শিরোনাম
প্রকাশ : ২ এপ্রিল, ২০২১ ২০:৩৩
আপডেট : ২ এপ্রিল, ২০২১ ২২:১৭
প্রিন্ট করুন printer

অটিজম নিয়ে কিছু কথা

সামিয়া তাসনিম

অটিজম নিয়ে কিছু কথা
পুষ্টিবিদ সামিয়া তাসনিম

পরিবারে একটি শিশুর আগমন মানে আনন্দ আর উল্লাস। এই শিশু যখন বড় হতে থাকে তখন শিশুটির সব ধরনের অ্যাক্টিভিটি পরিবারের সবাইকে খুব আনন্দ দেয়। এই শিশুই যখন তার সব কিছু অন্যরকম করে সব শিশুদের থেকে আলাদা তখন স্বাভাবিকভাবেই সবাই চিন্তায় পড়ে যায়। অটিজম শিশুদের বাবা-মা এবং পরিবারের সবাই ঠিক এমনভাবেই দুশ্চিন্তায় থাকে। আমাদের সমাজে এখন এই ধরনের শিশু খুব সহজেই চোখে পড়ে। তাদের প্রত্যেকের ধরন এক নয়। একেক জন একেক বৈশিষ্ট্য নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। যেমন কারও স্পিচ ডিলে, কারও মনোযোগ কম, কেও অনেক বেশি অস্থির, কেও বা অন্যান্য সমস্যা নিয়ে জন্ম নেয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, এরা খুব বেশি অস্থির থাকে অন্যান্য শিশুদের তুলনায়। আমাদের এইসব শিশুদের বাবা-মায়েরা বুঝে উঠতে পারেন না যে কি করলে এদের অস্থিরতা ও অমনোযোগিতা কমবে। এক কথায় কি করলে এদের অবস্থার উন্নতি হবে। সে সব বাবা-মায়েদের বলতে চাই যে, এই সব শিশুদের একটি জিনিস খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যেটা আমাদের দেশের অনেক বাবা-মায়েরাই জানেন না। সেটা হলো এদের খাবার।
এই সব শিশুদের খাবার অন্য শিশুদের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন। এই খাবার ওদের জন্য বিশেষ খাবার। এইসব শিশুদের রক্তে এক ধরনের এলার্জি থাকে, যেটাকে ইংরেজিতে বলা হয় (Food Intolerance ), যা তাদের উন্নতিতে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়াও এ সব শিশুদের কিছু ভিটামিন মিনারেলস এর ঘাটতি থাকে। খাবারের মধ্যে বিদ্যমান কিছু উপাদান আছে, যেগুলোতে এলার্জি থাকে। খাবার গুলো হল গ্লুটেন, কেজিন। এ সব উপাদানে বেশির ভাগ শিশুদের ইনটলারেন্স থাকে। যে সব শিশুদের যে যে খাবারে ইনটলারেন্স থাকবে সেগুলো তাদের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। যদি এই খাবারগুলো বাবা-মায়েরা মেনে চলেন, তাহলে এদের উন্নতি হবে। এই বিশ্বাস করতে বা মানতে অনেক কষ্ট হবে। কিন্তু ওদের উন্নতির কথা মাথায় রেখে এটা করতে হবে। 

শুধু যে নিষিদ্ধ খাবার তা নয়। এদের যেহেতু ভিটামিন, মিনারেলস এর ঘাটতি থাকে সেহেতু এদের ভিটামিন জাতীয় খাবার বেশি পরিমাণে খাওয়াতে হবে।এ ছাড়াও ‘Dr. Bernard Rimland of the Institute for Child Behaviour Research in San Diego, California’, সে প্রমাণ করেন যে, ভিটামিন বি৬, সি, ম্যাগ্নেশিয়াম সাপ্লিমেন্ট আটিজম শিশুদের লক্ষণ এর উন্নতি করে। এই শিশুদের এনজাইমেটিক ডিফেক্ট থাকে, যা Omega-3 fat ঠিক করতে পারে। আর সামুদ্রিক মাছ-এ এই উপাদান পাওয়া যায়। তাই এগুলো প্রচুর পরিমাণে খেতে হবে। এমনকি এই ফ্যাট তাদের আচরণ, মানসিক অবস্থা, মনোযোগ ও দ্রুত কথা বলা সবকিছুরই উন্নতি করে। 

এছাড়াও এই শিশুদের রক্তে অস্বাভাবিক গ্লুকোজ অক্ষমতা থাকে, যার কারণে হাইপার অ্যাক্টিভিটি বৃদ্ধি পায়।তাই এই শিশুদের অস্থিরতা কমানোর জন্য সবার আগে কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার কম খাওয়াতে হবে। 

এছাড়াও এদের বেশি পরিমাণে ফল খেতে হবে। যেমন কলা এদের জন্য ভাল। কারণ কলাতে আছে পটাশিয়াম, যা এদের মনোযোগ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। ডাব এর পানি এবং অন্যান্য ভিটামিন সি জাতীয় ফল। বাদাম এদের জন্য খুবই উপকারি। এ সব খাবার মেনে চলতে হবে বিশেষ এই শিশুদের ক্ষেত্রে। তাহলে এদের অবস্থার উন্নতি হবে। যেমন দ্রুত কথা বলা, মনোযোগ বৃদ্ধি পাওয়া, আচরণগত সমস্যা দূর হওয়া প্রভৃতি। এছাড়াও এসব শিশুদের সমস্যার ভিন্নতার কারণে এদের ডায়েট প্ল্যানও ভিন্ন হয়। তাই এদের খাবার সম্পর্কে বিষদভাবে জানার জন্য একজন অটিজম পুষ্টিবিদ এর কাছে পরামর্শ নেওয়া ভালো। 

লেখক : পুষ্টিবিদ।

বিডি-প্রতিদিন/শফিক