শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ অক্টোবর, ২০২০ ২৩:১৪

বাজার দর

চড়া দামের কারণে সবকিছুই কম কিনছে মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক

চড়া দামের কারণে সবকিছুই কম কিনছে মানুষ

নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের বাজারে আগুন। দাম চড়া হওয়ায় চাল ছাড়া সব কিছুই কম কিনছেন সাধারণ মানুষ। প্রায় দুই মাস ধরে চড়া শাক-সবজির দাম। ৬০ টাকার নিচে সবজি নেই। সর্বোচ্চ দাম ১৩০ টাকা। আলুও প্রতি কেজি ৫০ টাকা। অস্থিরতা ঠেকাতে আলুর দাম নির্ধারণ করা হলেও, তা মানছে না কেউ। মুরগি ও ডিমের দামও বাড়তি। দেশি মুরগি ও ছোট মাছের দাম বেড়েছে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত। বাজারের এই চিত্র নিয়ে বিক্রেতাদের অজুহাত- বন্যায় ফসলের ক্ষতি হওয়ায় সংকট বেড়েছে। ক্রেতারা বলছেন, নিয়ন্ত্রণহীন সিন্ডিকেটের কাছে লাগামহীন বাজার। অসহায় ক্রেতার পাশে কেউ নেই।

গতকাল সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাজধানীর কারওয়ান বাজার, হাতিরপুর, মগবাজার, রামপুরা, মালিবাগ, মালিবাগ রেলগেট, শান্তিনগর, সেগুনবাগিচা, ফকিরাপুল, মতিঝিল টিঅ্যান্ডটি কলোনি বাজার এবং খিলগাঁও বাজার ঘুরে ভোগ্যপণ্যের চড়া দামের এই চিত্র উঠে এসেছে। এসব বাজারের আলু বিক্রেতারা সরকারের কৃষি বিপণন অধিদফতর নির্ধারিত দাম এখনো মানছেন না। তারা এখনো ৫০ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি করছেন। ফলে খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি রাজশাহী ও রংপুরের আলু বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি দরে আর বিক্রমপুরের প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৪৮ টাকা। আর কারওয়ান বাজারের পাইকারি আড়তে রাজশাহীর প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৪২ টাকা, বিক্রমপুরে আলু ৪১ টাকা, লাল আলু ৪০ টাকা, আর ছোট-বড় মিশ্রিত প্রতি কেজি আলুর দাম চাওয়া হচ্ছে ৩৮ টাকা। সরকারের নির্ধারিত দামে আলু বিক্রি না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে হাতিরপুল বাজারের ক্রেতা কিরন মিয়া বলেন, ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে আলুর দাম বাড়িয়েছেন। অথচ নির্ধারিত দামে আলু বিক্রি করা হচ্ছে না। এর মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা সরকারকে বৃদ্ধাঙ্গলি দেখাচ্ছেন। এ বিষয়ে সরকারকে আরও কঠোর হওয়ার পরামর্শ দেন এ ক্রেতা। তবে বাস্তবতা হলো- চড়া দামের কারণে সাধারণ মানুষকে সব কিছুই কম কম কিনতে হচ্ছে। এদিকে রাজধানীর বাজারগুলোতে কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়ে প্রতি কেজি করলা বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, উচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা, মানভেদে ঝিঙা-ধন্দুল-পটোল বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কাঁকরোল আকারভেদে ৮০ টাকা, ঢেঁড়স বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা, পেঁপে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কচুর লতি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, বেগুন ৮০ থেকে ১১০ টাকা, টমেটো ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, গাজর ৯০ থেকে ১০০ টাকা, ধনিয়াপাতা ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে। তবে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমেছে কয়েকটি সবজির দাম। দাম কমে কচুর ছড়া বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, দেশি শসা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা, শিম ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, বরবটি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে। অপরিবর্তিত আছে লাউ, জালি কুমড়া ও কাঁচা কলার। এসব বাজারে প্রতি হালি (চারটি) কাঁচা কলা বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়, প্রতি পিস জালি কুমড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা ও লাউ ৬০ থেকে ৭০ টাকায়।

এ প্রসঙ্গে কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী মো. মিন্টু বলেন, বন্যার পর টানা বৃষ্টিতে সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। চাহিদার তুলনায় বাজারে সবজির সরবরাহ অনেক কম। এ কারণে সবজির দাম এমন চড়া। সামনের সপ্তাহে সব সবজির কেজি একশ টাকা হয়ে গেলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। পরিস্থিতি যা তাতে জানুয়ারির আগে সবজির দাম কমার সম্ভাবনা কম।

খুচরা সবজি বিক্রেতা মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, বন্যার কারণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে সবজির সংকট রয়েছে বাজারে। তাছাড়া বর্তমান সময়টা সবজির সিজন না হওয়া আরও একটি কারণ, এতে দাম বেড়েছে সব ধরনের সবজির। তবে কারওয়ান বাজারের খুচরা ক্রেতা লুৎফা বেগম মনে করেন, বাজারে কোনো সবজির ঘাটতি নেই। দাম বাড়াচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। তারা সিন্ডিকেট করে সব কিছুর মূল্য নির্ধারণ করে দেন। 

রামপুরার বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম বলেন, ২০০ টাকার ব্রয়লার মুরগি কিনলে টেনেটুনে দুই দিন নেওয়া যায়। এর সঙ্গে মসলা ও তেলের খরচ আছে। বাস্তবতা হলো, এখন স্বল্প আয়ের মানুষের জীবন চালানো দায় হয়ে গেছে। একবেলা না খেয়ে থেকেও খরচের লাগাম টানা যাচ্ছে না।

মধ্যবাড্ডার বাসিন্দা রেজা রহমান বলেন, গত এক সপ্তাহে ধরে বাজারে সব কিছুর দাম আগুন। ১০০ টাকার সবজি কিনলে একবেলাও ঠিকমতো হয় না। এখন সব কিছুই কম কম কিনতে হচ্ছে।

অপরদিকে আগের বাড়তি দাম রয়েছে ডাল, চিনি ও ভোজ্য তেলের বাজারে। বাজারে প্রতি কেজি ডাবলি ডাল বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা, অ্যাংকর ডাল ৫০ থেকে ৫২ টাকা, প্রতি কেজি মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা, দেশি মসুর ডাল ১২০ টাকা কেজি দরে। বাজারে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ১০৫ টাকায়, চিনি বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকা কেজি দরে। আগের চড়া দাম রয়েছে চালের বাজারে। এসব বাজারে খুচরায় প্রতি কেজি আটাশ চাল বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি, পাইজাম ৪৮ টাকা, মিনিকেট ৫৮ টাকা, জিরা মিনিকেট ৫৫ থেকে ৫৬ টাকা, নাজিরশাইল ৫৫ টাকা ও পোলাও চাল (খোলা) ৯৫ থেকে ১০০ টাকা কেজি। বাজারে প্রতি কেজি খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা, গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা কেজি। কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা কেজি, লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকা, সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি ও দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকা কেজি দরে। দাম বেড়েছে ছোট মাছের। কেজিতে ৫০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়ে প্রতি কেজি কাঁচকি মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা, মলা ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, দেশি টেংরা ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, দেশি চিংড়ি (ছোট) ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, হরিণা চিংড়ি ৬০০ টাকা, বাগদা ও গলদা ৬০০ থেকে ৭৫০ টাকা, পাবদা মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজিতে। অপরিবর্তিত আছে অন্য সব মাছের দাম। বর্তমানে প্রতি কেজি শিং (আকারভেদে) ২৫০ থেকে ৬০০ টাকা, প্রতি কেজি রুই (আকারভেদে) ১৮০ থেকে ২৮০ টাকা, মৃগেল ১৬০ থেকে ২৫০ টাকা, পাঙ্গাশ ১০০ থেকে ১৬০ টাকা, কাতল ১৭০ থেকে ২৮০ টাকা, তেলাপিয়া ১০০ থেকে ১৫০ টাকা, কৈ মাছ ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, সিলভার কার্প ১০০ টাকা, মিরর কাপ ১৫০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর