শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৪ মে, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৩ মে, ২০১৯ ২৩:৪১

ভেজালবিরোধী অভিযান

মেয়াদহীন স্যালাইন চকলেট, সফট ড্রিংক

নিজস্ব প্রতিবেদক

মেয়াদহীন স্যালাইন চকলেট, সফট ড্রিংক

বিভিন্ন রকমের চকলেট, টেস্টি স্যালাইন, সফট ড্রিংক পাউডারসহ বিভিন্ন পণ্য তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু কোনো পণ্যের গায়েই মেয়াদের দিন-তারিখ নেই। পরে অবশ্য জানা গেছে- এগুলো যখন বাজারজাত করা হবে তখন এগুলোর গায়ে মেয়াদের তারিখ লাগানো হবে। অথচ আগেই পণ্য তৈরি করে রাখা হয়েছে।  শুধু যে মেয়াদ ছাড়া পণ্য তৈরি করা হয়েছে তাই নয়, যেসব উপাদন দিয়ে খাদ্যপণ্যগুলো তৈরি করা হচ্ছে সেগুলোরও কোনো মেয়াদের তারিখ নেই। শিশুদের চকলেট, স্যালাইন ও সফট ড্রিংক পাউডার তৈরির যত উপাদান রয়েছে কোনোটারই কোনো মেয়াদের তারিখ নেই। এগুলো কবে তৈরি হয়েছে, কখন মেয়াদ শেষ হবে তা জানারও কোনো উপায় নেই। কারণ এগুলো রাখা হয়েছে বিভিন্ন লেবেল বিহীন ব্যাগ বা কৌটায়। গতকাল কারওয়ান বাজারের র‌্যাভেন ফুড কোম্পানি লিমিটেডের কারখানায় গিয়ে এই অবস্থা দেখতে পায় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) ভ্রাম্যমাণ আদালত। এতে নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তুষার আহমেদ। এ ছাড়া ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের উপ পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ারের নেতৃত্বে একটি দল কামরাঙ্গীরচরে একটি বেকারিতে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় বাবরের মাংসের দোকান এবং গুলশানের মাংসের দোকানকে ২ হাজার টাকা করে, বিসমিল্লাহ স্টোর এবং কাশেম স্টোরকে ৫ হাজার টাকা করে, ডেইলি ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেড এবং প্রিয় ফুডসকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা করে ও হোসেন স্টোরকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সংস্থার সহকারী পরিচালক আফরোজা রহমান ও আবদুল জব্বার ম লের নেতৃত্বে খিলগাঁও রেলগেট বাজারের মূল্য তালিকা না টানানোর অভিযোগে ১১টি প্রতিষ্ঠানকে ৪৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।  কদমতলীর শনির আখড়া ও রায়েরবাগ এলাকায় আরেক সহকারী পরিচালক মাসুম আরেফিনের নেতৃত্বে চলা অভিযানে মেসার্স আবরার ফুডকে অবৈধ উপায়ে বোতলজাত খাবার পানি বিপণনের অভিযোগে ৫০ হাজার, অস্বাস্থ্যকরভাবে মিষ্টি উৎপাদন ও প্রক্রিয়াকরণ এবং পচা/বাসি মিষ্টি সংরক্ষণ করার অভিযাগে ইসলামিয়া সুইটমিটকে ৬০ হাজার টাকা, পোকা যুক্ত বেগুন দিয়ে বেগুনি তৈরিসহ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ইফতারি বানানোর অভিযোগে হক ফুডকে এক লাখ টাকা, জাকারিয়া মুরগির দোকানকে এক হাজার টাকা ও মূল্য তালিকা না থাকায় ভাই ভাই স্টোরকে ৪ হাজার টাকাসহ ৫ প্রতিষ্ঠানকে ২ লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সহকারী পরিচালক আতিয়া সুলতানা ও আফরোজা রহমানের নেতৃত্বে কাওরান বাজার ও ভাটারা এলাকার ১২ প্রতিষ্ঠানকে ৭৮ হাজার টাকা জরিমানা করে। এর মধ্যে ঘরোয়া রেস্টুরেন্টকে ২০ হাজার, নিউ আমন্ত্রণ রেস্টুরেন্টকে ১০ হাজার, পণ্যের মোড়কে এমআরপি লেখা না থাকার অভিযোগে জিনিয়াস শপিং সেন্টারকে ১৫ হাজার, টিটি ফার্মাকে ৫ হাজার, ইখলাসের ফলের দোকানকে এক হাজার, পণ্যের মূল্য তালিকা না টানানোর অভিযোগে ওয়াহেদ জেনারেল স্টোরকে ৫ হাজার, আনোয়ার জেনারেল স্টোরকে ৫ হাজার, সুমি ভ্যারাইটিজ স্টোর ও নবাবগঞ্জ স্টোর ৫ হাজার টাকা করে, বিক্রমপুর স্টোরকে ৩ হাজার, শাহ বিতান স্টোর এবং রিয়া জেনারেল স্টোরকে ২ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। পৃথক অভিযানে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই) বিভিন্নস্থানে ১৫টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। এর মধ্যে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি ও পরিবেশনের অভিযোগে বনানী এলাকার কাবা অ্যান্ড রেস্টুরেন্টকে ১০ হাজার টাকা, শালিমার গার্ডেন রোজকে ২০ হাজার এবং গুলশান এলাকার ধানসিঁড়ি রেস্টুরেন্টকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

 


আপনার মন্তব্য