শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:৪৩

ঢাকা মহানগরীতে বেহাল কমিটি

জাপা চলছে মেয়াদোত্তীর্ণদের দিয়ে

শফিকুল ইসলাম সোহাগ

জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রাজধানী ঢাকায় দলের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করার গুরুত্ব বোঝাতে সভা-সমাবেশে প্রায়ই বলতেন, ‘রাজধানী যার গোটা দেশ তার।’ ২২টি আসন নিয়ে জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল সেই জাতীয় পার্টির ঢাকা মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণের দুই কমিটিই দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ। কবে নতুন কমিটি হবে কেউ জানে না। জানতে চাইলে জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদের বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ কমিটি নিয়ে আমার ভাবনা রয়েছে। হুটহাট না করে সব দিক চিন্তা করে মহানগর দুটির কাউন্সিল দিতে চাই। দায়িত্বশীলদের ইতিমধ্যে বলা হয়েছে, আমরা ভোটের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব দিতে চাই। জানা যায়, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ২০১৬ সালের ১৮ এপ্রিল দলের বর্তমান কো-চেয়ারম্যান ঢাকা-৪ আসনের এমপি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলাকে সভাপতি এবং জহিরুল আলম রুবেলকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৯৯ সদস্যবিশিষ্ট জাতীয় পার্টি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করেন। মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর মেয়াদ বাড়ানো হলেও বর্তমানে এই মহানগর কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ। সংগঠনের প্রত্যেকটি থানা কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ এবং প্রায় সবকটি ওয়ার্ডেরও একই অবস্থা।

২০১৭ সালের ৫ মে প্রেসিডিয়াম সদস্য এস এম ফয়সল চিশতীকে সভাপতি এবং কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম সেন্টুকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৬১ সদস্যের ঢাকা মহানগর উত্তর জাপার কমিটি গঠন করা হয়। এটিরও মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে অনেক আগে। অনেক থানা ও ওয়ার্ড কমিটিও মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে। ঢাকা উত্তরের সভাপতি ফয়সল চিশতী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, করোনার কারণে ফাঁকে ফাঁকে সংগঠনের কিছু কাজ করি। ৫৬টি ওয়ার্ড ২৬টি থানার অধিকাংশ কমিটি রয়েছে। মহানগরীতে কাউন্সিল করার জন্য আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। করোনার মধ্যে কাউন্সিল করা যাবে কি না, আমরা কাউন্সিল করতে চাই।

নেতা-কর্মীরা বলছেন, কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কমিটি এলে সংগঠন শক্তিশালী হবে। পার্টির চেয়ারম্যান রাজধানীসহ সারা দেশে সংগঠনকে শক্তিশালী করার করার জন্য ইতিমধ্যে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। করোনার মধ্যেও প্রতিনিয়ত সভা-সমাবেশ করে চলেছেন। গত ডিসেম্বরে তিনি ঢাকা মহানগরে আহ্বায়ক কমিটি করার কথা দায়িত্বশীলদের জানান। এ কথা জানতে পেরে মহানগরের নেতারা পার্টির প্রভাবশালী এক নেতার মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি আটকে দেন। তারা বলেন, ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক প্রার্থী রয়েছেন। প্রার্থীদের ধারণা, উত্তর ও দক্ষিণের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোট থেকে টিকিট পাওয়া অনেকটা নিশ্চিত। পার্টির নেতা-কর্মীরা বলছেন, এইচ এম এরশাদের মৃত্যুর পর ২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। কাউন্সিলে চেয়ারম্যান হন জি এম কাদের। কাউন্সিলের পর এক বছরের বেশি সময় হয়েছে। পার্টির প্রয়াত চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ রাজধানীতে সংগঠনের গুরুত্ব বাড়ানোর কথা সবসময় বলতেন। তার অবর্তমানে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি পক্ষান্তরে দলের সাংগঠনিক ভিত্তির দুর্বলতাই প্রকাশ করে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর