শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১২ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১১ মে, ২০২১ ২২:৪৬

অভ্যন্তরীণ খাদ্য সংগ্রহে সতর্ক সরকার

মাঠ প্রশাসনকে ১৩ নির্দেশনা

রুকনুজ্জামান অঞ্জন

Google News

গত বছর অভ্যন্তরীণ খাদ্য সংগ্রহ অভিযান ভেস্তে যাওয়ার পর এবার বোরো মৌসুমে সতর্ক সরকার ধান-চাল সংগ্রহে মাঠ প্রশাসনকে ১৩ দফা নির্দেশনা দিয়েছে। সম্প্রতি খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা পরিপত্রে বলা হয়েছে, দ্রুততার সঙ্গে ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে গিয়ে যদি কৃষকের তালিকা না পাওয়া যায়, অ্যাপে আবেদন জমা না পড়ে- তবে আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতে প্রকৃত কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয় করতে হবে; কৃষকের অ্যাপের বাইরে উপজেলাগুলোতে লটারি করে ধান সংগ্রহ দ্রুত শুরু ও শেষ করতে হবে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, চলতি বোরো মৌসুমে সাড়ে ৬ লাখ মেট্রিক টন ধান ও ১০ লাখ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরে কোন উপজেলা থেকে কী পরিমাণ সংগ্রহ করা হবে সেই তথ্য এরই মধ্যে মাঠ পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে। সংগ্রহ অভিযান সফল করতে গত ৬ মে মাঠ প্রশাসনকে ১৩ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, গতবারের মতো এবারও অভ্যন্তরীণ খাদ্য সংগ্রহ অভিযান কোনোভাবে সফল না হলে নতুন অর্থবছরে সরকারের খাদ্য কর্মসূচি ভেস্তে যেতে পারে। বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে খাদ্য ব্যবহার হয়ে থাকে। করোনা মহামারীর কারণে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণের লক্ষ্য রয়েছে। ফলে খাদ্য কর্মসূচিও বাড়বে। এ কারণে অভ্যন্তরীণ খাদ্য সংগ্রহ অভিযানে জোর দিচ্ছে সরকার।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, গত বছর অতি বৃষ্টি ও বন্যার কারণে চালের উৎপাদন কম হয়েছে। উপরন্তু অভ্যন্তরীণ খাদ্য সংগ্রহ অভিযান ব্যর্থ হওয়ায় সরকারের চালের মজুদ বিপজ্জনকভাবে কমতে থাকে। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বাজারেও বাড়তে থাকে মোটা চালের দাম। গত আমন মৌসুম থেকে প্রায় ২ লাখ মেট্রিক টন ধান এবং সাড়ে ৬ লাখ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্য নেওয়া হলেও এর বিপরীতে ধান ও চাল মিলিয়ে সংগ্রহ ছিল ১০ হাজার মেট্রিক টনের কিছু বেশি। 

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, গত বছর উৎপাদন কম হওয়ায় বোরো সংগ্রহ অভিযান ব্যর্থ হওয়ার পর, আমন থেকে সংগ্রহ অভিযান জোর দেওয়া হয়েছিল। তবে ওই সময় ধান চালের বাজারমূল্য সরকারি সংগ্রহমূল্যের চেয়ে বেশি থাকায় সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণ সত্ত্বেও মিলারগণ সরকারের সঙ্গে চুক্তি করতে আগ্রহী ছিল না। এর ফলে গত মৌসুমে অভ্যন্তরীণ খাদ্য সংগ্রহ অভিযান সফল করা যায়নি। এবার শুরু থেকেই খাদ্য সংগ্রহের বিষয়ে সতর্ক রয়েছে সরকার।

নির্দেশনায় যা বলা হয়েছে : গত ৬ মে জারি করা খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ধান সংগ্রহে অবিলম্বে জেলা/উপজেলা পর্যায়ে সংগ্রহ ও মনিটরিং কার্যক্রম শুরু করতে হবে; কৃষকের অ্যাপভুক্ত উপজেলাগুলোতে দ্রুত রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচনের মাধ্যমে দ্রুত ধান সংগ্রহ করতে হবে; সংগ্রহ অভিযান দ্রুত করতে গিয়ে যদি কৃষকের তালিকা না পাওয়া যায়, অ্যাপে আবেদন জমা না পড়ে, তবে আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতে প্রকৃত কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয় করতে হবে; ধান সংগ্রহের বিষয়টি মাইকিং, লিফলেট বিতরণ, স্থানীয় কেবল টিভি স্ত্রলে সম্প্রচার করতে হবে; চলমান চাল সংগ্রহ মৌসুমে পাক্ষিক ছাঁটাই ক্ষমতা অপেক্ষা বরাদ্দ কম তাই চাল সংগ্রহ ৩০ জুনের মধ্যে ৭৫ শতাংশ, জুলাইয়ে ১৫ শতাংশ এবং আগস্টে বাকি ১০ শতাংশ সম্পন্ন করতে হবে; মিলারদের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করার পর দ্রুত সময়ের মধ্যে বরাদ্দপত্র ইস্যু করে অনুলিপি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে; যুগপৎভাবে ধান ও চাল সংগ্রহ কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও ত্বরান্বিত করতে হবে; অভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য সংগ্রহ নীতিমালা, ২০১৭ অনুসারে বোরো ধান-চাল সংগ্রহ করতে হবে; নীতির ব্যত্যয় ঘটলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে; গুদামে স্থান সংকুলান না হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ স্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে চলাচল সূচি জারি করবেন; ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকগণের মধ্যে নিবিড় মনিটরিং অব্যাহত রাখতে হবে; প্রতিদিন বিকাল ৫টার মধ্যে সব আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক দফতর থেকে ধান-চাল সংগ্রহের তথ্য ও দৈনিক বাজারদর ই-মেইলে খাদ্য অধিদফতরে পাঠাতে হবে; কোনো প্রকার আনুষ্ঠানিকতার সুবাদে  কোনোভাবেই খাদ্য সংগ্রহ কার্যক্রম বিলম্বিত করা যাবে না; এবং বিদ্যমান করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সব কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।