারা-এমন অভিযোগ আমাদের হাতে এসেছে। এগুলো যাচাই-বাছাই করছি। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে তোলা হবে। কার্যনির্বাহী সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিতর্কিত এমপি-মন্ত্রী ও নেতাদের তালিকা প্রকাশ করা হবে।

আওয়ামী লীগের আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বিদ্রোহীদের পক্ষে কাজ করা এমপি-মন্ত্রীরা আমাদের নজরদারিতে রয়েছেন। তদন্তকাজও শুরু করেছি। চূড়ান্ত করা হলেই দলীয় সভানেত্রীর হাতে বিতর্কিতদের তালিকা তুলে দেওয়া হবে।

এই বিভাগের আরও খবর