বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ টা

নির্বাচনী প্রচারে জমে উঠেছে গ্রামগঞ্জ

♦ ব্যস্ত ইউপির প্রার্থীরা ♦ নয় পৌরসভায় ভোট নিয়ে টানটান উত্তেজনা ♦ ভোটার টানতে মরিয়া

গোলাম রাব্বানী

নির্বাচনী প্রচারে জমে উঠেছে গ্রামগঞ্জ। জমজমাট প্রচার ও গণসংযোগ চলছে গ্রামগঞ্জ ও হাটবাজারে। নির্বাচনী প্রচারণায় মুখর চায়ের আড্ডা। করোনা মহামারীর মধ্যেও ভোটারদের বাড়ি বাড়ি ছুটছেন চেয়ারম্যান-মেম্বার প্রার্থীরা। ২০ সেপ্টেম্বরের এই নির্বাচনের প্রচার শেষ হবে ১৮ সেপ্টেম্বর সকালে। তৃণমূলের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হওয়ায় এই নির্বাচন নিয়ে আগ্রহের শেষ নেই। প্রার্থী মনোনয়ন থেকে ভোট গ্রহণ পর্যন্ত সব রাজনৈতিক দল এই নির্বাচন মনিটরিংও করে। এবারের ইউপি নির্বাচন বিএনপি প্রার্থী না দিলেও মাঠে রয়েছে আওয়ামী লীগ-জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য দলের প্রার্থীরা। তবে বিএনপির কিছু প্রার্থী স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনী লড়াইয়ে রয়েছেন।

নির্বাচন কমিশন এসব নির্বাচন অনুষ্ঠানে সব ধরেনর প্রস্তুতি নিয়েছে। নির্বাচনের দুই দিন আগে ১৮ সেপ্টেম্বর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে নামবেন। নির্বাচন সুষ্ঠু সুন্দর করতে ইসি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছে। এদিকে গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু ইউপি নির্বাচন সম্পন্ন করতে ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম। তিনি বলেন, প্রশ্নবিদ্ধ কোনো নির্বাচন হোক এটা নির্বাচন কমিশন চায় না। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। পাশাপাশি দলমত নির্বিশেষে নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদেরও নিরপেক্ষ থাকার আহ্‌বান জানান তিনি। করোনায় মহামারীর কারণে আটকে যাওয়া সব নির্বাচনের নতুন তারিখ ঘোষণায় নির্বাচনী উৎসব বইছে দেশব্যাপী। ইসি জানিয়েছে, ইউপি নির্বাচনের প্রথম ধাপে ২১ জুন ২০৪টি ইউনিনে নির্বাচন হয়েছিল। তখন ১৬৭ ইউপির নির্বাচন স্থগিত রাখা হয়। তবে প্রার্থী মারা যাওয়ায় পাঁচটি ইউপি এবং সেন্টমার্টিন ইউনিয়নে আপাতত ভোট হচ্ছে না। সেই হিসাবে খুলনা বিভাগের খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা এবং চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও নোয়াখালীর ১৬১ ইউপি এবং ৯টি পৌরসভায় ভোট হবে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর। এ ছাড়া নয়টি পৌরসভার সবকটিতে এবং ১৬১ ইউপির মধ্যে ১১টিতে ইভিএমে ভোট গ্রহণ হবে। ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে প্রথম ধাপে ৩৭১ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল গত ১১ এপ্রিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ায় ১ এপ্রিল তা স্থগিত করা হয়। এ ধাপে নতুন করে ২০৪ ইউপি নির্বাচনের তারিখ দেওয়া হয় ২১ জুন। বাকিগুলোর নির্বাচন স্থগিত রাখা হয়। জানা গেছে, ১৬১ ইউপিতে বিনাপ্রতিদ্ধন্ধিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন ৪৫ জন, চেয়ারম্যান পদে মোট প্রার্থী রয়েছেন ৫৪৫ জন। সংরক্ষিত ওয়ার্ডে প্রার্থী রয়েছেন ১ হাজার ৯৬৫ জন এবং সাধারণ ওয়ার্ডে প্রার্থী রয়েছেন ৬ হাজার ৩৩৩ জন। এদিকে নয় পৌরসভার মধ্যে তিনটি পৌরসভায় বিনাপ্রতিদ্ধন্ধিতায় মেয়র নির্বাচিত হয়। আর বাকি পৌরসভায় মেয়র পদের লড়াইয়ে রয়েছেন ২৭ জন।