শনিবার, ৩১ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা

আসছে টিকা কাটছে সংকট

আগস্টে শুরু হচ্ছে টিকা ক্যাম্পেইন, সিনোফার্ম অক্সফোর্ড, ফাইজারের টিকা আসছে

জয়শ্রী ভাদুড়ী

আসছে টিকা কাটছে সংকট

জাপান থেকে গতকাল অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার একটি চালান নিয়ে বিমান রওনা দিয়েছে -বাংলাদেশ প্রতিদিন

চীনের সিনোফার্ম থেকে কেনা ৩০ লাখ টিকা দেশে এসে পৌঁছেছে। আজ জাপান থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ৭ লাখ ৮১ হাজার ৩২০ ডোজ টিকা আসবে। দেশে টিকা আসতে শুরু করায় কাটছে সংকট। হাতে পর্যাপ্ত টিকা আসায় প্রান্তিক পর্যায়ে ৭ আগস্ট টিকা ক্যাম্পেইন শুরু করছে সরকার। সপ্তাহে ৬০ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়ার টার্গেট নিয়ে চলছে পরিকল্পনা। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (অসংক্রমক রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ) ও মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যু রোধে সারা দেশে করোনা টিকা দিতে বিস্তর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে যারা অনলাইনে নিবন্ধন করতে পারেন তারা করবেন। না পারলে টিকা কেন্দ্রে জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে এলে নিবন্ধন করে টিকা দেওয়া হবে। জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকলে বিকল্প হিসেবে পাসপোর্ট দিয়ে নিবন্ধনের ব্যবস্থা করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকা সংরক্ষণ করা হবে। টিকা দেওয়ার দিন কোল্ড বক্সে নিয়ে গিয়ে টিকা দেবে। যেভাবে অন্য রোগের টিকা দেওয়া হয়েছে। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা এবং চীনের সিনোফার্মের টিকা তুলনামূলক কম তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা যায়। তাই সেগুলো ইউনিয়ন পর্যায়ে পাঠানো হবে। মডার্না, ফাইজারের টিকা সিটি করপোরেশন এলাকায় দেওয়া হবে। যাতে তাপমাত্রার কারণে টিকা সংরক্ষণে কোনো সমস্যা না হয়। দেশের বিপুলসংখ্যক জনগোষ্ঠীকে এভাবে করোনা টিকার আওতায় আনা হবে।’

স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, করোনা মহামারী নিয়ন্ত্রণে সারা দেশে প্রচারের মাধ্যমে দিনে ১০ লাখ টিকা দেওয়া হবে। ছয় দিনে দেওয়া হবে ৬০ লাখ। এটা প্রথম ডোজ হিসেবে বিবেচিত হবে। নির্ধারিত সময় পরে দেওয়া হবে দ্বিতীয় ডোজ। এ ক্ষেত্রেও দিনে ১০ লাখ টিকাই দেওয়া হবে। এভাবে ১ কোটি ৩৪ লাখ ৪২ হাজার ডোজ টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে শুধু গ্রামাঞ্চলেই দেওয়া হবে ১ কোটি ১০ লাখ ৪০ হাজার ডোজ। সারা দেশে ক্যাম্পেইন আকারে টিকার কার্যক্রম পরিচলনার মাধ্যমে প্রতি সপ্তাহে ৬০ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে ৭ থেকে ১২ আগস্ট এ কার্যক্রম চলতে পারে। শহর ও গ্রামাঞ্চলে একযোগে টিকা কার্যক্রম শুরু হবে। শহরাঞ্চলে মডার্না ও গ্রামাঞ্চলে সিনোফার্ম টিকা দেওয়া হবে।

বর্তমানে দেশে ৫৫ লাখ মডার্না ও ৮১ লাখ সিনোফার্ম টিকা মজুদ রয়েছে। ক্যাম্পেইনে ৬০ লাখ টিকা প্রথম ডোজ হিসেবে এবং অবশিষ্ট দ্বিতীয় ডোজ হিসেবে সংরক্ষণ করা হবে। এ ছাড়া চলমান কেন্দ্রগুলো আগের মতো চলমান থাকবে এবং শুধু দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে। বস্তি ও কারখানাগুলোয় টিকা কার্যক্রম ও ক্যাম্পেইন পাশাপাশি চলমান থাকবে। বিদেশগামী জনগোষ্ঠী বিদ্যমান পদ্ধতিতেই নির্ধারিত টিকা নিয়ে সনদ গ্রহণ করবেন। ছয় দিনব্যাপী পরিচালিত এ টিকাদান ক্যাম্পেইনে সারা দেশে ১৫ হাজার ২৮৭টি ওয়ার্ডে ১ কোটি ৩৪ লাখ ৪২ হাজার ডোজ টিকা দেওয়া হবে। এর মধ্যে দেশের গ্রামাঞ্চলের ১৩ হাজার ৮০০ ওয়ার্ডে ১ কোটি ১০ লাখ ৪০ হাজার ডোজ, সিটি করপোরেশনগুলোর ৪৩৩টি ওয়ার্ডে ১৫ লাখ ৫৮ হাজার ৮০০ ডোজ এবং পৌরসভাগুলোয় ১ হাজার ৫৪ ওয়ার্ডে ৮ লাখ ৪৩ হাজার ২০০ ডোজ টিকা দেওয়া হবে। এর মধ্যে সিটি করপোরেশনগুলোর প্রতি ওয়ার্ডে একটি স্থায়ী ও দুটি অস্থায়ী কেন্দ্রে সপ্তাহে ছয় দিন কভিড টিকা দেওয়া হবে। উপজেলা ও পৌরসভার প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে টিকাদান টিম থাকবে, যেখানে সপ্তাহে চার দিন কভিড টিকা দেওয়া হবে। পরিকল্পনায় আরও বলা হয়েছে, ক্যাম্পেইন চলাকালে কেন্দ্র থেকে টিকা নিতে অবশ্যই জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে আনতে হবে। ওয়ার্ড কাউন্সিলররা নিজ নিজ ওয়ার্ডে টিকাদান কেন্দ্র নির্ধারণ করবেন। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছেন ৫৮ লাখ ২০ হাজার ৩৩ জন, দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ৪২ লাখ ৯৮ হাজার ৮৬ জন। ফাইজারের টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন ৫০ হাজার ২৩৫ জন, দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ৬৯০ জন। সিনোফার্ম টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন ২০ লাখ ৩৫ হাজার ৯৪৩ জন, দ্বিতীয় ডোজ ৩০ হাজার ৭০৮ জন। মডার্নার টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন ৬ লাখ ১৫ হাজার ১৩৯ জন, দ্বিতীয় ডোজ এখনো শুরু হয়নি। গতকাল ভোর পর্যন্ত তিনটি আলাদা ফ্লাইটে চীনের সিনোফার্ম থেকে কেনা ৩০ লাখ টিকা ঢাকায় পৌঁছেছে। এ ছাড়া আজ জাপান থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ৭ লাখ ৮১ হাজার ৩২০ ডোজ টিকা আসছে। ৩ আগস্ট আরও ৬ লাখ টিকা পাঠাবে জাপান। করোনা টিকার বৈশ্বিক উদ্যোগ কোভ্যাক্সের আওতায় বাংলাদেশকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার প্রায় ৩০ লাখ টিকা দেওয়ার কথা জাপানের। এর মধ্যে প্রথম দফায় ২ লাখ ৪৫ হাজার টিকা বাংলাদেশে এসেছে। আগস্ট-সেপ্টম্বরে কোভ্যাক্স সহায়তা থেকে ফাইজারের ৬০ লাখ টিকা পাওয়ার কথা। এসবের পাশাপাশি চীনের সিনোফার্মের সঙ্গে কেনা চুক্তির ৩ কোটি ডোজের আওতায় ধারাবাহিকভাবে টিকা পাওয়ার আশা রয়েছে। দেশে টিকা সরবরাহ বাড়ায় কর্মসূচিতে গতি এসেছে।

এই রকম আরও টপিক