শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৭ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ মে, ২০২১ ২৩:১৭

ফুরিয়ে আসছে টিকার মজুদ

► এক সপ্তাহ চলবে অক্সফোড অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা ► বিকল্প উৎস থেকে বাকি টিকা সংগ্রহের চেষ্টা ► চীনের উপহারের টিকা পাবেন স্বাস্থ্যকর্মী, মেডিকেল শিক্ষার্থী, দেশে কর্মরত চীনের নাগরিকরা ► প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ একই কোম্পানির নিতে হবে

জয়শ্রী ভাদুড়ী

ফুরিয়ে আসছে টিকার মজুদ
Google News

ফুরিয়ে আসছে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার মজুদ। আর মাত্র এক সপ্তাহ চলবে দেশে মজুদকৃত টিকায়। টিকার চালান ফুরিয়ে আসায় ১৫ লাখের বেশি মানুষের দ্বিতীয় ডোজের টিকা পাওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। সমস্যা সমাধানে বিকল্প উৎস থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। এর মধ্যেই চীন বাংলাদেশকে উপহার দিয়েছে ৫ লাখ ডোজ টিকা। এই টিকা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পাবেন স্বাস্থ্যকর্মী, মেডিকেল শিক্ষার্থী, বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রকল্পে কর্মরত চীনের নাগরিক এবং চীনে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা। প্রাপ্যতা নিশ্চিতে দেশে টিকা উৎপাদনেও চলছে জোর প্রস্তুতি। এর মধ্যেই ইনসেপটাকে রাশিয়ার টিকা উৎপাদনে অনুমোদন দেওয়া নিয়ে চলছে আলোচনা। চীনের দেওয়া উপহারের ৫ লাখ টিকা থেকে ৩০ হাজার ডোজ টিকা বাংলাদেশে থাকা দেশটির নাগরিকদের দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে চীন। বিষয়টি জানিয়ে ১১ মে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেককে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত। অনুরোধের ওই চিঠিতে বলা বলেছে, বাংলাদেশে থাকা চীনা নাগরিকদের টিকা দেওয়ার জন্য আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে বেছে নিয়েছে তারা। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদন চায় চীন। চীন বলেছে, যখন উপহারের টিকা ঢাকার কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে (সিএমএসডি) পৌঁছাবে, তখন আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সেখান থেকে ৩০ হাজার ডোজ টিকা সংগ্রহ করবে। চিঠিতে বলা হয়েছে, উপহারের বাকি ৪ লাখ ৭০ হাজার টিকা দুই বার করে ২৮ দিনের মধ্যে সরকারকে বাংলাদেশের নাগরিকদের দিতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের মুখপাত্র রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের (সিডিসি) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ডোজের টিকার আর এক সপ্তাহের মজুদ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানভেদে তা আরও দু-এক দিন কমবেশি হতে পারে। প্রথম ডোজ নেওয়া শতভাগ মানুষকে হয়তো এখনই দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া যাবে না। তবে বিভিন্ন উৎস থেকে টিকা সংগ্রহের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এই মাসের শেষ সপ্তাহে অথবা আগামী মাসের শুরুতে টিকা চলে আসবে। এর মধ্যে চীনের সিনোফার্ম কোম্পানির টিকা ৫ লাখ ডোজ উপহার হিসেবে পাওয়া গেছে। এই টিকা অগ্রাধিকার হিসেবে স্বাস্থ্যকর্মী, মেডিকেল শিক্ষার্থী, বাংলাদেশের কর্মরত চীনের নাগরিক, চীনের বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা পাবে। তবে যারা প্রথম ডোজ অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রানেজেকার টিকা দিয়েছে তাদের দ্বিতীয় ডোজও সেই টিকাই নিতে হবে। কভিড-১৯ পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের ভার্চুয়াল স্বাস্থ্য বুলেটিনে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রথম ডোজের টিকা গ্রহণের ১২ থেকে ১৬ সপ্তাহ পর্যন্ত দ্বিতীয় ডোজের টিকা গ্রহণ করা যাবে। করোনার বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করতে হবে। ভারত থেকে ফিরে আসার পরে করোনা আক্রান্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে জিনোম সিকোয়েন্সের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ছয়জন রোগী চিহ্নিত হয়েছে। তাদের সংস্পর্শে যারা এসেছেন তাদের মধ্যে কেউ সংক্রমিত হননি। ভারত থেকে ফেরত আসা অনেকেই নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় থাকতে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন সেন্টার থেকে পালানোর চেষ্টা করছেন। তাদের অনেককে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ধরে আনছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে, গতকাল পর্যন্ত ৫৮ লাখ ১৯ হাজার ৯১২ জনকে প্রথম ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছেন ৩৭ লাখ ৮৩ জন। দ্বিতীয় ডোজের জন্য অপেক্ষায় আছেন ২১ লাখ ১৯ হাজার ৮২৯ জন। কিন্তু স্বাস্থ্য বিভাগের হাতে আছে ৮ লাখের কিছু বেশি টিকা। ঔষধ প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ৮ জানুয়ারি ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার অনুমোদন দেওয়া হয়। সেরামের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী টিকা সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়ায় গত ২৭ এপ্রিল রাশিয়ার মস্কোর গামালিয়া ইনস্টিটিউটের তৈরি স্পুটনিক-ভি ও ২৯ এপ্রিল চীনের বেইজিং ইনস্টিটিউট অব বায়োলজিক্যাল প্রোডাক্টের উৎপাদিত সিনোফার্মের টিকাকে জরুরি প্রয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়। এ অবস্থায় রাশিয়ার স্পুটনিক-ভি ও চীনের সিনোফার্মের টিকা বাংলাদেশে উৎপাদনের কথা ভাবা হচ্ছে। বেশ কয়েকটি ওষুধ উৎপাদন প্রতিষ্ঠান টিকা উৎপাদনে আগ্রহও দেখিয়েছে।

 রাশিয়ার টিকা স্পুটনিক-ভি ও চীনের সিনোফার্মের টিকা বাংলাদেশেই উৎপাদনের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি কোর কমিটি গঠন করে। এই কমিটি তিনটি প্রতিষ্ঠানের টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা যাচাই করেছে। তারা নম্বর দিয়ে কোন প্রতিষ্ঠানের অবস্থান কেমন তা জানিয়েছে। কোর কমিটি ২৫-এর মধ্যে নম্বর দিয়েছে। এতে ইনসেপটা ফার্মাসিউটিক্যালস ২৫ নম্বরের মধ্যে পেয়েছে ২১। আর পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস পেয়েছে ১২, হেলথ কেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস পেয়েছে ৫ নম্বর।

এই বিভাগের আরও খবর