শিরোনাম
প্রকাশ : ২ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২৩:৪৩
আপডেট : ২ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২৩:৪৪

বেঙ্গালুরুতে আটক ৫৯ বাংলাদেশি উধাও, কৌতূহল তুঙ্গে!

দীপক দেবনাথ, কলকাতা:

বেঙ্গালুরুতে আটক ৫৯ বাংলাদেশি উধাও, কৌতূহল তুঙ্গে!

আশ্চর্যজনকভাবে উধাও হয়ে গেল ভারতের বেঙ্গালুরুতে আটক ৫৯ জন বাংলাদেশি নাগরিক। যার মধ্যে একাধিক নারী ও শিশুও রয়েছে। অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের অভিযোগে গত অক্টোবর মাসে বেঙ্গালুরু থেকে তাদের আটক করে বেঙ্গালুরু সিটি পুলিশ। এরপর পুশব্যাক করার জন্য গত ২৩ নভেম্বর ওই বাংলাদেশিদের কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ট্রেনে করে পশ্চিমবঙ্গের হাওড়াতে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু তারপর থেকেই আটক বাংলাদেশিদের আরও কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। 

এব্যাপারে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কাছে যেমন কোন সঠিক তথ্য নেই, তেমনি গণমাধ্যমের কর্মীরাও হাতড়িয়ে বেড়াচ্ছেন তথ্যের জন্য। আটক বাংলাদেশিদের অবস্থান নিয়ে অন্ধকারে রয়েছে কলকাতাস্থ বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন কর্তৃপক্ষও। 

একটি সূত্রের খবর, হাওড়া স্টেশনে নামার পরই দুইটি ভাগে ভাগ করে হাওড়ার নিশ্চিন্দা ও লিচুবাগান-এ পুলিশি নজরদারিতে অস্থায়ী শিবিরে রাখা হয় তাদের। যদিও সেখানে তাদের সাথে কাউকেই দেখা করতে দেওয়া হয়নি। প্রায় এক সপ্তাহ সেখানে অবস্থান করার পর গত শুক্রবার ভোররাতেই তাদের পুলিশ এসকর্ট করে কলকাতা থেকে ৩০০ কিলোমিটার দূরে মালদা জেলায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই আটক বিদেশিদের বিএসএফ’এর হাতে তুলে দেওয়ার পর আরধাপুর এবং সাত মাইল সীমান্ত দিয়ে ছোট ছোট তিনটি ভাগে তাদের পুশব্যাক করানো হয়।  

কিন্তু সীমান্ত প্রহরার দায়িত্বে থাকা বিএসএফ বলছে, পুশব্যাকের অভিযোগ মিথ্যা। বিএসএফ (দক্ষিণবঙ্গ ফ্রন্টিয়ার) মুখপাত্র রবি রঞ্জন জানান, অবৈধভাবে বিতাড়ণের কোন খবর তাদের কাছে নেই। বরং গণমাধ্যমের কাছ থেকেই তারা এব্যাপারে তথ্য জানছেন, এমনকি বেঙ্গালুরু পুলিশ বা রাজ্য সরকারের তরফেও তাদের কাছে পুশব্যাক নিয়ে কোন তথ্য দেওয়া হয়নি।

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশিরা ভারতের মাটিতে নেই। রাজ্য সরকারের এক সিনিয়র কর্মকর্তার অভিমত ভারত থেকে নিয়মিতভাবেই বাংলাদেশে পুশব্যাক হয়ে থাকে। 

ইতিমধ্যেই বাংলাদেশি নাগরিককে বেআইনি ও অমানবিক পুশব্যাকের বিরোধিতা করেছে মানবাধিকার সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব প্রোকেটশন অব ডেমোক্রেটিক রাইটস (এপিডিআর)। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য রঞ্জিত সুর বলেন, ‘২০১৫ সালে ভারতের সাথে বাংলাদেশের মানবপাচার বন্ধের জন্য একটা চুক্তি হয়েছিল। ঐ চুক্তি অনুযায়ী শ্রমিক হিসাবে পাচার হলেও তাদের উদ্ধার করে দেশে ফেরত দেওয়া বিধান আছে। এব্যাপারে দুই দেশের প্রতিনিধি নিয়ে একটা টাস্ক ফোর্সও আছে। কিন্তু এই সমস্যা সমাধানে সেই টাস্ক ফোর্সকে যুক্ত করা হয়নি।’ 

রঞ্জিত সুরের অভিমত, ‘ভারত-বাংলাদেশ-উভয় রাষ্ট্রের আলোচনাতেই প্রকৃত সমাধানের রাস্তা খুলতো। অথচ দুই দেশের কেউই সেই রাস্তায় হাঁটতে চায়নি। দুই দেশের মধ্যে প্রত্যাবাসন চুক্তি নেই, কিন্তু পাচার হওয়ার মানুষদের দ্রুত দেশে ফেরত দেওয়া ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার জন্য দুই দেশই চুক্তিবদ্ধ থাকলেও এই গোপনীয়তা অবলম্বন করা হয়েছে।’ এপিডিআর’এর প্রশ্ন কোন রকম আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া কিভাবে এতগুলো বাংলাভাষী মানুষকে বাংলাদেশি হিসাবে চিহ্নিত করা হলো?’ এই ইস্যুতে কলকাতাস্থ ডেপুটি হাইকমিশনের নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে মানবাধিকার সংগঠনটি।

উল্লেখ্য, গত ২৬ অক্টোবর দক্ষিণ ভারতের রাজ্য কর্নাটকের বেঙ্গালুরু শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৫৯ বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করে বেঙ্গালুরু সিটি পুলিশ। মূলত কাজের জন্যই তারা সীমান্ত পার করে এদেশে আসে বলে জানা যায়। আটকের পরই তাদের পুলিশের নজরদারিতে একটি সরকারি আশ্রয়ে রাখা হয়। পুলিশের তরফে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় খুব শিগগির তাদেরকে পুশব্যাক করা হবে। সেইমতো সেখানকার থানায় তাদের বিরদ্ধে কোন অভিযোগও দায়ের করা হয়নি।

বিডি প্রতিদিন/হিমেল


আপনার মন্তব্য