শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৬ জুলাই, ২০২১ ২৩:২৬

বিধিনিষেধ কঠোরভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

আট হাজার চিকিৎসক-নার্স নিয়োগ হবে অবসরের পর দোষী সাব্যস্ত হলে পেনশন বাতিলের বিধান বহাল

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিধিনিষেধ কঠোরভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
Google News

নতুন করে আরও চার হাজার চিকিৎসক এবং চার হাজার নার্স নিয়োগ দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়া তিনি বিধিনিষেধ কঠোরভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন। গতকাল মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক সাংবাদিকদের কাছে প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশনার কথা জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, টিকা কার্যক্রম আরও জোরদার করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এখন ওয়ার্ড পর্যায়ে টিকা দেওয়ার ব্যাপারে জোর দেওয়া হবে। ভ্যাকসিন বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এক সময় চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও দেশে এখন পর্যাপ্ত পরিমাণ করোনা  ভ্যাকসিন আছে। অক্সফোর্ডের তিন কোটি, সিনোফার্মের তিন কোটি, জনসনের সাত কোটি, রাশিয়ার এক কোটি, কোভ্যাক্সের মাধ্যমে ৬ কোটি ৮০ লাখ টিকা সব মিলে ২১ কোটি ডোজের মাধ্যমে ১৪ কোটি বা দেশের ৮০ ভাগ লোককে টিকা দেওয়া সম্ভব হবে। এর মধ্যেই টিকার বয়সসীমা ১৮ বছরে নামিয়ে আনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে তৃণমূল পর্যায়ে টিকার নিশ্চয়তা দিতে বাড়াতে হবে আরও সক্ষমতা। কেন্দ্র বাড়ানোর পাশাপাশি সহজলভ্য করতে হবে করোনা পরীক্ষা, চিকিৎসা ও টিকাদান। এদিকে মন্ত্রিসভার বৈঠকে লকডাউন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। জনগণের লকডাউন না মানাকে দুঃখজনক জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলছেন, এর ফলে ভুগতে হবে পুরো জাতিকে। মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, মন্ত্রিসভায় ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) আইন, ২০২১’-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। তিনি বলেন, এর ফলে অবসরে গিয়ে কোনো কর্মচারী গুরুতর অপরাধ করলে সরকার তার অবসর সুবিধা (পেনশন) সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বাতিল, স্থগিত বা প্রত্যাহার করতে পারবে। আইনের এ বিধান বহালই থাকল। তিনি বলেন, ‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮’ সংশোধন করে এ বিধান বাতিলের প্রস্তাব আনা হলেও মন্ত্রিসভা তা অনুমোদন দেয়নি। তিনি বলেন, ‘আরেকটি সংশোধন আনা হয়েছিল, আইনে আছে, পিআরএলে যাওয়া ব্যক্তিদের অন্য কোথাও চাকরি করা কিংবা বিদেশে যাওয়ার জন্য সরকারের অনুমোদনের প্রয়োজন নেই। প্রস্তাব আনা হয়েছিল, এক্ষেত্রে সরকারের অনুমোদন লাগবে। এতেও সম্মতি দেয়নি। আগে যেটা ছিল সেটাই থাকবে।’ তবে আগের আইনে কিছু করণিক ভুল ছিল, সংশোধিত আইনে সেগুলো ঠিক করে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ ছাড়া মন্ত্রিসভায় বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার অ্যান্ড বার কাউন্সিল (সংশোধন) অর্ডিন্যান্স, ২০২১-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বার কাউন্সিল যে আইনটি রয়েছে (বার কাউন্সিল অর্ডার ১৯৭২) সেখানে বিধান রয়েছে, ৩১ মে’র মধ্যে নির্বাচন হতে হবে এবং তিন বছরের জন্য তাদের কমিটি নির্বাচিত হবে। কিন্তু এই কমিটির কার্যাবলিও তৃতীয় বছরের ৩১ মের মধ্যেই শেষ করতে হবে। তিনি বলেন, গত এক-দেড় বছরের যে করোনা পরস্থিতি তাতে নির্বাচন করা সম্ভব নয়। অবশ্য ওই আইনটির মধ্যে অল্টারনেটিভ ছিল যদি কোনো কারণে নির্বাচন না হয় (অ্যাক্টস অব গড) সেক্ষেত্রে কী করণীয় এটা বার কাউন্সিল আইনে ছিল না। এ জন্য আইন মন্ত্রণালয় একটি প্রস্তাব নিয়ে এসেছে যেটা আর্টিকেল ফোর-এর একটি সংশোধনী, যেটা হচ্ছে- এক বছরের জন্য একটা অ্যাডহক কমিটি সরকার করে দিতে পারবে। যার মেয়াদ সর্বোচ্চ এক বছর হবে এবং যেটি ১৫ সদস্য বিশিষ্ট হবে। মন্ত্রিসভা বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিষয়ে ২০২১ সালের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক (এপ্রিল-জুন) প্রতিবেদন ও এদিন মন্ত্রিসভার সংক্ষিপ্ত বৈঠকে উপস্থাপিত হয় বলেও মন্ত্রিপরিষদ সচিব উল্লেখ করেন।