রবিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ টা

গণঅনশন থেকে দীপাবলি উৎসব বর্জনের ডাক

নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ৪ নভেম্বর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শ্যামাপূজার দীপাবলি উৎসব বর্জনের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। ওইদিন সন্ধ্যায় দেশের বিভিন্ন মন্দির ও পূজামন্ডপে কালো কাপড় পরে প্রতিবাদ করবেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। পূজামন্ডপ ও মন্দিরে হামলা, প্রতিমা ভাঙচুর, সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর-ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে দীপাবলি উৎসব বর্জনের এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

গতকাল দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত এক গণঅনশন থেকে দীপাবলি উৎসব বর্জনের ডাক দেওয়া হয়। শাহবাগ এলাকা সকাল থেকে গণঅনশন, গণঅবস্থান ও বিক্ষোভ মিছিলে মুখরিত ছিল। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের আহ্বান এবং আয়োজনে শাহবাগসহ সারা দেশে গণঅনশন ও  গণ-অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। কেন্দ্রীয়ভাবে রাজধানীর স্বামীবাগ থেকে একটি মিছিলে ভোর ৬টার দিকে শাহবাগে আসে। শাহবাগে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন।

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ ৪ নভেম্বর শ্যামাপূজার দীপাবলি উৎসব বর্জনের ডাক দিয়ে বলেন, ৪ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৬টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত কালো কাপড়ে মুখ ঢেকে মন্দির, পূজামন্ডপে সাম্প্রদায়িক সহিংসতাবিরোধী প্রতিবাদী কর্মসূচি পালন করা হবে।

অবস্থান কর্মসূচিতে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি ড. নিমচন্দ্র ভৌমিক বলেন, ‘কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় পরিকল্পিতভাবে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা হয়েছে। পরিকল্পিত না হলে বিভিন্ন এলাকায় পরপর এ ধরনের হামলা হতে পারে না। এ হামলার বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

সংহতি প্রকাশ :  শাহবাগের গণঅনশন কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এমপি, বাংলাদেশ খ্রিস্টান  অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্মল রোজারিও, সাবেক সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার,  তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব সৈয়দ রেজাউল হক, মহিলা পরিষদের সহসভাপতি রেখা চৌধুরী, সম্মিলিত ইসলামী জোটের সভাপতি জিয়াউল হাসান, গণফোরাম সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু, সংসদ সদস্য মমতাজ বেগম, বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া, মানবাধিকারকর্মী খুশী কবির, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি প্রমুখ।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার : সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদে গতকাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে রক্তধারা ’৭১ (মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের উত্তরসূরি)। এ সময় বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক নিমচন্দ্র ভৌমিক, সাংবাদিক নাদীম কাদির, অধ্যাপিকা ফাহমিদা খানম, মিজানুর রহমান তালুকদার, মহসিনুল হক প্রমুখ। প্রতিবাদ সভায় বক্তারা কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী, রংপুরসহ বিভিন্ন স্থানে কোরআন অবমাননা, পূজামন্ডপ ও মন্দিরে ভাঙচুর অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানান।

রাজধানীর জুরাইন রেলগেটে কদমতলী থানা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ড. মো. আওলাদ হোসেনের নেতৃত্বে রেলগেট-সংলগ্ন খোলা  চত্বর থেকে দোলাইরপাড়ে বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্য (প্রস্তাবিত) গোল চত্বর পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ও  প্রতিনিধিরা জানান, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ রংপুর জেলা ও মহানগর কমিটি নগরীর বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল চত্বরে গণঅনশন ও বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে। জেলা কমিটির সভাপতি বনমালী পালের সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহম্মেদ, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিযার রহমান সফি ও সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মন্ডল, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক রমজান আলী তুহিন, জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মেহেদী হাসান সিদ্দিক রনি প্রমুখ।

চট্টগ্রাম নগরীর আন্দরকিল্লায় গণঅনশন, গণঅবস্থান ও বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত। অধ্যাপক রণজিৎ কুমার  দের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন চসিক কাউন্সিলর জহরলাল হাজারী, জাসদ নেতা ইন্দু নন্দন দে, অ্যাডভোকেট চন্দন তালুকদার, ইসকনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সম্পাদক চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারী, চট্টগ্রাম জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শ্যামল পালিতসহ বিভিন্ন মঠ, মন্দির পরিচালনা পরিষদের নেতারা।

অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত বলেন, ‘দুর্গাপূজার মধ্যে দেশজুড়ে পূজামন্ডপ ও হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলার ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারকের নেতৃত্বে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে সাম্প্রদায়িক হামলাকারীদের বিচার করতে হবে।’ সমাবেশ থেকে ১১ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- শারদীয় দুর্গোৎসব চলাকালীন মন্দির ও পূজামন্ডপে হামলার ঘটনায় নিহতদের পরিবারের একজন সদস্যকে সরকারি চাকরি, ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দান, ক্ষতিগ্রস্ত সব মন্দির ও ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণ করে দেওয়া, গৃহহীনদের পুনর্বাসন প্রভৃতি।

গণঅনশন, সম্প্রীতি সমাবেশ ও শান্তি শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয় নীলফামারী, মাগুরা, ফরিদপুর, ময়মনসিংহ, বগুড়া, টাঙ্গাইল, নাটোর, পাবনা, নোয়াখালী, পঞ্চগড়, পটুয়াখালী, রাজবাড়ী, পিরোজপুর, মানিকগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, কুষ্টিয়া, লক্ষ্মীপুর, কিশোরগঞ্জ, ঝালকাঠি, গোপালগঞ্জ, গাইবান্ধা, ফেনী, দিনাজপুর, চুয়াডাঙ্গা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, বরিশাল, বাগেরহাট, সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে।

সর্বশেষ খবর