শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৭ এপ্রিল, ২০২১ ২৩:৩১

কৃষিবীমায় সরকারি ভর্তুকি প্রয়োজন

শাইখ সিরাজ

কৃষিবীমায় সরকারি ভর্তুকি প্রয়োজন

আসছে ২০২১-২২ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে কৃষিবীমা উৎসাহিত করতে কৃষকের প্রিমিয়ামের কিছু অংশ সরকারের কাছে ভর্তুকি হিসেবে চান জনপ্রিয় কৃষিভিত্তিক অনুষ্ঠান উপস্থাপক এবং চ্যানেল আইয়ের পরিচালক ও বার্তাপ্রধান শাইখ সিরাজ। এই কৃষি উন্নয়ন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব মনে করেন, কৃষি ও কৃষি উপখাতে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হবে। এর মধ্যে মাছ ও মাংসের উদ্যোক্তারা পশুখাদ্যে ন্যায্যমূল্য পান না। পাশাপাশি কৃষিঋণও সহজ করতে হবে। প্রকৃত কৃষক কখনো ঋণখেলাপি হন না।

গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন কৃষি সাংবাদিকতায় অবদান রেখে স্বাধীনতা পুরস্কার জয়ী শাইখ সিরাজ। তিনি বলেন, বছরের পর বছর কৃষিকাজ করে লোকসান করছেন কৃষক। ফসল উৎপাদনে যা খরচ হয় তা উঠে আসে না। মূলত শহরের ধনী ও মধ্যবিত্ত যে খাবার খায় তা আক্ষরিক অর্থেই কৃষকের ভর্তুকির ফসল। কৃষকের দরকার একটি সুষম বাজারব্যবস্থা। অকৃষকের জমির মালিকানা পরিবর্তন করে প্রকৃত কৃষকের হাতে জমি যাওয়া, ফসল উৎপাদনের উপকরণের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি মাথায় রেখে শস্যবীমাসহ আধুনিক রাষ্ট্রে কৃষকের যেসব রাষ্ট্রীয় সুযোগ দিয়ে থাকে, তা নিশ্চিত করা। কিন্তু কৃষিঋণ নিয়ে কৃষকের অভিযোগের শেষ নেই। এখন কৃষক যেন সহজেই ঋণ পান সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি কৃষি যান্ত্রিকীকরণের প্রস্তাব তুলে ধরে বলেন, এ খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। শুধু ধান চাষেই নয়, পোলট্রি, ডেইরি, মাছসহ অন্যান্য ফসল চাষ যান্ত্রিকীকরণের আওতায় আনতে হবে। বিগত ২০১৯-২০ অর্থবছরে কৃষি যান্ত্রিকীকরণে ৩ হাজার ২০ কোটি ৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকার প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার। কৃষি যান্ত্রিকীকরণসহ আট প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এগুলো বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ হাজার ১০২ কোটি টাকা। এ প্রকল্পের মাধ্যমে সরকার প্রায় ৫২ হাজার কৃষিযন্ত্র কৃষক পর্যায়ে সরবরাহ করবে, যেখানে কৃষক হাওরাঞ্চলে ৭০ এবং অন্যান্য অঞ্চলে যন্ত্র কেনায় ৫০-৬০ শতাংশ ভর্তুকি পাবেন। এটা খুব সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। তবে আমরা দেখছি ধান চাষে যান্ত্রিকীকরণ যতটা গুরুত্ব পাচ্ছে, অন্যান্য চাষাবাদের ক্ষেত্রে ততটা গুরুত্ব পাচ্ছে না। পোলট্রি, ডেইরি, মাছসহ অন্যান্য ফসল চাষ যান্ত্রিকীকরণের আওতায় আনতে হবে।

এই কৃষি উন্নয়ন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব বলেন, কৃষিপণ্যভিত্তিক শিল্পায়নে কিছুটা প্রতিফলন দেখা গেলেও কৃষকের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। কৃষক তাদের উৎপাদিত টমেটো, পেয়ারা প্রভৃতি ফল-ফসলের প্রত্যাশিত দাম না পেয়ে হতাশ হয়েছেন। কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ভ্যালু অ্যাড করার জন্য কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা হোক। বিগত বছরগুলোয় কৃষি গবেষণায় প্রচুর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে এর পাশাপাশি গবেষণার সাফল্য কৃষক পর্যায়ে কতটুকু পৌঁছাল তা-ও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। বিদেশ থেকে যন্ত্র বা প্রযুক্তি আমদানি না করে দেশে সে যন্ত্র বা প্রযুক্তি তৈরির পদক্ষেপ নিতে হবে। বেসরকারি পর্যায়ে যারা কৃষিযন্ত্র তৈরির পদক্ষেপ নিচ্ছেন তাদের উৎসাহ দিতে হবে।

শাইখ সিরাজ নাগরিক কৃষি ও সবুজায়নের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, সারা পৃথিবীই নগরকৃষিকে প্রাধান্য দিচ্ছে। বড় শহরগুলোয় অট্টালিকায় চলছে পুরোদস্তুর চাষবাস। আমেরিকা, নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্স, পর্তুগাল থেকে শুরু করে দক্ষিণ আফ্রিকা, চীন, জাপান, কোরিয়ায়ও নগরকৃষি আলোড়িত এক বিষয়। আমাদের দেশের আবাসিক বা বাণিজ্যিক ভবনের নকশা অনুমোদনকালে ছাদকৃষির সুযোগ রাখা বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে। বাংলাদেশের নগরকে সবুজায়ন ও কৃষিতে জোর দিতে হবে।